ইনু আর ইনুর আম্মু

ইনু আর ইনুর আম্মু Inaaya's dushtami and her mom's cooking

শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি ভাই – এই পোস্টটা ইগনোর করলে আপনার পকেটের না, সরাসরি কিডনির বারোটা বাজতে পারে। ২ মিনিট সময় দেন,...
12/07/2026

শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি ভাই – এই পোস্টটা ইগনোর করলে আপনার পকেটের না, সরাসরি কিডনির বারোটা বাজতে পারে। ২ মিনিট সময় দেন, এই গল্পটা আপনার নিজের বা ভাই-বোনের ডায়ালাইসিসের বিল বাঁচায় দিতে পারে।

গত শুক্রবার মাগরিবের পর আমার কলেজের বেস্ট ফ্রেন্ডটা কল দিল। ফোনের ওপাশে শুধু ফোঁপানির শব্দ। কান্না চাপতে চাপতে বললো, "দোস্ত, ছোট বোনটারে হাসপাতালে ভর্তি করাইছি। ডাক্তার বলতেছে দুইটা কিডনিই নাকি ৬০% ড্যামেজ। অথচ ওর বয়স মাত্র ২৬!"

২ মাস আগের কথা। ২৯ বছরের সুমি আপু। একটা মাল্টিন্যাশনালে জব করে। সারাদিন এসির মধ্যে ল্যাপটপে, টার্গেটের প্রেশার। বাসায় ফিরে টিকটক আর বিরিয়ানি। ওজন ঠিক আছে, দেখতেও ফিট। লাস্ট ১ বছর ধরে শুধু বলতো, "দোস্ত, চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, আর একটু পরপর ওয়াশরুমে যাওয়া লাগে"। আমরা সবাই বলতাম, "আরে পানি কম খাস, রাত জাগিস, তাই এমন হয়"। নিজে নিজে গুগল করে পানি খাওয়া বাড়ায় দিলো।

ঈদের ২ দিন পর। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে পা দুইটা ফুলে ঢোল হয়ে আছে। জুতা ঢুকতেছে না। সাথে বমি বমি ভাব। ফ্যামিলি ভাবছে ফুড পয়জনিং। হাসপাতালে নিয়ে ব্লাড টেস্ট করতে গিয়ে ডাক্তারের মাথায় হাত। Creatinine লেভেল 4.8! নরমাল থাকে 1 এর নিচে।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলো, "আপনি এতদিন টের পান নাই? আপনার কিডনি তো প্রায় অকেজো হওয়ার পথে।"

আরেকটা ঘটনা শোনেন। আমার মামা, বয়স ৪৫। হাই প্রেশারের রোগী, কিন্তু ওষুধ খায় আর ছাড়ে। বলে, "ধুর, ওষুধ খাইলে কিডনি নষ্ট হয়"। লাস্ট ২ বছর ধরে প্রেশার 160/100 এর নিচে নামেই না। আমরা বললে হাসে। লাস্ট মাসে হঠাৎ শরীর চুলকাইতে শুরু করলো, মুখ দিয়ে মাছের মতো গন্ধ। টেস্ট করে দেখে কিডনি ফেইলিউর। এখন সপ্তাহে ৩ দিন ডায়ালাইসিস। প্রতিবার ৩৫০০ টাকা।

দুইটা মানুষ, দুইটা কাহিনী, কিন্তু কালপ্রিট একটাই। শরীরের সবচেয়ে নিরীহ অর্গানটা ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাইতেছে, কিন্তু সে একটা টুঁ শব্দও করে নাই। এইটার নামই – সাইলেন্ট কিলার। আজকের টপিক: কিডনি ফেইলিউর।

ভাই, ব্যথা ছাড়া কিডনি কীভাবে নষ্ট হয়? এইখানেই আমরা ধরা খাই।
আমাদের কিডনি হইলো আপনার বাসার পানির ফিল্টারের মতো। প্রতিদিন ১৮০ লিটার রক্ত ছাঁকে, ময়লা বের করে দেয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হইলো, এই ফিল্টারের ৭০% নষ্ট হয়ে গেলেও বাকি ৩০% দিয়ে সে চুপচাপ কাজ চালায় যায়। আপনি টেরও পাবেন না। মুখে রুচি আছে, ঘুম হইতেছে, কাজও করতেছেন।

যেইদিন ৮৫% ফিল্টার বাদ হয়ে গেল, ওইদিন সকালে উঠে দেখবেন পা ফুলা, বমি, শ্বাসকষ্ট। তখন ডাক্তার বলবে "ডায়ালাইসিস লাগবে"। মানে গেম ওভার। এই জন্যেই কিডনি রোগীরা বলে, "ভাই, যখন ধরা পড়ছে তখন আর কিছু করার নাই"।

তাইলে এই বয়সে কিডনির ১২টা বাজানোর আসল ভিলেন কারা?

