Raba Qan

Raba Qan painting, drawing, crafting, titles crafting, interior

11/09/2026
12/08/2026

আমার মেয়ের বয়স তখন মাত্র দুই বছর। মেয়েকে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলাম ট্রেনে। ওর জীবনের সেটাই ছিল প্রথম ট্রেনযাত্রা।

মেয়ে কোনোভাবেই সিটে বসবে না। আমার কোলেও বসবে না, ওর দিদির কোলেও বসবে না। সিট খালি, অথচ আমাকে ওকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকে খুব একটা কান্নাকাটি করত না। কিন্তু ও ট্রেনের মাঝখানে হাঁটাহাঁটি করতে চাইত। ট্রেনের মধ্যে তো আর ওকে সেভাবে হাঁটতে দেওয়া যায় না। তাই উপায় না পেয়ে ওকে কোলে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম।

কখনো সিটের পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, কখনোবা ট্রেনের মাঝখানে হাঁটাহাঁটি করে—এভাবে প্রায় অর্ধেক রাস্তা, তিন থেকে চার ঘণ্টার মতো, আমি ওকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম যতক্ষণ না পর্যন্ত ও ঘুমিয়ে গিয়ে ছিলো।

অনেক বাচ্চাদেরকে শান্ত করবার জন্য বাবা-মা হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে দেয়, আমিও যদি ওর হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে দিতাম তাহলে ওর হয়তো ও সিটে বসে বসে ভিডিও দেখতো। আমাকে হয়তো তখন চার ঘন্টা ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না ওকে কোলে নিয়ে। কিন্তু তাহলে এই মধুর স্মৃতিকে মনে করে, আমি এই অদ্ভুত শান্তি অনুভব করতাম না।

মাঝে মাঝে এই স্মৃতি মনে পড়ে। আর আমাকে অসম্ভব ভালোবাসার অনুভূতিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

আর সেটা আমাকে মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেয়—কত স্নেহ, কত আদরে, কত চমৎকার মুহূর্ত ছিল। যা আমি কোনো কিছুর বিনিময়ে আর কোনোদিন ফেরত পাব না।

এখনো আছে অনেক ভালোবাসার মুহূর্ত। শুধু মেয়েটা আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাচ্ছে।

এখন আমি আর ওকে আগের মতো কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। এটা আমি খুব মিস করি।

আগে চাইলেই ওকে কোলে নিয়ে ফেলতে পারতাম। এ
এইতো বছরখানেক আগেও ওর খুব কোলে ওঠার অভ্যাস ছিল। বারবার বলত, “আমাকে কোলে নাও।”

এখন ওকে কোলে নিতে গেলেও অনেক কষ্ট করে কোলে নিতে হয়।

ওর খুব কোলে ওঠার শখ ছিল। এখন সেই সময়গুলো ভীষণ মিস করি।

কখনো কখনো মনে হয়, যদি কোনো যাদুর কাঠি থাকত! ওকে চট করে আবার ছোট করে ফেলা যেত। ইনফ্যাক্ট, ছোটই থাকত।

সেই কোলে নেওয়া, ছোট্ট ছোট্ট করে হাঁটা, ছোট্ট ছোট্ট কথা বলা—সবকিছুই খুব মনে পড়ে।

মেয়েটা তো লক্ষ্মী। কোনো কিছুতেই খুব একটা বিরক্ত করতো না। কিন্তু ছিল ভালোবাসার পাগল। শুধু চায় প্রচণ্ড ভালোবাসা।

আর আমি সেই ছোট্ট মেয়েটাকে খুব মিস করি। ❤️

10/08/2026

আমার পিচ্চি মেয়েটা বড় হয়ে যাচ্ছে।

একটা সময় ছিল, ওকে দেখতে দেখতেই আমার দিন কেটে যেত। কখন একটু বড় হলো, কখন কথা বলার ধরন বদলালো, কখন নিজের মতো করে ভাবতে শিখলো—কিছুই যেন টের পেলাম না।

এখনো ওকে দেখি।

শুধু পার্থক্য হলো—এখন ওর বড় হয়ে ওঠাটা চোখে পড়ে।
এখনো একটা শিশু ছোট একটা ভুল করলে মানুষ হেসে বলে,
“আহা, বাচ্চা তো!”

