ময়ূরাক্ষী : Moyurakshi

ময়ূরাক্ষী : Moyurakshi তুলির ছোঁয়ায় আঁকি স্বপ্ন �

প্রিয় জাতি,আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এই দিনটা কি শুধুই স্মৃতিচারণার? নাকি আমাদের প্রতিদিনের 'সর্বস্বান্ত' হওয়ার মাঝেও এক পলক ...
01/09/2026

প্রিয় জাতি,

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এই দিনটা কি শুধুই স্মৃতিচারণার? নাকি আমাদের প্রতিদিনের 'সর্বস্বান্ত' হওয়ার মাঝেও এক পলক থমকে দাঁড়ানোর আহ্বান?

চিঠি আসলে একটা অপেক্ষা। যে অপেক্ষাটা আজ আর নেই। আমরা এখন 'সিন' দেখেই উত্তর দিয়ে ফেলি, 'অনলাইন' দেখেই সম্পর্ক মেপে নিই। আর চিঠি সেই মন্থর গতির প্রতীক, যেখানে প্রতিটি বর্ণ ফোটাতে সময় লেগেছে যেন লেখক তার হৃদয় থেকে অক্ষরগুলো ছিঁড়ে এনে কাগজে আঠিয়ে দিচ্ছে। সেই সময়ই চিঠির আসল দেহ।

আমরা যা লিখি না, সেটাই হয়তো চিঠির আসল ভাষা। ফাঁকা জায়গাগুলো, দাগ পড়া সেই লাইনগুলো, অর্ধেক লেখা বাক্যটি এগুলো যেন আমাদের অচেতন মন। ডিজিটাল বার্তায় তো 'ডিলিট' বোতাম আছে। কিন্তু চিঠিতে নেই। সেখানে ভুলও থেকে যায়, কাঁপা হাতের দাগও থেকে যায়। সেটাই আমাদের আসল প্রতিচ্ছবি অসম্পূর্ণ, কাঁচা, অমার্জিত। অথচ ঠিক সেই অসম্পূর্ণতাই আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কারণ আমরা রোবটের মতো পারফেক্ট হতে বসে নিজেদের হারিয়ে ফেলছি।

আর একটা কথা চিঠি সময়কে ডিঙিয়ে কথা বলে। প্রাপকের হাতে যখন তা পৌঁছায়, লেখক তখন হয়তো অন্য কোনো মানসিকতায়। কিন্তু সেই কাগজখানা যেন এক টাইম মেশিন। অতীতের একটি 'আমি' বর্তমানের 'তোমার' সঙ্গে হাত মেলায়। আমরা কি ভেবে দেখেছি, আজ যে মোবাইলের বার্তাগুলো 'ক্ষণস্থায়ী' কয়েক সোয়াইপেই হারিয়ে যায় সেগুলো কি আমাদের প্রপৌত্রদের কাছে পৌঁছাবে? কিন্তু কাগজের চিঠি, সেই হলুদ হয়ে যাওয়া খাম, মা-বাবার লেখা হাতের অক্ষর যেন আমাদের অস্তিত্বের শিলালিপি।

আমরা আজ বাস্তবতার এত কাছাকাছি যে স্বপ্ন দেখার সময় পাই না। কিন্তু চিঠি হলো সেই স্বপ্ন। এটা কারও কাছে 'হ্যালো' নয়; এটা 'আমি আছি, তুমি আছো, আর এই ফাঁকা জায়গাটুকু আমাদের মাঝের নীরবতা' যে নীরবতায় জন্ম নেয় সবচেয়ে গভীর সম্পর্ক।

আজ যদি পারো, মোবাইল দূরে রেখে কলম হাতে নাও। কাউকে না হলেও সময়কে লেখো। নিজের আগামী দিনটাকে লেখো। শুধু তথ্য নয়, তোমার অনুভূতির খোঁজ দাও। কারণ এই দ্রুত পৃথিবীতে যেটা টিকে থাকে না, সেটা হচ্ছে 'থেমে যাওয়া'। আর চিঠি ঠিক সেই থেমে যাওয়ার মহামূল্যবান অনুশীলন।

