02/07/2026
জ্বিন নয়! শিশুর ভয়ানক রূপ দেখেছেন কখনও?…
একজন শিশুর কাছে আরেকজন শিশু কখনোই নিরাপদ নয়।
অবুঝ শিশু কিন্তু তার রাগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। যারা দেখেনি তারা বিশ্বাসও করতে পারবে না।
কবিতায় টিপস্ :
জেনে আসছি, শিশুরা নির্মল ফুলের মতন
ফুলের মতন!যে বাবা-মা নেয় নৈতিক যতন।
যখন বয়স একবছর মানা করা তাকে শেখান
এটা ভালো ওটা মন্দ ছোট ছোট কাজ দেখান।
মারিও না, কামড়িও না ধরিও না চুল তার
ব্যাড টাচ গুড টাচ শেখান ধীরে ধীরে এবার ।
জানি, বলবেন কেউ কেউ এটা আবার বেশি হয়ে গেলো নাতো?
আমি বলবো, না। শূণ্য থেকে পাঁচবছরের মধ্যে শিশুদের মেধা তৈরি হয় আপনি নিজে জানেন তো? না জানলে প্রশিক্ষণ নিন কিভাবে কখন বাচ্চাদের মিষ্টি শাসন করবেন এবং নৈতিকতা শেখাবেন। নইলে আমার আইডিতে জয়েন থাকুন, কারণ আমি শিশুদের বিকাশে কাজ করি কোনো অফিসিয়ালী নয়, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দীর্ঘ ২৭ বছর। সাকসেসফুলি আমি হ্যাণ্ডেলিং করছি আলহামদুলিল্লাহ।
সম্প্রতি, ফেসবুকের ঘুরে বেড়ানো সেই ভিডিও আমাকে আতঙ্কিত করেছে। শুধু আমাকে নয় পুরো বিশ্বকে হতবাক করেছে!
এটি ছিলো একটি ডে-কেয়ারের সিসি টিভি ফুটেজ।হোক তা বাংলাদেশ কিবা ভারত।
যেখানে টানা ১০ মিনিটের উপরে একটি শিশু আরেকটি শিশুকে হিট করে গেছে বিভিন্ন ভাবে। থাপ্পড়, ,ঘুঁষি ,কামড় বোতল দিয়ে হিট, উপরে চড়ে বসেছে মাথায় মাইর।
আরেকজন শিশু মাঝে থামাতে চেষ্টা করলে তাকে সেই শিশুটি আবার মারে !
শরীরের ৪৩ জায়গায় কামড়েছে!
শিশুটি কেনো এমন করেছে তার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে । তার বাবা- মা কি জানতো না যে, তাদের বাচ্চা এমন এগ্রেসিভ! ভয়ংকর!
আমি একজন ভুক্তভোগি মা। এমন বয়সেই এক শিশু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলো, আজও আমার ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ের চিকিৎসা করেই যাচ্ছি! বলছি, একটু পরেই, তা কি ভয়ংকর ছিলো !!
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতক্ষণ সময় ধরে তিনটি শিশুকে রুমে একা রাখা হল কেন ? কোন কেয়ার গিভার কেনো ওদের তত্ত্বাবধানে ছিল না? শিশুটি উচ্চস্বরে কাঁদছিলো । রুমের আশেপাশেও কেউ ছিল না যে কান্না শুনে এগিয়ে আসবে। এতটা দূরে উনাদের অবস্থান ছিল যে, আসতে আসতে ১০/১৫ মিনিট লেগে গেলো ?
আমার ধারণা এই ডে-কেয়ারের কর্মীরা কান্না শুনেছে এবং ইচ্ছে করেই আসেনি। বাচ্চারা নিশ্চয় প্রায়ই এমন কান্নাকাটি করে তাই তারা এড়িয়ে গেছে যে, এমনিতেই ওরা ঠিক হয়ে যাবে।
ব্যাপারটা যে এরকম বাড়াবাড়ি হবে তা হয়ত আশা করেনি।
নয়তো রুমের বাইরে গিয়েও যে বাচ্চাগুলো কাঁদছিল সেটা রুমের ক্যামেরায় শোনা যাচ্ছে আর এই উনারা সশরীরে সেখানে আশেপাশে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়নি? এটা বিশ্বাস করবো?