কিন্তু আর কয়েক বছর পর?

সেই একই শিশুর ভুল তখন আর “ভুল” থাকবে না।

হয়ে যাবে—
“স্বভাব।”
“অভ্যাস।”
“বদমাশির লক্ষণ।”
“দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।”
“আজকালকার বাচ্চাদের সমস্যা।”

কিন্তু একটা প্রশ্ন কি আমরা করব?
সে এমন হলো কেন?
আমরা কি কখনো আচরণের পেছনের কারণ খুঁজতে শিখেছি?

নাকি মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে সহজ কাজটাই আমরা করি—
দোষী খুঁজি।
একটা শিশু রুড?
রুড কেন?
একটা শিশু দায়িত্বজ্ঞানহীন?
দায়িত্ব শেখানো হয়েছিল কি?
একটা শিশু মিথ্যা বলে?
সত্য বললে সে নিরাপদ ছিল কি?
একটা শিশু প্রচণ্ড রাগী?
তার রাগের ভাষা কি কেউ কখনো বুঝতে চেয়েছে?
একটা শিশু চুপচাপ?
সে কি শান্ত, নাকি ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে?
আমরা খুব অদ্ভুত এক সমাজে বাস করি।

আমরা শিশুকে মানুষ করার চেয়ে শিশুকে বিচার করতে বেশি আগ্রহী।

আমরা চাই শিশু disciplined হোক, কিন্তু তাকে discipline শেখানোর সময় নেই।

আমরা চাই সে responsible হোক, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তার সব কাজ আমরা নিজেরা করে দিই।

আমরা চাই সে emotionally mature হোক, কিন্তু তার সামনে নিজেদের রাগ, ঝগড়া, অপমান, হতাশা—সবকিছু নির্দ্বিধায় প্রকাশ করি।

তারপর একদিন যখন সেই শিশুই আমাদের আচরণের প্রতিফলন হয়ে ফিরে আসে, আমরা অবাক হয়ে বলি—

“বাচ্চাটা এমন হয়ে গেল কেন?”

শিশু আসলে খুব নিষ্পাপ একটা আয়না।

আপনি তার সামনে যা রাখবেন, সে তার কিছু না কিছু ফিরিয়ে দেবে।

আপনি তাকে সম্মান দিলে সে সম্মান শিখবে।
আপনি তাকে অপমান করলে সে অপমান শিখবে।
আপনি তাকে দায়িত্ব দিলে সে দায়িত্ব শিখবে।
আপনি সবসময় তার হয়ে কাজ করে দিলে সে নির্ভরশীল হতে শিখবে।
আপনি তাকে ভয় দেখালে সে ভয় শিখবে।
আপনি তাকে কথা বলার সুযোগ দিলে সে যোগাযোগ শিখবে।

শিশুকে শুধু উপদেশ দিয়ে বড় করা যায় না।
শিশুকে পরিবেশ দিয়ে বড় করতে হয়।

জাপানের শিশুদের নিয়ে আমরা প্রায়ই উদাহরণ দিই।
ছোটবেলা থেকেই নিজেদের কাজ নিজেরা করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা—এসবের সঙ্গে তাদের পরিচয় করানো হয়।

আর আমরা?

অনেক সময় শিশুর হাত থেকে কাজটা কেড়ে নিয়ে নিজেরাই করে দিই।
তারপর কয়েক বছর পর অভিযোগ করি—
“এই বাচ্চার কোনো sense of responsibility নেই!”
Responsibility মুখস্থ করানো যায় না।
Responsibility practice করাতে হয়।
আর discipline কোনো lecture নয়।
Discipline একটা culture।

এবার আসি আমাদের সমাজের আরেকটা বড় সমস্যায়—

আমরা শিশুদের খুব দ্রুত label করে দিই।

“মোটা।”
“কালো।”
“খাটো।”
“বাট্টু।”
“দেখতে ভালো না।”
“রুড।”
“বেয়াদব।”
“দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
একটা শিশু হয়তো তখন হাসছে।

কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত, সে কথাটা তার ভেতরে ঢোকেনি?