লেখো। কারণ তুমি যে শুধুই ডেটার স্রোত নও, তুমি এক অনবদ্য কাব্য তা যেন এই কাগজের পাতায় চিরকাল বন্দি হয়ে থাকে।

তোমারই,
এক নিরীক্ষক।

ভোরবেলা চোখ খোলার আগেই জানলা দিয়ে ভেসে আসে এক টুকরো সোনালি আলো। ভাদ্রের রোদটা যেন অন্য রকম—এখনো তেমন ঝাঁঝালো নয়, আবার বর...
25/08/2026

ভোরবেলা চোখ খোলার আগেই জানলা দিয়ে ভেসে আসে এক টুকরো সোনালি আলো। ভাদ্রের রোদটা যেন অন্য রকম—এখনো তেমন ঝাঁঝালো নয়, আবার বর্ষার মেঘেও ঢাকা নেই। ঠিক যেন মায়ের হাতের আদর, একটু উষ্ণ, একটু নরম, আর মনটা ভরে দেওয়ার মতো।

বাইরে বারান্দায় দাঁড়ালেই চোখে পড়ে আকাশের ফিকে নীল, যেন জলরঙে আঁকা। গাছের পাতায় এখনো শিশিরের ফোঁটা, আর সেই ফোঁটায় সূর্যের আলো খেলে যাচ্ছে হীরকের মতো। কোকিল ডাকছে দূর থেকে, ঘাসের গন্ধ ভেসে আসে—সেই সেদিনের বৃষ্টির স্মৃতি নিয়ে। আকাশে এখন আর কালো মেঘের ভিড় নেই, বরং সাদা তুলোর পালক ভাসছে, যেন শরতের হাতছানি।

ভাদ্র মানেই তো প্রকৃতির এক গভীর নিঃশ্বাস। এই সকালটায় কোনো আড়ম্বর নেই, শুধু শান্ত এক মাধুর্য। কাপে গরম চা নিয়ে বসে থাকি, আলোয় হাত বাড়াই—অনুভব করি, এই রোদের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সময় থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা।

পাড়ার রাস্তায় স্কুলশিশুরা হাঁটছে, তাদের মুখে হাসি। বুড়ো মানুষটি বারান্দায় পত্রিকা পড়ছেন, আর রোদ তার চোখে এসে পড়ছে। একসময় এই আলোই তো আমাদের জাগায়, মনে করিয়ে দেয়—দিনটা নতুন, জীবনটা সুন্দর। কোনো বাড়ি থেকে মিষ্টি পিঠার গন্ধ ভেসে আসে, আবার কোথাও ফজরের আজানের স্মৃতি মিশে থাকে সকালের বাতাসে—এ যেন শান্তি আর স্নিগ্ধতার এক অপূর্ব মিলন।

ভাদ্রের রোদ যেন বলছে, “আমাকে ভয় পেও না, আমি তোমার অলসতাকে গলিয়ে দিতে এসেছি।” আর সত্যিই, এই সকালে মনটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোনো তাড়া নেই, শুধু একটা মুহূর্ত—যখন নিজের সঙ্গে নিজের মিলন হয়।

তাই আজকের সকালটা থামিয়ে রাখি কয়েকটা লাইনে। চায়ের কাপে ডুবে থাকা রোদ, জানালার ফাঁকে উড়ে আসা প্রজাপতি, আর নিঃশ্বাসে মেশা শীতল বাতাস—এই তো জীবনের আসল মধু। ভাদ্রের এই রোদ যদি প্রতিদিন হয়, তবে সকালটা আরও মধুর হবে নিশ্চয়ই।

তোমাদের সকালও কি এমন সোনালি হয়?

