07/06/2026
১৯৭৩ সালে আটজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের কারো কোনো মানসিক রোগ ছিল না, আর হাসপাতালের কোনো বিশেষজ্ঞ সেটা বুঝতেও পারেননি! 🧠
এটি কোনো ভুল ছিল না। এটি ছিল স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডেভিড রোজেনহানের একটি যুগান্তকারী পরীক্ষা। তিনি একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেয়েছিলেন— চিকিৎসকরা কি সত্যিই সুস্থ মানুষ আর মানসিক রোগীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন?
এই আটজন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী, একজন গৃহিণী, একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী। হাসপাতালে গিয়ে তারা মাত্র একটি মিথ্যা বলেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তারা কানে শুধু তিনটি শব্দ শুনতে পাচ্ছেন— "ফাঁকা (Empty)", "শূন্য (Hollow)" এবং "ধপ (Thud)"।
ব্যস, এটুকুই! আটজনকেই সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হলো।
হাসপাতালে ঢোকার পর মুহূর্ত থেকেই তারা আর কোনো অভিনয় করেননি। তারা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং ডাক্তারদের জানান যে তারা এখন সুস্থ এবং বাড়ি ফিরে যেতে চান। 🚪
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডাক্তার বা নার্সরা তাদের কথা বিশ্বাস তো করলেনই না, উল্টো তাদের স্বাভাবিক কাজগুলোকেও রোগের লক্ষণ হিসেবে লিখে রাখলেন! তাদের ডায়েরি লেখাকে বলা হলো 'অবসেসিভ বিহেভিয়ার', আর ভদ্রভাবে কথা বলাকে ধরে নেওয়া হলো মানসিক রোগের একটি ধাপ হিসেবে।
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা তাদের সুস্থতা ধরতে না পারলেও, মজার ব্যাপার হলো সেখানকার আসল মানসিক রোগীরা ঠিকই তাদের আসল পরিচয় ধরে ফেলেছিলেন! তারা ফিসফিস করে বলতেন, "তুমি তো পাগল নও, তুমি নিশ্চয়ই কোনো সাংবাদিক।"
সাত জনকে 'সিজোফ্রেনিয়া' রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গড়ে ১৯ দিন (সর্বোচ্চ ৫২ দিন) তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়। ⏳
রোজেনহান যখন তার এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেন, তখন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মাঝে ঝড় ওঠে। একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল রোজেনহানকে চ্যালেঞ্জ করে বসে, "আমাদের কাছে ভুয়া রোগী পাঠিয়ে দেখান, আমরা ঠিকই ধরে ফেলব।"
রোজেনহান রাজি হলেন। পরবর্তী কয়েক মাসে সেই হাসপাতাল ৪১ জন রোগীকে "ভুয়া" বা সুস্থ বলে চিহ্নিত করে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু ভয়ংকর সত্যটি হলো— রোজেনহান সেখানে নতুন করে একজন ভুয়া রোগীও পাঠাননি! অর্থাৎ, যাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা সবাই ছিলেন সত্যিকারের রোগী।
এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছিল, একবার কারো গায়ে কোনো 'লেবেল' বা তকমা লেগে গেলে, চারপাশের মানুষ আর বাস্তবতাকে পাত্তা দেয় না, সবকিছুকে সেই তকমার চোখেই বিচার করে। মানুষের ভুল ধারণা অনেক সময় পাগলামির চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে।
কালেক্টেড পোস্ট।