১. "প্রেশার আর ডায়াবেটিস তো সবারই আছে" এই অবহেলা: ভাই, বাংলাদেশে যত মানুষের কিডনি নষ্ট হয়, তার ৭০% এর কারণ শুধু এই দুইটা। হাই প্রেশার হইলো কিডনির রাস্তার ভিতরে হাই-স্পিডে ট্রাক চালানোর মতো। প্রতিদিন রাস্তার পাশ ভাঙতে থাকে। আর ডায়াবেটিস? এইটা হইলো চিনির সিরা। কিডনির ছাঁকনিগুলা জ্যাম করে দেয়।

২. মুড়ির মতো ব্যথার ওষুধ খাওয়া: মাথা ধরছে? Napa Extra। হাঁটুতে ব্যথা? একটা ব্যথার ওষুধ। ভাই, ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কেনা এই ব্যথার ওষুধগুলা কিডনির জন্য বিষ। মাসে ১০-১৫টা খাইলেই কিডনির টিস্যু পুড়ে যাইতে শুরু করে।

৩. পানি কম খাওয়া আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখা: আমরা কাজের চাপে পানি খাই না, ওয়াশরুমে যাই না। ভাবি "কাজটা শেষ করে নেই"। ভাই, এই জমে থাকা প্রস্রাব ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাক্টরি। সোজা কিডনিতে গিয়ে ইনফেকশন করে। আর পানি কম খাইলে কিডনির ময়লা ছাঁকবো কী দিয়ে?

একদম শেষ স্টেজে যে সিগন্যালগুলা আসে, কিন্তু আমরা "গ্যাস্ট্রিক" বইলা চালায় দেই:

সকালে ঘুম থেকে উঠলে চোখ-মুখ ফোলা ফোলা লাগা।
দিনে ৮-১০ বার ওয়াশরুমে যাওয়া, বিশেষ করে রাতে ৩-৪ বার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
সারাদিন দুর্বল লাগা, অল্পতেই হাঁপায় যাওয়া, মনোযোগ দিতে না পারা।
খাবারে রুচি নাই, মুখে সারাক্ষণ বিস্বাদ, ধাতব একটা গন্ধ।
শরীর অকারণে চুলকানো, চামড়া শুকনা হয়ে যাওয়া।

ভয়ের কিছু নাই ভাই, কিডনি ২০-৩০% নষ্ট হইলেও ১০০% রিকভার করা সম্ভব।
শুধু প্রেশার-ডায়াবেটিস কন্ট্রোল, খাওয়ায় একটু নুন কম, আর বছরে একবার ২০০ টাকার দুইটা টেস্ট। ব্যস, আপনি সারাজীবন দুইটা কিডনি নিয়েই দৌড়াবেন।

তাই আজকে থেকে ৩টা কাজ লক করেন:

বয়স ৩০ পার হইলে বা ফ্যামিলিতে প্রেশার-ডায়াবেটিস থাকলে বছরে একবার Serum Creatinine আর Urine RME টেস্টটা করান। খরচ? ৩০০-৪০০ টাকা। একটা পিৎজার দাম। কিন্তু এইটা আপনার কিডনির বাঁচা-মরার রিপোর্ট।

দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান। আর প্রস্রাব কখনো চেপে রাখবেন না ভাই। অফিসে হইলেও বসরে একটু বলে ওয়াশরুমে যান। চাকরি যাবে না, কিন্তু কিডনি গেলে জীবন যাবে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে ব্যথার ওষুধ, গ্যাসের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করেন। আর তরকারিতে এক্সট্রা কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাসটা আজকেই ছাড়েন। এই সাদা জিনিসটাই কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু।

ভাই, আমরা ৫০ হাজার টাকার ফোন ২ বছর পর চেঞ্জ করি। আর আল্লাহর দেওয়া এই দুইটা ফিল্টার, যেটার একটার দাম ২০ লাখ টাকাও না, সেটার যত্ন নিই না। ডায়ালাইসিস যে কত কষ্টের, যে করে সে জানে।

পোস্টটা টাইমলাইনে শেয়ার দিয়ে রাখেন। আর যেই বন্ধুটা পানি কম খায়, সারাদিন বসে থাকে, বা যার আব্বু-আম্মুর হাই প্রেশার আছে – তারে মেনশন দেন।

সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবার কিডনি সুস্থ রাখুক। বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, এই সপ্তাহেই পানির বোতল আর টেস্টের সিরিয়ালটা দিবেন?

#সুস্থ_কিডনি_সুস্থ_জীবন

03/06/2026
02/06/2026
21/05/2026

আপনার বাচ্চার ক্ষতি “অচেনা মানুষ” করবে না।
অনেক সময় ক্ষতি সেই মানুষটাই করে … যাকে আপনি প্রতিদিন সালাম দেন, বিশ্বাস করেন, বাসায় ঢুকতে দেন, বা “ও তো অনেক ভালো মানুষ” বলে ভাবেন।