আমি যা জানি, তা কোনো পুঁথির পাতায় নেই। আছে ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দুতে, আছে ফেরিওয়ালার চোখের কোণে, আছে মায়ের হাতের স্পর্শে।...
28/07/2026

আমি যা জানি, তা কোনো পুঁথির পাতায় নেই। আছে ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দুতে, আছে ফেরিওয়ালার চোখের কোণে, আছে মায়ের হাতের স্পর্শে। বোধ মানে নয় জানার ভান ছেড়ে দেওয়া। যেদিন বুঝলাম, আমি আসলে কিছুই জানি না, সেদিনই বোধের প্রথম প্রভাত এলো আমার মনে।

আমাদের মধ্যে যে আলো জ্বলে, তা বাইরে থেকে আনা যায় না। গুরু দেখিয়ে দিতে পারেন পথ, কিন্তু পথ চলতে হয় নিজের পায়েই। বুদ্ধের শেষ কথা ছিল "অপ্প দীপো ভব", নিজেই নিজের প্রদীপ হও। এই প্রদীপ জ্বলে অন্তরের নির্জন ঘরে, যখন মনন থামে, যখন হিসেব-নিকেশ মিটে যায়।

আমরা সবাই ঘুরছি মায়ার জালে। সুন্দরকে চাই, কদর্যকে এড়াই। ভালোকে আঁকড়ে ধরি, মন্দকে ঠেলে দিই। বোধ এলেই এই দ্বন্দ্ব মিলিয়ে যায়। দেখা যায়, রূপ আর অরূপ একই সূর্যের দুই কিরণ। যেমন সমুদ্রের ঢেউ উঠে আবার মিলিয়ে যায়, তেমনই সুখ-দুঃখ মননের তরঙ্গ। এই তরঙ্গকে ভয় নেই ভয় আছে ভুলে যাওয়ায়, যে আমরা নিজেই সেই সাগর, ঢেউ নই।

শ্রীকৃষ্ণ যেমন বলেছেন, কর্ম করতে হবে, কিন্তু ফল আশা করতে নেই। গৃহে থেকে, সংসার সামলিয়ে, অন্নসংস্থান করে তবু নির্লিপ্ত থাকা যায়। নির্লিপ্তি মানে পালিয়ে যাওয়া নয়, মানে মনের মধ্যে আসক্তির বীজ না রাখা। গোলাপ যেমন কাঁটা ছুঁয়েও দাগ রাখে না, মন তেমন হয়ে ওঠে বোধের ছোঁয়ায়।

আমি দেখেছি, এক কাক ভোরবেলা ডাকছে। তার ডাকে নেই কোনো হিসাব। নেই কোনো 'কেন'। আছে শুধু 'আছে'। বোধও তেমন কোনো যুক্তির ধার ধারে না। প্রেমিক যেমন প্রেমের কারণ জিজ্ঞাসা করে না, বোধও তেমনি নির্বিকল্প। সূফীরা একে বলে 'ইশক' প্রেমের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া। মীরা গাইতেন "মৈঁ তো প্রেম দিবানী" আমি প্রেমের পাগলিনী। সেই পাগলামিই আসল বোধ।

তাই তো শেষ পর্যন্ত বোধ মানে নিজেকে ছেড়ে দেওয়া। 'আমি'র দেয়াল গলে গেলে তখন দেখি, তুমি আর আমি আলাদা নই। নদী যেমন সাগরে মিশে নিজেকে ভুলে যায়, তেমন আত্মা মিশে যায় বিরাটের সাথে। সেই মিলনে নেই কোনো শব্দ, নেই কোনো ধারণা শুধু এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, যেখানে সব প্রশ্ন থেমে যায়, আর নতুন এক প্রশ্নের জন্ম হয় এই যে বোধ, এটাও কি আবার অজ্ঞতা নয়?

ওইখানেই বসে থাকি। প্রশ্ন আর উত্তরের মাঝখানে। সেখানেই বোধের আসল ঘর। আর সেই ঘরের দেয়ালে লেখা যে জানে, সে জানে না, যে জানে না, সেই জানে।

22/07/2026

শ্রাবণ মানেই আকাশের মনখারাপ, অবিরাম বৃষ্টির ছন্দে ভেজা প্রকৃতি। টিনের চালে বৃষ্টির টুপুরটাপুর, মাটির সোঁদা গন্ধ— মনকে উদাস করে দেয়। খাল-বিল ভরা জল, কদমফুলের মাতাল সুবাস, আর পাতায় পাতায় সবুজের উচ্ছ্বাস। এই মাস যেন বিষাদের, আবার প্রেমেরও; রবীন্দ্রনাথের গানের মতোই— "বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল"। কিশোরীবেলার চিঠি, বৃষ্টিতে ভেজা স্মৃতি, সব যেন শ্রাবণেই জমাট বাঁধে। বৃষ্টি থামলেও থেকে যায় হৃদয়ভেজা এক অনুভূতি।

