18/10/2026
আমরা যখন কোন ভাল কাজ করি ওই মুহূর্তটা আমাদের ভেতরে একটা অহং বোধ কাজ করে(সবাই না) ।অন্য যারা ওই মুহূর্তে কাজটা করছে না , বা আপনি ভাবছেন তারা বিষয়টা পারে না, করবে না, তাদের সেই জ্ঞানটা নেই,
তাদের থেকে নিজেকে ভালো মনে হয় ,সেরা মনে হয়, মনে হয় আমি এগিয়ে আছি। তাইতো?
বিষয়টা কেমন, নামাজের সময় , আপনি নামাজ পড়তে চলে গেলেন এবং আপনার আশপাশে থাকা মানুষগুলোর কেউই নামাজে গেল না ঐ মুহূর্তে ,আপনার ভেতরে কিন্তু একটা অহং বোধ কাজ করছে ,যে আমি নামাজটা পড়ছি ,ওরা পড়ছে না, আমি ওদের থেকে এগিয়ে আছি আমি ওদের থেকে ভালো।
আবার কেউ আপনার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাইলো এবং আপনাকে জানালো যে সে অমুক অমুক বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছেও চেয়েছিল কিন্তু পায়নি, আপনি তখন তাকে সাহায্য করলেন এবং আপনার ভেতরে অহং কাজ করলো যে আমি ওই অমুক অমুকের থেকে একটা বেশি ভালো কাজ করে ফেললাম, আমি ওদের থেকে ভালো।
রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা দেখলেন আপনি দৌড়ে গিয়ে তাদের সাহায্য করলেন, খুবই ভালো কথা, কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি আপনার আশপাশের লোকজনের দিকে তাকিয়ে মনে হয় এদের অপেক্ষা তো আমি ভালো, আমি এদের সাহায্য করেছি এইসব লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে তাদের অপেক্ষা আমি ভালো, এটাই আপনার অহং বোধ।
আল্লাহ যাকে যখন যে ভালো কাজটা করার তৌফিক দিবে সে তখন সেই কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে।
আপনি কিছুক্ষণ আগে করে ফেললেন কিংবা অন্য কেউ করার আগে আপনি কাজটা করার সুযোগ পেলেন এতে আপনি সৃষ্টিকর্তাকে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন যে ,হে মাবুদ, আপনি আমাকে এই কাজটা করার সুযোগ দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ ।
মনের মধ্যে কখনোই অমুক-তমুক আশেপাশের লোকজনকে নিয়ে আসবেন না যে ওরা তো করল না কিন্তু আমি এখন করে নিলাম এই অহংকার টা করা যাবে না ।
আল্লাহ ভাল জানেন,এমনও হতে পারে আপনার এই শুধু অহং বোধের জন্য আপনার ভালো কাজের যে নেকি আপনি পাবেন সেটা অহংবদের কারণে পাওয়া হলো না।
প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন ,'যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। ' (মুসলিম: ৯১)
জেনে রাখবেন ,অহংকার সব সময় যে আপনি মুখে বলে প্রকাশ করলেন কিংবা আপনার কাজকর্মে ,অবয়বে বুঝিয়ে দিবেন সেটাই অহংকার নয় । আপনার অন্তরে নিজে এগিয়ে আছেন এমন কোন বোধ সৃষ্টি হয় সেটাও কিন্তু অহংকার।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুক, আমিন।