তাই দয়া করে একটু বেশি careful হন।
❌ড্রাইভার, বুআর সাথে একা কখনোই স্কুল এ আনা নেয়া করাবেন না ( স্কুল বাস use করুন যদি উপায় না থাকে)
❌রিকশাওয়ালা মামার কোলে দিয়ে “একটু ধরে রাখেন” বলবেন না ( বাচ্চা মনে করবে অচেনা মানুষ টাচ করা ইস ওকে)
❌ দারোয়ান চাচার রুমে বসিয়ে রাখবেন না বা
ছাদে গার্ড বা কাজের মানুষের সাথে একা ঘুরতে পাঠাবেন না।
❌ “পাশের বাসায় খেলছে” বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিশ্চিন্ত থাকবেন না। এমনকি আত্মীয় হলেও ছোট বাচ্চাকে completely unattended রেখে দিবেন না।
❌ রাতে বাচ্চা বাবা মা, আপন ভাই বোন ছাড়া অন্য করো সাথে bed শেয়ার করবে না।
❌ চেনা বা অচেনা মানুষ hug, kiss, কলে বসানো পারমিশন নাই এইটা বাচ্চাও যেন বুঝে
❌বাড়িতে টিচার বা হুজুর যেন ডাইনিং রুম এ পড়ায় কোনও বেডরুম বা দরজা আছে এরকম রুম এ পড়ানো যাবে না।
❌ আপনার বাচ্চার সামনে আপনি জামা কাপড় ওপেনলি বদলাবেন না - body privacy এগুলো ছোট থেকেই জানতে হবে।
❌ “ও তো ছেলে মানুষ” ভেবে ছেলে বাচ্চাদের-body safety ignore করবেন না। ছেলে বাচ্চারাও abuse-এর victim হয়।

✅বাচ্চাদের গুড টাচ ব্যাড টাচ শিখাবেন একদম ছোট বয়স থেকে- Youtube অনেক ভিডিও আছে.
✅আপনার সন্তানদের সাথে এমন relationship তৈরি করুন যেন বাচ্চা ভুল করলেও, ভয় পেলেও, কিছু হলেও প্রথমে আপনাকেই বলতে চায়।

Parent হওয়া শুধু ভালো স্কুল, ভালো জামা, ভালো খাবার না। Parent হওয়া মানে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত careful হওয়াও।

হয়তো মানুষ বলবে “এত সন্দেহ করেন কেন?”
বলুক আপনার কাছে আপনার বাচ্চার safety সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ !

যেহেতু এদের কে আমরা ঠিক করতে পারব না .. তাই নিজেকে সচেতন হতে হবে.. আল্লাহ আমাদের সন্তানদের হেফাজত করে রাখুন। আমিন।

21/05/2026

আমি সেই মা না, যে সবার মন রাখার জন্য নিজের মেয়েকে সবার কোলে ছুঁড়ে দিব।
আমি সেই মা, যে নিজের সন্তানের নিরাপত্তার সামনে আত্মীয়তা, ভদ্রতা, সমাজ সবকিছুকে লাথি মারি।
যে “ভদ্র মেয়ে হও” শেখানোর আগে নিজের মেয়েকে নিরাপদ থাকতে শেখায়।
যে আত্মীয় হলেই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে না।

হ্যাঁ, আমি কঠোর।
হ্যাঁ, আমি রাগি।
আর আমার মেয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমি আরও হিংস্র।

আমার মেয়েকে আমি শেখাইনি “সবাইকে খুশি রাখতে হয়।”
শেখাইনি “চাচ্চু ডাকছে যাও”, “মামা কষ্ট পাবে কোলে যাও”, “ভদ্র মেয়ে হও।”
কারণ আমার মেয়ে কারো মন ভালো রাখার পুতুল না।
ও একটা মানুষ।
ওর শরীরের উপর অধিকার শুধু ওর।

বর্তমান সময়ে আমি কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না।
চাচা, মামা, খালু, প্রতিবেশী কোনো সম্পর্কই আমার কাছে নিরাপত্তার সার্টিফিকেট না।
আত্মীয় হলেই নিরাপদ এই বোকামি আমি করি না।
কারণ আজকাল জানোয়াররা বাইরে না, ঘরের ভেতরেই থাকে।
আজকাল খবর খুললেই দেখা যায়, সবচেয়ে ভয়ংকর মুখগুলো পরিচিত মানুষের।
পরিচিত মুখ হয়ে আসে।
ভদ্রতার মুখোশ পরে আসে।

আমার মেয়ের কাছে আসার আগে সবাইকে আমাকে ফেস করতে হবে।
আমার মেয়েকে কারো কোলে বসতে দেই না।
কারো সাথে একা পাঠাই না।
কারো সাথে জোর করে মিশতে বাধ্য করি না।
আমার মেয়ের “না” মানে না।
ও অস্বস্তি বোধ করলে পৃথিবীর কারো অনুভূতির দাম আমার কাছে শূন্য।

চাচা, মামা, খালু মন খারাপ করে?
করুক।
কেউ কোলে নিতে না পেরে কষ্ট পায়?
পাক।
কেউ মন খারাপ করলে করুক।
কেউ কষ্ট পেলে পাক।
কেউ ভাবলে ভাবুক আমি অভদ্র, অহংকারী, রাগি।
আমার মেয়ের নিরাপত্তার কাছে পৃথিবীর সব সম্পর্ক তুচ্ছ।

আমার দায়িত্ব কারো মন রাখা না।
আমার দায়িত্ব আমার মেয়েকে নিরাপদ রাখা।

আমি আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছি
NO TOUCH.
কেউ জোর করলে চিৎকার করতে।
কাউকে খুশি করার জন্য নিজের কমফোর্ট বিসর্জন না দিতে।