“শেষ পাতার পরে”আমি এতটাই নেই যে,আমার ছায়াও আমাকে চেনে না—সে হাঁটে অন্য কারও পেছনে,বলে, ‘এই লোকটার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক ...
21/07/2026

“শেষ পাতার পরে”

আমি এতটাই নেই যে,
আমার ছায়াও আমাকে চেনে না—
সে হাঁটে অন্য কারও পেছনে,
বলে, ‘এই লোকটার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক ছিল জানি না।’

আমার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম একবার—
‘আমার জন্মদিনে কী হয়েছিল?’
সে বলেছিল, ‘সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল,
আর তুমি কেঁদেছিলে—
আমি ভেবেছিলাম সব বাচ্চাই কাঁদে,
তুমি আলাদা কেন হবে?’

আমার বন্ধুরা এখন আমার কথা বলে
‘ওই যে... কি নাম ছিল ওর?
যে কবিতা লিখত, গভীর রাতে ডাকত...
ও তো এখন নেই, আর নেই—
আমরা ওকে ভুলেই গেছি ভালোভাবে।’

আমি এখন কারও দুঃখে নেই,
কারও সুখেও নেই—
আমি আছি শুধু সেই মুহূর্তে,
যে মুহূর্ত কখনো আসে না,
যে মুহূর্ত কেবল আমি দেখি
আমার ভেতরের আয়নায়।

আমি যদি আজ মরে যাই,
সংবাদপত্রে একটা লাইন—
‘একজন কবি চলে গেলেন’—
আর সেই লাইনের নিচে
বিজ্ঞাপন চলে ‘সস্তায় কিনুন ফ্রিজ’।

এই হলো আমার মহাকাব্য—
যেখানে আমি নায়কও নই,
খলনায়কও নই,
আমি শুধু সেই দৃশ্য,
যেটা এডিটর কেটে দিয়েছে
ফিল্মের শেষ কপি থেকে।

আমি এখন বুঝি—
সবচেয়ে বড় অভিশাপ
ঘৃণ্য হওয়া নয়,
বরং উদাসীন হওয়া—
এমন উদাসীন,
যে তোমার না-থাকায় কারও
চোখের জল শুকায় না,
বরং তার চোখ খোলে অন্য কাউকে দেখার জন্য।

তাই আমি এবার চুপ।
কিন্তু এই চুপ করাও এক রকম চিৎকার—
যে চিৎকার শুধু আমি শুনি,
যে চিৎকার কানে তুলে নেয় আমার নিজেরই নীরবতা।

19/07/2026

সবাই ভুল বুঝুক, আমার কিছু করার নেই।

আমি যদি বোঝাতে যাই, তাহলে তারা ভাবে—আমি বোঝাতে চাচ্ছি।
আমি যদি থেমে যাই, তাহলে তারা ভাবে—আমি রাগ করেছি।
আমি যদি আগের মতো করি, তাহলে তারা ভাবে—আমার কোনো আত্মসম্মান নেই।

তাই আমি কিছু করব না।
আমি শুধু যা করি, তা করব—
কারও জন্য, কারও চোখে, কারও বিচারে না।
আমার মনের মতো।

যারা বুঝতে চায়, তারা বুঝবে।
যারা বুঝতে চায় না, তারা কখনো বুঝবে না।
আমার আর বোঝানোর শক্তি নেই,
আর বোঝানোর ইচ্ছাও নেই।

আমি জানি আমি কে।
আমি জানি কেন করি।
আমার দেওয়ার পেছনে কোনো লুকানো উদ্দেশ্য নেই—
শুধু একটা মন আছে, যেটা চায় ভালোবাসতে।

আর যদি সেটাকে কেউ "কোটা" বা "দেখানো" বা "অতিরিক্ত" বলে,
তাহলে সেটা তাদের সমস্যা, আমার না।

