27/07/2026
👩🦳🌻 "দিদার শেষ উপহার"
বাড়িটা অনেকদিন ধরেই খালি।
একসময় এই উঠোনেই বিকেলে শিউলি ঝরত। দিদা পিঁড়ি পেতে বসে সুতো দিয়ে নকশা করতেন। আমি পাশে বসে গল্প শুনতাম।
আজ এত বছর পর আবার সেই বাড়িতে এসেছি।
উদ্দেশ্য একটাই— বাড়িটা বিক্রি হয়ে যাবে।
সবাই আলমারি, খাট, পুরোনো জিনিসপত্র ভাগ করে নিচ্ছে।
হঠাৎ চোখে পড়ল...
দিদার সেই পুরোনো সেগুন কাঠের আলমারি।
আলমারিটা খুলতেই পুরোনো কাপড়ের গন্ধটা নাকে এল।
এক কোণে ছোট্ট একটা কাপড়ের পুঁটলি।
পুঁটলিটার কথা আমার মনে আছে।
ছোটবেলায় কতবার বলেছি—
"দিদা, এর ভেতরে কী আছে?"
দিদা হেসে বলতেন—
"যেদিন বড় হবি, সেদিন খুলে দেখবি।"
আজ...
আমি সত্যিই বড় হয়ে গেছি।
কিন্তু দিদা নেই।
ধীরে ধীরে পুঁটলিটা খুললাম।
ভেতরে...
একজোড়া কালো-হলুদ হাতে বানানো চুড়ি।
মনে হলো, কেউ যেন খুব যত্ন করে প্রতিটা সুতোর ভাঁজে ভালোবাসা বুনে রেখেছে।
চুড়ির নিচে একটা ভাঁজ করা কাগজ।
কাগজে দিদার হাতের লেখা—
"মা,
তুই যখন এই চিঠিটা পড়বি, আমি হয়তো তোর পাশে থাকব না।
মানুষ তো চলে যায়... কিন্তু ভালোবাসা কোথাও যায় না।
এই চুড়িগুলো আমি তোর জন্য রেখে গেলাম।
মনে রাখিস, ফুল কখনো কারও অনুমতি নিয়ে ফোটে না। নিজের সৌন্দর্য নিজের মধ্যেই থাকে।
তুইও ঠিক তেমনই থাকবি।
কেউ যদি তোকে ছোট করে, নিজের মূল্য যেন কখনো ভুলে না যাস।
ভালোবাসা না পেলেও মানুষ সুন্দর থাকতে পারে।
নিজেকে হারিয়ে ফেলিস না।
— তোর দিদা।"
চিঠিটা পড়তে পড়তে কখন যে চোখ ভিজে গেছে, বুঝতেই পারিনি।
সেদিন প্রথমবার...
আমি চুড়িগুলো হাতে পরলাম।
আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হচ্ছিল—
দিদা এখনও আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
হয়তো ভালোবাসা আসলে এভাবেই বেঁচে থাকে।
মানুষের মধ্যে নয়...
স্মৃতির মধ্যে।
"🧡কিছু চুড়ি শুধু হাতে পরা হয় না... কিছু চুড়ি প্রিয় মানুষদের রেখে যাওয়া ভালোবাসা হয়ে সারাজীবন সঙ্গে থাকে।" 🤍
#স্মৃতিচারণ
#নব্বইয়েরদশক
#পুরনোদিনেরগল্প
#সেফটিপিন