কারণ আমি জানি একটা নোংরা স্পর্শ একটা শিশুর পুরো জীবন শেষ করে দিতে পারে।
একটা চাইল্ড ট্রমা মানুষকে ভিতর থেকে মেরে ফেলে।
আর সবচেয়ে নোংরা সত্যি হলো - এই দেশের বিচারব্যবস্থা অপরাধীর পাশে দাঁড়ায়, ভিক্টিমের না।
এই দেশে প্রমাণ থাকার পরও জানোয়ারগুলো বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
বিচার হয় না।
কিন্তু একটা শিশু সারাজীবন ভয়, লজ্জা আর দুঃস্বপ্ন আর সারাজীবন আতঙ্ক নিয়ে বাঁচে।

আমি আমার মেয়েকে মানুষের মন খুশি করা শেখাই না।
আমি ওকে নিরাপদে বাঁচতে শেখাই।

হ্যাঁ, আমি “ওভার প্রোটেক্টিভ” মা।
কারণ আমি চাই না আমার মেয়ের শৈশব কোনো নোংরা মানুষের স্পর্শে নষ্ট হোক।

আর যারা বাচ্চাদের দিকে নোংরা চোখে তাকায়
তাদের জন্য আমার মনে বিন্দুমাত্র দয়া নেই।
কারণ একটা শিশুর নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যারা যায়, তারা মানুষ না, জানোয়ার।
আর জানোয়ারের জন্য দয়া না, শাস্তি দরকার।

~Little Firdaws Bloom

বদনজরের ফল 😭রিসেন্টলি এমন এক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে যে, আমি কয়েকদিন যাবৎ স্বাভাবিক হতে পারিনি।সৌদি আরবে সরকারিভাবে লাশ...
25/03/2026

বদনজরের ফল 😭
রিসেন্টলি এমন এক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে যে, আমি কয়েকদিন যাবৎ স্বাভাবিক হতে পারিনি।

সৌদি আরবে সরকারিভাবে লাশ গোসলকরানোর প্রতিষ্ঠান আছে, পুরুষ মুগাসসিল আছেন, নারী মুগাসসিলাহ আছেন—আমিও তাদের একজন। আমি মৃত-নারীদের গোসল করাই। যারা গোসল করিয়ে দেন, তাদেরকে মুগাসসিল/মুগাসসিলাহ বলা হয়।

অন্য দিনের মতোই আমাকে ফোন করে কর্মস্থলে ডাকা হলো। গেলাম। কয়েকজন মহিলা কান্নাকাটি করছেন। নারী আত্মীয় থাকলে খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়৷ আমি গিয়ে সান্ত্বনা দিই। এবারও দিব, কিন্তু তার আগে মৃতদেহ দেখতে গেলাম৷

টেবিলের ওপর লাশটা দেখে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। দুই-আড়াই বছরের একটি ফুটফুটে মেয়ে বাবু শুয়ে আছে। কী তার চেহারা! মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো, ‘সুবহানআল্লাহ’, ‘মাশাআল্লাহ’, ‘আল্লাহুম্মা বারিক’।
কাগজের মতো সাদা গায়ের রং, গোলাপি দুটো ঠোট, চুলের রং বাদামি, দু হাত ভর্তি মেহেদি। একদম ইউরোপ-আমেরিকার বাচ্চাদের মতো। আমি তো ভাবতেই পারছি না, এটা আরব বাচ্চা!

এত সুন্দর একটি বাচ্চা আর বেঁচে নেই! আমিই ওকে একবার দেখে নিজেকে সামলাতে পারছি না, না জানি বাচ্চার বাবা-মায়ের কী অবস্থা!

বাইরে চলে এলাম। সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা নেই, তবুও কিছু বলা দরকার। যে মহিলা সবচেয়ে বেশি কাঁদছেন, তিনিই হয়তো বাচ্চার মা হবেন। আমি তার কাছে গিয়ে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম। কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি বললেন, তিনি বাচ্চার মা নন, তিনি বাচ্চাটির নানি।

আমি জানতে চাইলাম, তাহলে বাচ্চার মা কোথায়?

আমাকে দেখিয়ে দেয়া হলো বাচ্চার মাকে। মহিলা মুখ হা করে শূন্য দৃষ্টিতে এক দিকে তাকিয়ে আছে। একদম স্থির। কোনো কথাবর্তা বলছেন না, নড়াচড়া করছে না। শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তার কাছে গিয়ে কিছু সান্ত্বনামূলক কথা বললাম। কোনো সাড়া নেই। কী ঘটে গেছে, এটা হয়তো মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

তাকে দেখে আমার আরও বেশি খারাপ লাগল। অন্য মহিলাদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হয়েছে? বাচ্চাটা মারা গেল কীভাবে?’