আমি যা করি—
তা আমার সত্তা।
তা আমার শান্তি।
তা আমার ভালোবাসার ভাষা।

আর যে ভাষা বোঝে না,
তার জন্য আমার কোনো অনুশোচনা নেই

আমার প্রথম কান্না শুনেছিল আমার মা,কিন্তু সে কান্নার অর্থ সে বুঝেনিসে ভেবেছিল, এই তো সবার কান্না,আমি বুঝি না যে, আমার কান...
03/07/2026

আমার প্রথম কান্না শুনেছিল আমার মা,
কিন্তু সে কান্নার অর্থ সে বুঝেনি
সে ভেবেছিল, এই তো সবার কান্না,
আমি বুঝি না যে, আমার কান্নার ভেতর
ছিল এই পৃথিবীর প্রতি আমার প্রথম বিদায়
একজন মেয়ে হয়ে জন্মানোর প্রথম অভিশাপ।

আমার স্কুলের টিফিনে
শেয়ার করতাম আমার স্যান্ডউইচ
সবাই নিত, খেত, বলত 'থ্যাঙ্কস'
কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করত না,
'তোর দিনটা কেমন গেল?
আমি ছিলাম শুধুই এক 'ভালো মেয়ে',
যার নামটা রোল কলের খাতায় থাকে,
কিন্তু কারও মনে পড়ে না।

আমার প্রথম প্রেম
সে বলেছিল, 'তোর চোখে সমুদ্র আছে'
কিন্তু সে সমুদ্রে ডুবতে পারেনি সে,
কারণ সে ভেবেছিল নারীসমুদ্র শুধু দেখার জন্য।
আর আমি ডুবে গিয়েছিলাম নিঃশব্দে,
সে তীরে ফিরে গিয়েছিল অন্যজনের কাছে,
যে ছিল 'সহজ'।

আমার বাবার শেষ কথা ছিল
'মেয়েমানুষ, নিজের পায়ে দাঁড়া'
সে জানত না, এই 'নিজের পায়ে দাঁড়ানো'ই
আমার সবচেয়ে বড় একাকীত্ব,
কারণ নিজের পায়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে
আমি এতটাই শক্ত হয়েছি,
যে কেউ আর আমায় ভাঙতে চায় না,
আবার কেউ আমায় গড়তেও চায় না।

আমি এখন নিজের কাছে
এক অচেনা নারী
আমার আয়নার প্রতিবিম্ব জিজ্ঞেস করে,
'তুই কি কারও স্বপ্নে এসেছিলি?
নাকি তোকে শুধু স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল,
আর তুই বিশ্বাস করেছিলি?'

আমার না-থাকাটা কাউকে বিচলিত করে না,
কারণ আমি ছিলাম এক 'অপেক্ষামাণা'
যে অপেক্ষা করে কারও ফেরার জন্য,
অথচ কেউ ফিরে আসেনি,
কারণ কেউ জানতেই পারেনি
আমি অপেক্ষা করছি—
আমার অপেক্ষা ছিল এতটাই নীরব,
যে শুধু বাতাস জানে,
আর বাতাসও বলে—
'সে তো আর নেই, ও তো চলে গেছে শান্তির দেশে।'

এখন শোনো
আমি আর কোনো প্রশ্ন রাখি না,
কারণ সব প্রশ্নের উত্তর
আমার শরীরে লেখা
যে লেখা কেউ পড়েনি,
কেউ পড়তে চায়নি,
কারণ সে লেখা নারীর,
আর নারীর লেখা
সবসময় পড়া হয় 'ছোট লেখা' হিসেবে।

আমি মেয়ে
এই কথাটাই আমার সবচেয়ে বড় কবিতা,
আর এই কবিতাটা আমি লিখি
প্রতিদিন সকালে আয়নায় দেখে
যেখানে আমি নিজেই আমার একমাত্র পাঠক,
আর নিজেই আমার একমাত্র সমালোচক।

25/06/2026
জীবনবোধ নিয়ে একটা কথনপ্রথম ব্যক্তি: বলো তো, জীবনটাকে কীভাবে দেখো?দ্বিতীয় ব্যক্তি: জীবন? মাঝে মাঝে মনে হয় এক অনন্ত প্রবাহ...
04/06/2026

জীবনবোধ নিয়ে একটা কথন

প্রথম ব্যক্তি: বলো তো, জীবনটাকে কীভাবে দেখো?