হয়তো কান্না শুনেও ইচ্ছে করেই আসেনি কারণ পরের বাচ্চা যা খুশি হোক, আমাদের টাকা পেলেই হলো।
এই মারা-মারির ঘটনার আগে আমরা দেখতে পেয়েছি একটি শিশু কাঁদছিল। একজন মহিলা এসে সেই শিশুটিকে নিয়ে গেছে আর বাকি তিন জন শিশুকে এখানে একা ছেড়ে গেছে।ধারণা করা যাচ্ছে এই বাচ্চাগুলো আগে থেকেই ট্রীগার হয়েছিল কোনো কারণে। যার কারণে প্রথম বাচ্চাটি কাঁদছিল।
এই এখানে সিসি ক্যামেরা থাকা স্বত্তেও সেখানে ছিল না কোন লাইভ মনিরটিং। লাইভ মনিটরিং থাকলে অবশ্যই দেখতে পেতো যে একটি বাচ্চা আরেকটি বাচ্চা কে কিভাবে মারছে।
এই ঘটনা ডে কেয়ারের চরম অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনার ফল। প্রথম হিটের পরেই যদি শিশু দুটিকে আলাদা করা হতো তবে শিশুটি এত আঘাত পেত না।
আবার যখন পরে এই রুমে দুজন মহিলা আসল, উনি ভিক্টিম শিশুটিকে কোলে পর্যন্ত নেন নি। হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেছে। এবং প্রায় ৫ মিনিট পরে ওকে একজন মহিলা কোলে নিয়েছে। যেখানে প্রথম দেখাতেই বাচ্চা টিকে জড়িয়ে ধরে কোলে তোলা উচিৎ ছিল।
এবং যে শিশুটি মারছিল তাকে এই ঘরে আবার একা ছেড়ে চলে গেছে। যেখানে তারও সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। তারও শান্ত হওয়ার এবং মানসিক সাপোর্টের প্রয়োজন ছিল।
এসব গ্রাম থেকে অবসরে থাকা মহিলাদের দিয়ে গাঁইয়া পদ্ধতিতে ও অশিক্ষিত দরিদ্র মহিলাদের টেক কেয়ারের জন্য রাখা হয়েছে বলে মনে করি।
এই বাচ্চাটি আগে থেকেই ট্রীগার্ড এবং তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে ছিলো না। সেখানে তাকে শান্ত না করে, পাত্তা না দিয়ে একা ছেড়ে চলে যাওয়া হয়েছে। শেষে দেখতে পেলাম সে নিজেও চিৎকার করে কাঁদছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকেও কোলে নেয়নি এবং শান্ত করার জন্য এগিয়েও আসেনি। কয়েকবার শুধু মহিলাগুলো দরজা খুলে দেখছিলো। যেন ভিতরে আসলে এই বাচ্চাটি ওদেরকেও এ্যাটাক করে বসবে আর ওরা তার সাথে পেরে উঠবে না, এমন একটা ভাব। হাস্যকর!
এসব ডে-কেয়ার চলে কিভাবে? কিভাবে ডে-কেয়ারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে? আর এসব কেয়ারগিভার দের যোগ্যতা কি? যাদের বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য রাখা হয়।
আর সিসি ক্যামেরার সাথে প্রতিটা গার্ডিয়ানের ফোনে কেনো কানেক্ট থাকে না যাতে গার্ডিয়ানরা মনিটরিং করতে পারে!
এসব ডে- কেয়ার সেন্টার থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো।
এই ডে - ডেয়ার সেন্টারটি কোথায় কোন দেশে অবস্থিত তা ব্যাপার নয়। ব্যাপার হচ্ছে ঐ শিশুর জীবন - মরণ নিয়ে কথা ।
যেখানে,
শিশুরা জন্মগতভাবেই অসীম সম্ভাবনার অধিকারী। সেই সম্ভাবনার বিকাশে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা। এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে খাগড়াছড়ির ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তিনি অর্জন করেছেন ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্রাণ্ড মাস্টার’ স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের জন্যও এক গর্বের অর্জন।
অথচ, অনেক কমেন্টকারীকেই বলতে দেখলাম শিশুরা মাইর মানে তো বোঝে না!
যে শিশুটি মারছিলো তারা বয়স তেইশ মাস আর মাইর খেলো সে তার তিনমাসের ছোটো আর আমি উল্লেখ করলাম ১৮ মাসের শিশু মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল - এর কথা ।
প্রতিভাবান তৈরি করতে হয়। শিশুর প্রথম বোল থকেই শিক্ষা শুরু হয় আপনি মানেন বা না মানেন ।
এবার আমার নিজে মেয়ের সাথে ভয়ংকর স্মৃতি উল্লেখ করছি ।
থাকতাম জয়পুরহাট জেলায় তখন ।আমার মেয়ে তখন আড়াই বছরের বাচ্চা আর শান্তনা ছিলো চার বছরের।
আমি আজও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার " নাচোল" এর সেই শান্তনার কথা ভুলিনি । ওটা একটা ডাইনি বাচ্চা ছিলো!