কেউ জবাব দিল না। একজন বলল, ‘আপা, পরে জানাব। আপনি আগে বাচ্চাটাকে গোসল করিয়ে দেন।’

গোসলঘরে ফিরে এলাম। চোখের সামনে, টেবিলের ওপর যেন একটি পুতুল রাখা। ছোট্ট সাদা হাত দুটো আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত মেহেদি রাঙা। বাচ্চার গায়ে একটুও আঘাতে চিহ্ন নেই, কাটাছেঁড়ার দাগ নেই। মনে হচ্ছে, ঘুমিয়ে আছে। ‘ওরে সোনা রে, কীভাবে চলে গেলি তুই!’

অশ্রুপাত করতে করতে পুতুলের গোসল শেষ করলাম। পরিবারের লোকেরা ওকে দাফন করতে নিয়ে গেল। পরে, গোসলখানার কর্মীদের কাছ থেকে শুনলাম কাহিনি।

ফুটফুটে এই বাচ্চাটার পরিবার ইয়েমেনি আরব। সাধারণত আরবদের মধ্যে এতটা ধবধবে ফর্সা হওয়া কমন বিষয় নয়, কিন্তু এই বাচ্চা আর ওর বড় বোন ব্যতিক্রম। শুধু গায়ের রং নয়, চেহারার গড়নও চমৎকার। এরা দুজন অনেক বেশিই সুন্দর। ওদের পরিবারের মধ্যেও এরকম সুন্দর আর কেউ নেই। এই বাচ্চাটির বয়স দুই আর ওর বড় বোনের বয়স চার বছর।

দুবোন নতুন জামা পরে, সেজেগুজে, হাতে মেহেদি দিয়ে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল গতকাল। ওখানে খুব খুশি ছিল ওরা। এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করে খেলে বেড়াচ্ছিল। আর সবার চোখ ছিল ওদের দিকে। সেই অনুষ্ঠানটি লাইভ টেলিকাস্টও করা হচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সুতরাং উপস্থিত লোকজনের বাইরেও হাজার হাজার মানুষ দেখতে পাচ্ছিল ওদের।

অনেক আনন্দ করে ওরা সেই অনুষ্ঠানে। এরপর খাবার খায়। কিন্তু খাওয়ার একটু পরই দু বোনই বমি করতে থাকে। তাদের গায়ের রং বিবর্ণ হয়ে যায়। ছোটের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সে চোখ বন্ধ করে একদম গা ছেড়ে দেয়। একটু পর সবাই বুঝতে পারে সে আর বেঁচে নেই। অপরদিকে বড় জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তার অবস্থাও ভালো নয়।

ওইটুকু পরির মতন বাচ্চার লাশ দেখার পর বাসায় এসে স্থির হতে পারছিলাম না। থেকে-থেকে কান্না পাচ্ছিল শুধু। বাড়ির লোকজন জানতে চাইল কী হয়েছে। ঘটনা শোনার পর ওদের মনও ভার হয়ে আসল।

মন খারাপ নিয়েই পরদিন আবার কাজে গেলাম৷ গিয়ে দেখি, গোসলের টেবিলে গতকালেরই ফুটফুটে পুতুলটি। ধবধবে সাদা হাত-পা, সুন্দর গড়নের চোখ-নাক, গোলাপি ঠোঁট, বাদামি চুল, দু হাত ভরা মেহেদি। তবে গতকালের চেয়ে আজকের জন একটু বড় সাইজের। মানে, ও গতকালের বাবুটির বড় বোন—চার বছর বয়স যার। দুজনেই একই সাথে অসুস্থ হয়েছিল। একদিন আগে ছোটজন মারা গেল, পরদিন বড় জন।

কেমন মানসিক অবস্থা নিয়ে ওর গোসল শেষ করলাম, বলে বোঝাতে পারব না। কাফন পরিয়ে বের করতে না করতেই ওর মা লাশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ‘হায় আমার সোনা রে!’ ‘আমার মানিক রে!’ ‘কোথায় চলে গেলি, মা!’ ‘আমার সোনা মেয়ে!’
গতকাল মহিলা একদম পাথরের মূর্তির মতো বসে ছিলেন, আজ পাগলের মতো কাঁদছেন।

একটু পর গোসলখানার বাইরে তাদের বাড়ির পুরুষ সদস্যরা এলেন। তাই আমি ভেতরে, আমার বসার ঘরে গেলাম। ঘর থেকেই শুনতে পাচ্ছিলাম বাচ্চার বাবার আহাজারি। এভাবে চিৎকার করে কাঁদতে আগে কোনো পুরুষকে দেখিনি। বিশ্বাস করবেন না, সেই কান্না শুনে আমার মনে হচ্ছিল পাথরও গলে যাবে। এতই করুণ ছিল।

আমিও তখন কাঁদছি। গতকালের ছোট্ট মেয়েটাকে দেখাই আমার জন্য অনেক বড় ধাক্কা ছিল, তারওপর আজ একই রকম দেখতে তার বড় বোন। সহ্য করা কঠিন!