শৈশবে বলা একটা বাক্য কখনো কখনো একজন মানুষের সারা জীবনের insecurity হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা একটা শিশুকে body shame করি, তারপর বড় হয়ে তার confidence কমে গেলে বলি—

“ও এত insecure কেন?”

আমরা তাকে অন্যের সঙ্গে compare করি, তারপর বড় হয়ে সে নিজের জীবনকে অন্যের জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে থাকলে বলি—

“ও নিজের ওপর বিশ্বাস করে না কেন?”

আমরা তার কথা বারবার অগ্রাহ্য করি, তারপর বড় হয়ে সে যখন কারও কথা শুনতে চায় না, তখন বলি—

“ও খুব stubborn!”

অদ্ভুত না?

আমরা অনেক সময় যে আচরণের বীজ নিজেরাই বপন করি, বড় হয়ে সেই আচরণের ফলের জন্য শিশুকেই দোষ দিই।

আর adolescence?
সেটা তো আরও জটিল একটা সময়।
একটা কিশোর বা কিশোরী হঠাৎ রুড হয়ে গেলেই আমরা বলি—

“আজকালকার ছেলেমেয়েদের attitude দেখেছ?”
কিন্তু তার ভেতরে তখন কী চলছে?

Hormonal change।
Identity crisis।
Peer pressure।
Bullying।
Body image।
Academic pressure।
Family conflict।
Loneliness।
Social media।

নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা।
গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা।
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যুদ্ধ।
হাজারটা কারণ থাকতে পারে।
কিন্তু আমরা কারণ খুঁজি না।

আমরা character certificate দিয়ে দিই।

“তুমি রুড।”
“তুমি খারাপ।”
“তুমি বদলে গেছ।”

কখনো কি বলি—

“তোমার ভেতরে কী হচ্ছে, আমাকে বলবে?”
আমাদের শিশুরা শুধু ঘরে বড় হয় না।
তারা স্কুলে বড় হয়।
বন্ধুদের মধ্যে বড় হয়।
ইন্টারনেটে বড় হয়।
YouTube-এ বড় হয়।
Facebook, TikTok, Instagram-এ বড় হয়।
তাদের classmates তাদের শেখায়।
তাদের teachers শেখায়।
আমাদের কথাবার্তা শেখায়।
আমাদের আচরণ শেখায়।
আমাদের সমাজ শেখায়।

তাই একটা শিশুকে বুঝতে হলে শুধু শিশুটাকে দেখলে হবে না।

দেখতে হবে—

তার চারপাশটা কেমন।
সে কার সঙ্গে মিশছে?
কী দেখছে?
কী শুনছে?
কী ভাষায় কথা বলছে?
তার বন্ধুদের আচরণ কেমন?
স্ক্রিনে কী ধরনের content ঢুকছে?
বাড়িতে কী ধরনের emotional environment?
স্কুলে সে নিরাপদ তো?
কেউ তাকে bully করছে কি না?
সে কাউকে bully করছে কি না?

এসব প্রশ্ন না করে শুধু বললাম—

“বাচ্চাটা খারাপ।”
এটা parenting নয়।
এটা বিচার।
আর আমাদের সমাজ বিচার করতে খুব ভালোবাসে।

আমরা পশ্চিমা সমাজকে অনেক সময় “সভ্য” বলি।

কিন্তু সভ্যতার একটা বড় শিক্ষা হলো—
freedom-এর পাশাপাশি accountability থাকতে হয়।
আইন ভাঙলে consequence আছে।
অন্যায় করলে জবাবদিহিতা আছে।
নিয়ম আছে।
সিস্টেম আছে।
সেখানে মানুষ perfect নয়।
Crime হয়।
Aggression আছে।
মানুষের দুর্বলতা আছে। কিন্তু একটা কাঠামো আছে, যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—

“তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে না।”

আর যেখানে নিয়ম দুর্বল, জবাবদিহিতা দুর্বল, শাস্তির নিশ্চয়তা দুর্বল—সেখানে মানুষ ধীরে ধীরে অন্যায়কে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে। তারপর আরও ভয়ংকর একটা জিনিস ঘটে। মানুষ নিজের অন্যায়কে justify করার জন্য নতুন নতুন যুক্তি তৈরি করে। ধর্ম, নৈতিকতা, সমাজ—সবকিছুকেই কখনো কখনো নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করা শুরু করে।