ওর আড়াই বছর বয়স থেকে চার বছর পর্যন্ত দেখেছি। ওর মাইরের অত্যাচারে তার বাবাকে জেলখানার কোয়াটার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। সব বাচ্চাদেরকেই মেরে ফেলার টেণ্ডেন্সি ছিলো তার । আমরা তা জেনেছিলাম অনেক পরে। যখন অকারণে আমার মেয়েটিকে হ্যাঁচকা টানে টেনে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে তার একটি আঙ্গুল দেড় গিরা পর্যন্ত নামিয়ে দেয়। পরে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলে বলে, আমি কুরবানি দিচ্ছিলাম ওকে । বহুদিন আতঙ্কিত মেয়ে আমার ঘুমাতে পারেনি।
এটি ছিলো প্রথম ঘটনা।
দ্বিতীয় ঘটনা আবার ছয়মাস পরেই।
সেদিন পানির বিলের কথা বলছিলাম তার মাকে এবং তাদের দরজার কাছে এগিয়ে একটু ভেতরে গেছি। আমার মেয়ের হাতে একটি মেহুগুনি ফল তখন শান্তনা মেয়েটি তার কাছে চাইলে আমার মেয়ে দিতে চাইনি। মুহূর্তেই ওর গলা টিপে ধরে দরজার নিচে থাকা ছিটকিনির সাথে এমনভাবে চেপে ধরে চিল্লাচ্ছিলো আর বলছিলো শু* য়ো* রে* র বাচ্চা এবার তোকে মেরেই ফেলবো।
রক্তের ফিনকি ছুটছে, মেয়ে আমার অজ্ঞান হয়ে গেছে কিন্তু অত স্বাস্থ্যবান বাচ্চার শক্তির কাছে হেরে গেছি। এদিকে পরের বাচ্চাকে মারতেও পারছি না। তখন ওরা মা তাকে পিঠের উপর তিনটা জোরে জোরে কিল মারলে ছেড়ে দেয় কিন্তু সে সমানে কাঁপছে রাগে আর অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে ।
আমার মেয়ের মাড়ির দাঁতগুলো গালের উপর দিয়ে তখন দেখা যাচ্ছিলো। ইমারজেন্সিতে নিয়ে যেতে যেতে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিলো। আজও সেই জায়গা পূরণ হয়নি ।
সেই শান্তনা আজও আমাদের কাছে অভিশপ্ত। আমার মেয়ে আজও ভয় পায় তার নাজুক আঙ্গুল নিয়ে ।
কিন্তু আজও আমার আফসোস শান্তনার বাবা বাবর ও মায়ের উপর। তার মেয়ে যে অপূরণীয় ক্ষতি করলো আমার বাচ্চাটার একটা সরি পর্যন্ত বলেনি তারা কিংবা আমার মেয়েটিকে দেখতেও যায়নি অথচ আমি তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার তো দূরের কথা কিছুই বলিনি। কদিন পর বাসা ছেড়ে পালিয়েছে তারা । তারা এভাবেই হয়ত আজও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমার বিশ্বাস ওমন ডাইনি বাচ্চা কোথাও টিকতে পারবে না।
বাচ্চাটি বেলকুনির ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকলেও যেই যেত তাকে থুথু দিতো। দেখে অবাক হতাম, ওরা শাসন করে না মেয়েকে বা নিষেধও করে না ।
শুধু ক্যাঁত ক্যাঁত করে খাওয়ায় আর বিশাল দেহী তৈরি করেছিলো। উফ! বহুদিন পর হলেও লিখলাম …
শিশুর ভয়ংকর রূপ আমি দেখেছি ।
ওই ডে-কেয়ারের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ তা আমার বাংলাদেশে হোক বা ভারতেই ।
বাংলাদেশেও নানা অব্যবস্থাপনার কথা তো শুনেই আসছি।
শিশুকে নিজের কাছে রাখুন। স্বামীর আর্থিক সঙ্গতি ভালো থাকলে নিজেই দেখাশোনা করুন নিজ শিশুর।
মনে ীাখবেন, আপনার সন্তান আল্লাহর আমানত। আপনার সন্তান আপনার সম্মান ।
শিক্ষক, কবি ও লেখক সৈয়দা রুবীনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১/৭/২০২৬ খ্রী.
#শিশু_নিরাপত্তা
সংগৃহীত........