লাশ নিয়ে চলে গেল পুরুষেরা৷ কাছেই জানাযা হলো, দাফন হলো। আমি বসলাম বাচ্চাগুলোর আত্মীয়াদের সাথে। জানলাম এই দুই কন্যা ছাড়া ওদের বাবা-মায়ের আর কোনো সন্তান নেই। দুঃখটা আরও বেড়ে গেল। ওদের মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কি সকাল-সন্ধ্যার দুয়াগুলো নিয়মিত পড়তেন?
উনি বললেন, ‘না।’
‘তিন কুল—সুরা ইখলাস, সুরা নাস, সুরা ফালাক পরে ওদেরকে ফুঁ দিতেন?’
‘না!’

আমার এত খারাপ লাগল, আগ থেকেই তো মনটা বিক্ষিপ্ত ছিল, মহিলার ওপর রাগ উঠল। কিন্তু রাগ দেখানোর মতো অবস্থায় উনি নেই। যতটা সম্ভব উত্তেজনা কমিয়ে উনাকে বললাম, ‘আপনি কেন নিয়মিত মাসনুন দুয়া পড়তেন না? কেন বদনজরের আমল করতেন না? রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো—
اُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّاۤمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَاۤمَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَاۤمَّةٍ
—দুয়াটি পড়লে কী হতো আপনার?
আল্লাহ কী সুন্দর দুটি বাচ্চা দিয়েছিলেন আপনাকে। নজরের ভয় হতো না আপনার? কার অন্তরে কী আছে, আপনি জানেন? এই টুকু আমল করা কি খুব কঠিন? আপনি জানেন না বদ-নজর সত্য? সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে—“বদনজর মানুষকে কবরে পৌঁছে দেয় এবং উটকে রান্নার পাতিলে পৌঁছে দেয়।” আমার তো মনে হয়, বদনজরের কারণেই বাচ্চাগুলো মারা গেল।’
বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম আমি।

লেখা : Mahbuba Upoma
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

"বাচ্চা তো সারাদিন ঘুমায়!"—প্রেগন্যান্সি আমলের এই কাল্পনিক মিথ এবং রাত ৩টার ডায়াপার যুদ্ধ!.....প্রেগন্যান্সির ওই ৯ মাস...
12/03/2026

"বাচ্চা তো সারাদিন ঘুমায়!"—প্রেগন্যান্সি আমলের এই কাল্পনিক মিথ এবং রাত ৩টার ডায়াপার যুদ্ধ!.....

প্রেগন্যান্সির ওই ৯ মাস আত্মীয়স্বজন আর প্রতিবেশীরা কতই না মিষ্টি কথা বলে! "বাচ্চারা তো প্রথম কয়েক মাস দিনে ১৮-২০ ঘণ্টা শুধু ঘুমায় আর দুধ খায়। তুমি কোনো টেনশন করবে না, বাচ্চার সাথে সাথে তুমিও ঘুমিয়ে নেবে!" আহা, কী সুন্দর, শান্তির এক স্বপ্ন!

কিন্তু হাসপাতাল থেকে ওই ছোট্ট, তুলতুলে বান্ডেলটা নিয়ে বাসায় ফেরার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর আপনি বুঝতে পারেন—দুনিয়াতে এর চেয়ে বড় 'স্ক্যাম' বা ধোঁকাবাজি আর দ্বিতীয়টি নেই!

কিডোরা স্মার্ট প্যারেন্টিং-এর আজকের এই স্পেশাল ফিচারে আমরা হাসিমুখে তুলে ধরব নতুন বাবা-মায়েদের সেই ভয়াবহ নির্ঘুম রাতের গল্প, যা প্রেগন্যান্সি গাইডবইগুলোতে কেউ লিখে রাখে না!

১. ১৮ ঘণ্টার ঘুমের সেই 'কিস্তি' বা ধোঁকাবাজি (The Installment Plan)
বইপত্রে একদম ঠিকই লেখা থাকে যে নবজাতকরা দিনে ১৮ ঘণ্টা ঘুমায়। কিন্তু তারা এই অত্যন্ত জরুরি তথ্যটি লুকিয়ে রাখে যে, এই ঘুমটা টানা ১৮ ঘণ্টা নয়, বরং ২০ বা ৩০ মিনিটের ছোট ছোট 'কিস্তি' বা ইন্সটলমেন্টে হয়!

আপনি হয়তো আধা ঘণ্টা ধরে তাকে দোল দিয়ে, পিঠ চাপড়ে সবেমাত্র বিছানায় শুইয়েছেন। নিজের চোখের পাতাটা একটু এক করেছেন... ঠিক ৩ মিনিট পর "ওয়্যাঁআআআ"! মনে হয় যেন বাচ্চার পিঠে কোনো গোপন সেন্সর লাগানো আছে, যা ম্যাট্রেসের ছোঁয়া পেলেই অ্যালার্ম বাজিয়ে দেয়।

২. রাত ৩টার ডায়াপার যুদ্ধ (The 3 AM Blowout)
রাত তখন ৩টা বাজে। আপনার চোখ ঘুমে আঠা হয়ে আছে। হঠাৎ নাকে এল সেই পরিচিত 'সুগন্ধ'। মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে ডায়াপার খুলতেই দেখলেন সর্বনাশ! পুরো পিঠ পর্যন্ত মাখামাখি।