“ভুল করেছি, পরে ক্ষমা চেয়ে নেব।”

কিন্তু ক্ষমা চাওয়া যদি একই অন্যায় বারবার করার license হয়ে যায়—তাহলে সেটা অনুতাপ নয়। সেটা self-justification।

আমাদের সমস্যা শুধু এই নয় যে আমরা ভুল করি। মানুষ ভুল করবেই। আমাদের বড় সমস্যা হলো, আমরা ভুলের দায় নিতে চাই না। আমরা কারণ খুঁজতে চাই না।
আমরা নিজেদের দেখতে চাই না। আমরা বরং একজন মানুষকে দোষী বানিয়ে স্বস্তি পেতে চাই। কারণ অন্যকে দোষ দেওয়া খুব সহজ। নিজেকে প্রশ্ন করা কঠিন। তাই কোনো শিশুকে পরেরবার বিচার করার আগে একবার থামুন। তারপর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—

“এই শিশুটাকে আমরা কী দিয়েছি?”

নিয়ম দিয়েছি?

নাকি শুধু নিয়মের কথা বলেছি?

দায়িত্ব দিয়েছি?

নাকি সব কাজ নিজেরা করে দিয়েছি?

নিরাপত্তা দিয়েছি?

নাকি ভয়ের পরিবেশ দিয়েছি?

ভালোবাসা দিয়েছি?

নাকি ভালোবাসার সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়েছি?

সম্মান দিয়েছি?

নাকি প্রতিদিন তার চেহারা, শরীর, বুদ্ধি, ফলাফল আর আচরণ নিয়ে মন্তব্য করেছি?

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—

আমরা নিজেরা কি সেই মানুষটি হয়েছি, যেরকম মানুষ আমাদের সন্তানকে হতে বলছি?

কারণ শিশুরা আমাদের কথা যতটা শোনে, তার চেয়ে অনেক বেশি—আমাদের দেখে।

আমরা যদি সত্যিই একটা ভালো প্রজন্ম চাই, তাহলে শুধু সন্তানকে বদলানোর প্রকল্প শুরু করলে হবে না।

নিজেদেরও একটু বদলাতে হবে।

তার character নিয়ে কথা বলার আগে তার পৃথিবীটা একবার দেখুন।

তাই প্রশ্নটা শুধু—“আমাদের বাচ্চারা কেমন হয়ে যাচ্ছে?”

প্রশ্নটা হওয়া উচিত—“আমরা তাদের কী হতে শিখিয়েছি?”

কারণ আগামী প্রজন্মকে বদলানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—আগে নিজেদের আয়নায় দেখা।

Acrylic painting
09/08/2026

Acrylic painting

এক সকালে গ্রেগর সামসা ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করল যে সে এক বিশাল পোকায় রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু কাফকার গল্প আসলে কোনো পো...
31/05/2026

এক সকালে গ্রেগর সামসা ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করল যে সে এক বিশাল পোকায় রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু কাফকার গল্প আসলে কোনো পোকা হওয়ার গল্প নয়; এটি মানুষের একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা এবং সমাজ ও পরিবারের কাছে তার মূল্য হারানোর গল্প।
যতদিন গ্রেগর পরিবারের উপার্জনের উৎস ছিল, ততদিন সে ছিল প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন সে আর পরিবারের কাজে লাগল না, তখন ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠল বোঝা। Metamorphosis আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অনেক সময় মানুষ তার মানবিক সত্তার জন্য নয়, বরং তার উপযোগিতার জন্য মূল্যায়িত হয়।

ফ্রানৎস কাফকার এই কালজয়ী গল্প আজও প্রশ্ন তোলে: মানুষ কি তার অস্তিত্বের জন্য ভালোবাসা পায়, নাকি তার প্রয়োজনীয়তার জন্য?

