10/09/2026
যে মুহূর্তে তুমি বুঝবে আর এক সেকেন্ডও তোমার নয়
ভাবো, তুমি বিছানায় শুয়ে আছো। চারপাশে তোমার আপন মানুষগুলো। কেউ তোমার হাত ধরে আছে, কেউ ডাকছে, কেউ বলছে, “চোখ খোলো…”। অথচ তুমি বুঝতে শুরু করেছো—তোমার শরীরটা আর তোমার কথা শুনছে না। তুমি কথা বলতে চাইছো, কিন্তু পারছো না। তুমি আরও কিছুক্ষণ থাকতে চাইছো, কিন্তু সময়টা আর তোমার হাতে নেই। কুরআন সেই মুহূর্তকে বলে “মৃত্যুযন্ত্রণা”
“মৃত্যুর যন্ত্রণা সত্যিই এসে উপস্থিত হবে; এটাই সেই জিনিস, যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।” - সূরা কাফ, ৫০:১৯।
সেই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ আর সবচেয়ে গরিব মানুষ একই জায়গায় দাঁড়াবে। যার কোটি টাকা ছিল, সে এক টাকাও সঙ্গে নিতে পারবে না। যার হাজার মানুষ ছিল, তারাও তার রূহের বদলে কিছু করতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, “যখন কারও নির্ধারিত সময় এসে যায়, তখন আল্লাহ কখনো তাকে অবকাশ দেন না।” - সূরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩:১১।
তারপর আসে সেই ফেরেশতা, যিনি তোমার রূহ কবজ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। আল্লাহ বলেন, “বলো, তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ নিয়ে নেবে; তারপর তোমাদের তোমাদের রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” - সূরা আস-সাজদাহ, ৩২:১১।
কিন্তু সবচেয়ে কাঁপিয়ে দেওয়ার বিষয় হলো- মৃত্যুর মুহূর্তে তুমি জানতে পারবে, তুমি কোথায় যাচ্ছো। মুমিনের জন্য ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে আসে; কুরআনে এসেছে, তারা বলে, “ভয় পেয়ো না এবং দুঃখ করো না; তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো।” - সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৩০। আর যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে তাদের মৃত্যুর সময় কঠিন অবস্থার কথা কুরআনে এসেছে। - সূরা আল-আনফাল, ৮:৫০।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মুমিনের মৃত্যুর মুহূর্তের বর্ণনায় বলেছেন, মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে বলেন, “হে প্রশান্ত আত্মা, বেরিয়ে এসো তোমার রবের ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে।” তারপর তার রূহ সহজভাবে বের হয়ে আসে। আর পাপী/অবিশ্বাসীর রূহের ব্যাপারে এসেছে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক বর্ণনা। - সুনান আবু দাউদ, ৪৭৫৩।
আর তখন হয়তো তোমার মনে পড়বে সেই নামাজটা, যেটা তুমি বলেছিলে “পরে পড়ব।” সেই তওবাটা, যেটা তুমি বলেছিলে “আরেকটু পরে করব।” সেই গুনাহটা, যেটা তুমি ভেবেছিলে “এটা তো ছোট ব্যাপার।” সেই মানুষের কথা, যাকে তুমি ক্ষমা করোনি। সেই মায়ের ফোন, যেটা তুমি ব্যস্ততার অজুহাতে কেটে দিয়েছিলে। সেই সিজদা, যেটা করার জন্য তোমার কাছে সময় ছিল, কিন্তু তুমি সময় দাওনি।
কিন্তু তখন?
তখন আর “পরে” বলে কিছু থাকবে না।
কুরআন বলে, মৃত্যুর সময় এসে গেলে মানুষ বলবে, “হে আমার রব, আমাকে ফিরিয়ে দিন। যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি, সেখানে সৎকাজ করতে পারি।” কিন্তু তাকে বলা হবে “কখনোই নয়।” - সূরা আল-মুমিনূন, ২৩:৯৯–১০০।
একটু থেমে ভাবো।
তুমি যে জীবনটাকে নিজের বলে চালিয়ে যাচ্ছো, সেটার শেষ মুহূর্তের ওপর তোমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
তুমি জানো না তোমার শেষ নামাজ কোনটা।
জানো না শেষবার কখন কুরআন খুলবে।
জানো না শেষবার কাকে “ভালোবাসি” বলবে।
জানো না কোন রাতটা তোমার দুনিয়ার শেষ রাত।
শুধু জানো, মৃত্যু আসবেই।
আর যখন আসবে, তখন পৃথিবীর কোনো password, কোনো bank balance, কোনো পরিচিতি, কোনো ক্ষমতা, কোনো “আরেকটু সময়”- কিছুই তোমাকে এক মুহূর্ত কিনে দিতে পারবে না।
সেদিন শুধু একটা জিনিস তোমার সঙ্গে যাবে।
তোমার আমল।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মানুষের পরিবার ও সম্পদ তার সঙ্গে যায়, কিন্তু তারা ফিরে আসে; তার আমল তার সঙ্গে থেকে যায়। - সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
তাই ভয় পাও।
মৃত্যুকে নয় শুধু, অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুকে ভয় পাও।
আজও সময় আছে। আজও তুমি সিজদায় যেতে পারো। আজও বলতে পারো, “ইয়া আল্লাহ, আমি ফিরে এসেছি।”
কারণ একদিন এমন একটা সকাল আসবে:
যেদিন তুমি ঘুম থেকে উঠবে না।
আর এমন একটা মুহূর্ত আসবে-
যখন তোমার পৃথিবীর সব ঘড়ি চলবে, কিন্তু তোমার সময় থেমে যাবে।