এবার শুরু হয় মিশন। ভেজা ওয়াইপস দিয়ে মুছতে গেলেই ঠান্ডা লেগে বাচ্চার সে কী আকাশফাঁটা কান্না! আর আপনার যদি ছেলে বাচ্চা হয়, তবে তো কথাই নেই—ডায়াপার খোলার সাথে সাথেই সে আপনাকে টার্গেট করে ফ্রি 'শাওয়ার' বা ফোয়ারা ছুটিয়ে দেবে! চোখ ডলতে ডলতে মাঝরাতে কাপড় বদলানোর এই যুদ্ধের কাছে বিশ্বযুদ্ধও কিছু না।

৩. ফ্যান্টম ক্রাই বা ভুতুড়ে কান্না (The Phantom Cries)
কয়েক রাত টানা না ঘুমানোর পর নতুন বাবা-মায়েদের এক অদ্ভুত মানসিক রোগ হয়, যাকে বলে 'ফ্যান্টম ক্রাই'। আপনি হয়তো পাঁচ মিনিটের জন্য বাথরুমে পানির কল ছেড়েছেন, আর আপনার মনে হচ্ছে বাথরুমের দরজার বাইরে বাচ্চা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে! শ্যাম্পু মাখা মাথা নিয়েই আপনি দৌড়ে বাইরে এসে দেখেন—বাচ্চা মহারাজার মতো নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। আপনার ব্রেন আসলে ঘুমের অভাবে আপনাকে হ্যালুসিনেশন দেখাচ্ছে!

৪. স্বামী-স্ত্রীর মাঝরাতের 'ডিউটি রোস্টার' (The Night Shift Blame Game)
প্রেগন্যান্সি আমলের সেই রোমান্টিক জুটি হঠাৎ করেই যেন নাইট-গার্ডের ডিউটিতে নেমে পড়ে। বাচ্চা মাঝরাতে কেঁদে উঠলেই দুজনই চোখ শক্ত করে বন্ধ করে মড়ার মতো পড়ে থাকার অ্যাক্টিং করে (যাতে অন্যজনকে উঠতে হয়)।

এরপর শুরু হয় ফিসফিস করে দরকষাকষি—"এবার তোমার পাল্লা, আমি কাল রাতে উঠেছিলাম!" "কই, আমি তো দুই ঘণ্টা আগেই ডায়াপার চেঞ্জ করলাম, এবার তুমি যাও!" মাঝরাতে চোখ বন্ধ রেখেই স্বামী-স্ত্রীর এই অদ্ভুত ব্লেইম-গেম প্রতিটি ঘরে ঘরেই চলে।

পরিশেষে
যারা আপনাকে বলেছিল "বাচ্চা ঘুমালে তুমিও ঘুমিয়ে নিও", তাদের আসলে ধরে আনা উচিত এই রাত ৩টার শিফটে! তবে সত্যি বলতে কী, এই জম্বির মতো নির্ঘুম রাতগুলো, চোখের নিচের এই বিশাল ডার্ক সার্কেল আর ডায়াপারের যুদ্ধ—সবকিছুই একদম জাদুর মতো গায়েব হয়ে যায়, যখন সকালবেলা ওই পুঁচকেটা আপনার দিকে তাকিয়ে প্রথমবার একটা বোকা বোকা, দাঁতহীন হাসি দেয়। তখন মনে হয়—এই হাসির জন্য এমন আরও হাজারটা রাত অনায়াসেই পার করে দেওয়া যায়!

📣 নতুন বাবা-মায়েদের এই নির্ঘুম রাতের মজার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করতে এবং টিপস পেতে জয়েন করুন আমাদের Kidora - Parenting Club ফেইসবুক গ্রুপে!

04/03/2026

আমার সংসার জীবন আগে শুরু হয় ,আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেন সমস্যা হয় নাই? মন তো চায় মন খুলে ফিরিস্তি দেই ,কোন শা,লা কি করেছে ,কিভাবে মেন্টাল টর্চার করেছে ... করার ট্রাই করেছে...

আমার একটা strong নীতি হচ্ছে ,ইগনোর এবং সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট ... তোমার লেভেলের সাথে যায় না ,তুমি যদি চিল্লাইতে চিল্লাইতে রক্ত বের করে ফেলও তাও আমি সিঙ্গেল আমার একটা ভাষা ব্যয় করবো না..

রাস্তায় থাকে ডেন্ডিখোর ,টোকাই , থাকে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী.. এখন আপনি পথ দিয়ে যাচ্ছেন আর এরা কমেন্ট পাস করছে আপনি খারাপ, আপনার এই সমস্যা ওই সমস্যা.. আপনি রিপ্লাই দিবেন জনে জনে যেয়ে বুঝাবেন , না ভাই আল্লাহর কসম আমি ভালো??

ওই ডেন্ডিখোর যদি বুঝেও আপনি ভালো তাইলে কি আপনি এই ডেন্ডিখর এর সাথে এক প্লেট এ খাবার খাবেন? ঘুরবেন ফিরবেন??

সো ওরে এক্সপ্লেইন করে লাভ কি??