দ্বিতীয় ব্যক্তি: জীবন? মাঝে মাঝে মনে হয় এক অনন্ত প্রবাহ, যার শুরু-শেষ খুঁজে পাই না। আবার কখনো লাগে একটা সংক্ষিপ্ত নিশ্বাস—আর তাতেই সব ফুরিয়ে যায়।

প্রথম: ঠিক বলেছ। কেউ বলে জীবন সুখের সন্ধান, কেউ বলে দুঃখ এড়ানোর শিল্প। আসলে কোনটা?

দ্বিতীয়: মনে হয় সবটাই। জীবন একই সঙ্গে সুখ আর দুঃখ, প্রাপ্তি আর বঞ্চনা, আলো আর অন্ধকার। এদের ফারাক শুধু—কখন কোনটা আমাদের দৃষ্টিতে বেশি ধরা পড়ে।

প্রথম: তবে কি জীবনবোধ মানে এই দ্ব›দ্বকে মেনে নেওয়া?

দ্বিতীয়: হয়তো। আরও বলি—জীবন মানে ধৈর্য। গাছের মতো মাটিতে পা রেখে মাথায় আকাশ বহন করা। একটু বৃষ্টি, একটু রোদ, কখনো ঝড়—তবু দাঁড়িয়ে থাকা। কারণ উপড়ে যাওয়ার চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই বেশি অর্থ আছে।

প্রথম: আবার কেউ বলে, জীবন দৌড়ের নাম—বেশি পাওয়া, বেশি হওয়া, ছাড়িয়ে যাওয়া।

দ্বিতীয়: সেও সত্যি। কিন্তু ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে ফুরোতে দেওয়া উচিত নয়। চায়ের কাপে দুজনের নীরবতা, রাতে শিশিরভেজা ঘাসের গন্ধ, শিশুর প্রথম হাসি—এইসবই তো জীবনবোধ। বড় সাফল্যের ভিড়ে এগুলো যেন হারিয়ে না যায়।

প্রথম: তাহলে উপসংহার?

দ্বিতীয়: উপসংহার নেই। জীবনবোধ হলো পথ চলতে চলতে নিজের সঙ্গে একান্ত সংলাপ। কঠিন সময়ে অটল থাকা, সুখে বিনয়ী থাকা, আর প্রতিদিন একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত হয়তো মৃত্যুকেই বরণ করে নিতে জানা। কারণ মৃত্যু না থাকলে জীবনের প্রতিটি নিশ্বাসের দাম কে বোঝে?

প্রথম: মুগ্ধ করলে। তবে বলো, এত কথা বলে কী লাভ, যদি কাজে না লাগাই?

দ্বিতীয়: সত্যি। জীবনবোধ শেষ পর্যন্ত বাঁচার ভঙ্গি। কথায় নয়, প্রতিটি পদক্ষেপে তার পরিচয়। নিজেকে সামলে চলা, অন্যের প্রতি দয়া রাখা, আর প্রতিদিন ভোরের আলোকে নতুন করে চেনা।

প্রথম: তবে আলোকিত হোক পথ।

দ্বিতীয়: আলোকিত হোক। আর অন্ধকার থাকলেও যেন আমাদের প্রদীপ নিভে না যায়।

মা বাবা সন্তান দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ভেবে পড়ালেখা করিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করে, মানুষ করে। তারপর একদিন সন্তান রা মানুষ হয় ঠিকই ক...
03/06/2026

মা বাবা সন্তান দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ভেবে পড়ালেখা করিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করে, মানুষ করে। তারপর একদিন সন্তান রা মানুষ হয় ঠিকই কিন্তু টাকার কাছে সময়,মনুষ্যত্ব কে বিক্রি করে দেয়। তারপর মা বাবা রা হয়ে যায় অবহেলিত। চিন্তা করেন তো সন্তান রা ঘন্টা খানেক দেরি করে বাড়ি ফিরলে যে মায়ের চোখের ঘুম চলে যায়, সে মায়ের খোঁজ কি আমরা সন্তান রা ঠিকঠাক রাখি??

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ময়ূরাক্ষী : Moyurakshi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share