তাই মানুষের ভালোবাসা না মানুষের প্রয়োজন হয়ে ওঠাটাই অস্তিত্বকে নিশ্চিত করে।

23/05/2026

আমরা এমন এক দেশে বাস করি—
যেখানে একজন তামাক ব্যবসায়ী নির্বাচনের ব্যানারে লিখে,
“মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই।”

সে প্রকাশ্যে বিষ বিক্রি করে,
আর প্রকাশ্যেই নৈতিকতার ভাষণ দেয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—
সমাজ এটা দেখে, বুঝে, তারপরও চুপ থাকে।

যে সমাজ ভণ্ডামিকে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলে,
সেই সমাজে অপরাধ, দুর্নীতি আর নৈতিক পতন কখনো থামে না।

সমস্যা আমাদের নীরবতাও।

23/05/2026

আমরা প্রতিদিন “সভ্যতা”, “উন্নয়ন”, “ডিজিটাল বাংলাদেশ”, “স্মার্ট সমাজ” — এসব শব্দ বলি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আসলে কেমন সমাজে পরিণত হচ্ছি?

ড্রাগ অ্যাডিকশন, সহিংসতা, পর্নোগ্রাফির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, শিশু নির্যাতন, পেডোফিলিয়া— এগুলো এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না; এগুলো আমাদের সামাজিক ও মানসিক অবক্ষয়ের ভয়ংকর লক্ষণ।
আজ মোবাইল ফোন হাতে থাকা মানেই একজন মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে অন্ধকার, বিকৃত এবং নোংরা কনটেন্টের সামনে একা দাঁড়িয়ে থাকা। ভিপিএন ব্যবহার করে যেকোনো সাইটে প্রবেশ, যেকোনো কনটেন্ট দেখা— সবকিছু এত সহজ হয়ে গেছে যে নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যবোধ যদি পরিবার ও সমাজ থেকে তৈরি না হয়, তাহলে একজন মানুষ খুব সহজেই বিকৃতির দিকে চলে যেতে পারে।

আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হওয়া উচিত ইন্টারনেট অ্যাকসেসকে নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ করা। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অনলাইন কনটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
আমাদের দেশেও এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে পর্নোগ্রাফি, শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট, সহিংস ও বিকৃত সাইটে প্রবেশ সহজ না হয়। কারণ মানুষ যা প্রতিদিন দেখে, তা ধীরে ধীরে তার চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা এবং আচরণকে প্রভাবিত করে।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে— শিশুদেরকে শিকার বানানোর প্রবণতা।
একটি শিশু দুর্বল, নির্ভরশীল, ভীত— আর এই কারণেই বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষদের কাছে তারা “সহজ টার্গেট” হয়ে যায়। এটা শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা না; এটা মানবিকতার পতন।

আরেকটা বিষয় আমরা প্রায়ই এড়িয়ে যাই— অপরাধীর পাশে দাঁড়িয়ে অপরাধ লুকানো মানুষদের মনস্তত্ত্ব।
কোন পরিস্থিতিতে একটি স্ত্রী তার স্বামীর ভয়ংকর অপরাধ গোপন করে?
কোন ভয়, চাপ, নির্যাতন, মানসিক নিয়ন্ত্রণ বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স একজন নারীকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যেখানে সে সত্য বলতেও ভয় পায়?

এই প্রশ্নগুলো আমাদের করতে হবে।
কারণ অনেক সময় অপরাধের পেছনে শুধু একজন অপরাধী না, একটি অসুস্থ পারিবারিক কাঠামো, ভয়ভিত্তিক সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন এবং সামাজিক নীরবতাও কাজ করে।

আমরা বড় বড় কথা বলি— কিন্তু আমাদের মূল্যবোধ প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছে।
নৈতিকতা হারালে মানুষ শিক্ষিত হতে পারে, ধনী হতে পারে, ক্ষমতাবান হতে পারে— কিন্তু মানুষ থাকতে পারে না।

একটা জাতি তখনই ধ্বংসের দিকে যায়, যখন অপরাধ তাকে আর কাঁপায় না।
যখন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়।
যখন মানুষ নিজের বিবেকের সামনে দাঁড়াতে পারে না।

এখন সময় এসেছে শুধু আবেগী প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে গভীরভাবে ভাবা—
আমরা কেমন সমাজ তৈরি করছি?
আমাদের সন্তানরা কেমন পৃথিবীতে বড় হচ্ছে?
এবং আমরা কি সত্যিই মানুষ হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছি?