এমন ডেন্ডিখোর দেখবেন আমাদের আশেপাশে আছে , এই ডেন্ডিখোর এর আগমন সব জায়গায় , ছোটবেলার বন্ধুর সার্কেলে এরা মিশে থাকে, বড় হয় পাশের ঘরে মিশে থাকে , বিয়ের পর ইন ল এর ফ্যামিলিতে মিশে থাকে! ইভেন নিজের ফ্যামিলিতে থাকে!!

এখন ডেন্ডিখোর দের কি করবেন ?? করতে তো মন চায় অনেক কিছুই , কানের ঠিক নিচে লাগায় নিজের ওকাত বুঝায় দেয়ার পক্ষে যদিও আমি, কিন্তু বাস্তবে সেটা পসিবল না, এই ডেন্ডিখোরদের মলম আলাদা...

ধরেন ডেন্ডিখোর আপনার বন্ধু মহলের কেউ, ওর থেকে দ্বিগুণ টাকা ইনকাম করবেন, দ্বিগুণ ভালো জায়গায় থাকবেন, দ্বিগুণ ভাবে ভালো পরিবার গঠন করবেন , আর ওই ডেন্ডিখোর চিল্লাবে "আপনি ভালো না , তুই ভালো না !" ওরে চিল্লাইতে দিবেন... এইটাই ওর শাস্তি , ওর সাথে একই জায়গায় থেকে , ও যাকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে , যাকে দিচ্ছে সে এক পয়সার ও পাত্তা দিচ্ছে না!!

বিয়ের পর দেখবেন ডেন্ডিখোর ডেন্ডিখোর আর ডেন্ডিখোর!! এইবার কি করবেন?

বিয়ের আগেই ডেন্ডিখোরদের দমন করার জন্য বেশ কিছু স্কিল ডেভেলপমেন্ট করবেন, ব্রেইন টা শার্প রাখবেন , হাতে পায়ে জোর রাখবেন ,সবচেয়ে বেশি জোর রাখবেন মনের..

বনিবনা হয় না দরকার নাই একসাথে একই ছাদের নিচে ডেন্ডিখোর এর সাথে থাকার ... একটা গোল সেট করবেন, জামাই কে দিয়ে কিংবা নিজে( এখন যারা বলবেন জামাই ভালো না ,অমুক তমুক তাইলে মনে রাখবেন এই জামাই টা ই ডেন্ডিখোর, একটাকেও বাদ দিতে হবে ) ধরেন জামাই ১৫ হাজার টাকার চাকরি করে, খোজ নিবেন ৩০ হাজার টাকার চাকরিতে জামাইকে সেট করতে কত স্কিল লাগবে ,কিংবা কি কি লাগবে, এক্সট্রা hour এ জামাই কে দিয়ে সেসব করবেন.. এক্সট্রা effort দিবেন জামাইকে গ্রো করতে হেল্প করবেন। এইটা জামাইকে দিয়ে উদাহরণ দিলাম।
আপনার যদি মনে হয় আপনার জন্য বেস্ট করতে পারেন আপনিও!

এরপর ঐযে ঘরের ডেন্ডিখোর ওকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাবেন ( দেখানোর দরকার ও হয় না ডেন্ডিখোরদের বুদ্ধি আবার প্রখর, ওরা বুঝে যায়!) দেখ একই জায়গা থেকে উঠে তোর আর আমার লেভেল টা দেখ! একদিন সামান্য সামান্য জিনিস নিয়ে টর্চার করতে এসেছিলি, দেখ আমি সরে তো গিয়েছি, অথচ তুই ডেন্ডিখোর, ওই একই জায়গায় পড়ে আসিস.. এটাই তো তোর শাস্তি...

মনে রাখবেন, আমাদের সমাজে সবচেয়ে মিথ্যা যারা বলে প্রায় সময় এরা আল্লাহ খোদার কসম কেটে , মেকী কান্নাকরে , ডেন্ডিখোর এর সাথে বদলা যদি নিতে চান রং ওয়ে তে দেখবেন কোনদিন না কোনদিন জানি আপনি নিজেও মিনি ডেন্ডিখোর হয়ে যাবেন!!

তাই ভাই ডেন্ডিখোরদের সাথে কোনো আলাপ না , কোনো বৈঠক না ,কোনো মীমাংসা না...

ডেন্ডিখোরদের জবাব দিবেন কাজে ,ডেন্ডিখোর এর সর্বোচ্চ শাস্তি এটাই যে ও আগেও আপনার পিছনেই কথা বলত আর এখন কথা বলবে আপনার নিচে...

ঝগড়া কাইজ্জা তার সাথে করবেন যে আপনার উপর,ভালো মানুষের সাথে কাইজ্জা করলেও অনেক কিছু শিখতে পারবেন , জিদ উঠলে ওর লেবেল ছাড়িয়ে উপরে উঠলে দেখবেন সেটা ও লাভ !!

তাই ডেন্ডিখোর দের থেকে দূরে থাকুন , এই পোস্ট কোনো ডেন্ডিখোর এর গায়ে লাগলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত না, তুই আর খারাপ কিছু ডিজার্ভ করিস , তোরে নিয়ে অল্প কিছুই লিখলাম রে পাগলা!!

আপনার জীবনে এমন ডেন্ডিখোর কি আছে??

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইনু আর ইনুর আম্মু posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share