বাংলার মাটিতে ইতিহাস কখনও শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, ইতিহাস কখনও কখনও শিশুর জলরঙের তুলিতেও নতুন প্রাণ খুঁজে পায়।আমার ছ...
22/05/2026

বাংলার মাটিতে ইতিহাস কখনও শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, ইতিহাস কখনও কখনও শিশুর জলরঙের তুলিতেও নতুন প্রাণ খুঁজে পায়।

আমার ছোট্ট মেয়ের আঁকা এই ষাট গম্বুজ মসজিদ যেন ঠিক তেমনই এক বিস্ময়।

শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদ কেবল একটি স্থাপত্য নয়; বাংলার ঐতিহ্যের গভীর নিঃশ্বাস। পঞ্চদশ শতকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আমাদের সভ্যতার এমন এক স্মারক, যেখানে ধর্ম, শিল্প, সংস্কৃতি এবং মানুষের সহাবস্থান একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

আমার মেয়েটি কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই, শুধু নিজের মুগ্ধতা আর অনুভূতি দিয়ে ছবিটি এঁকেছে। জলরঙের ভেতর সে হয়তো ধরতে চেয়েছে বিকেলের নরম আলো, পুরোনো দেয়ালের নিঃশব্দ ইতিহাস, আর সেই আকাশ—যার নিচে মানুষ যুগের পর যুগ প্রার্থনা করেছে শান্তির জন্য।

খুলনায় থাকার সুবাদে ছোটবেলায় বহুবার যাওয়া হয়েছে ষাট গম্বুজ মসজিদ–এ। প্রতিবারই মনে হয়েছে, আমি যেন কেবল একটি স্থাপত্য দেখছি না, ইতিহাসের এক গভীর, নীরব দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। মসজিদের ভেতরে ঢুকে যে প্রশান্তি অনুভব করেছি, তা ভাষায় সম্পূর্ণ বলা যায় না। শীতল দেয়ালগুলো ছুঁয়ে মনে হতো, শত শত বছরের সময় যেন সেখানে নীরবে জমে আছে।

মসজিদের চারপাশে ছিল অপূর্ব ফুলের বাগান। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেত ফুলের রঙ, সুবাস আর সৌন্দর্য। মালিরা যত্ন করে লাগাতেন নানান সিজনাল ফুল—কখনও গাঁদা, কখনও ডালিয়া, কখনও অচেনা রঙের ছোট ছোট ফুল। সেই ফুলে ঘেরা প্রাচীন মসজিদটিকে আমার কাছে মনে হতো এক আশ্চর্য শান্তির দ্বীপ, যেখানে ইতিহাস আর প্রকৃতি একসাথে নিঃশব্দে বসবাস করে।

আজ আমার ছোট্ট মেয়ের জলরঙে আঁকা সেই মসজিদের ছবি দেখে হঠাৎ মনে হলো, আমি যেন আবার ফিরে গেছি আমার সেই শৈশবে। আবার যেন ছুঁয়ে দেখতে পাচ্ছি সেই পুরোনো দেয়াল, আবার দেখতে পাচ্ছি মসজিদের সামনে রঙিন ফুলের বাগান, বাতাসে ভেসে আসা নরম গন্ধ, বিকেলের আলোয় নুয়ে পড়া গম্বুজের ছায়া। আমার মেয়ের ছোট্ট তুলির আঁচড় যেন আমাকে সময়ের ভেতর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে গেল বহু বছরের পুরোনো এক স্মৃতির কাছে।

শিশুরা পৃথিবীকে ভিন্ন চোখে দেখে। তারা ইতিহাসকে শুধু বইয়ের তথ্য হিসেবে দেখে না; তারা তাকে অনুভব করে, রঙে রঙে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলে। তাই এই ছবিটি শুধু একটি আঁকা ছবি নয়—এ যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে স্মৃতি, মুগ্ধতা আর ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার নীরব সেতুবন্ধন।

21/05/2026

You and me, our Funtime and memories,,,

Address

Extra Pallabi
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raba Qan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Raba Qan:

Shortcuts

Share