15/05/2026
যিলহাজ্জ মাস হতে আর বেশীদিন নেই। এ মাসের প্রথম দশদিন ইবাদতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম।
আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর ইবাদত সবচেয়ে অধিক প্রিয়। এ মাসের প্রথম দশক এতটাই ফযীলতপূর্ণ ও মহিমান্বিত যে, তিনি এ দশকের রাতগুলোর কসম করেছেন। (সুবহানাল্লাহ)
চলুন! এক নজরে জেনে নেই, যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনের করণীয় আমলগুলো:
(১) যিলহাজ্জ মাসের ১ থেকে ৯ তারিখ অর্থাৎ কুরবানীর দিন পর্যন্ত নখ, চুল এবং শরীরের কোনো অবাঞ্চিত লোম না কাটা।
বরং একেবারে কুরবানীর দিন কেটে ফেলা। এতে করে একটি কুরবানীর সাওয়াব পাওয়া যাবে ইংশাআল্লাহ। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫)
( তবে এই সময়ে অবাঞ্চিত লোম ৪০ দিন অতিক্রম করে ফেলা জায়েজ নেই, সেই ক্ষেত্রে তা কেটে ফেলা যাবে। তবে যিলহাজ্জ মাস আসার পূর্বেই এই সকল কাজ করে নেওয়া উত্তম।)
(২) যদি সম্ভব হয় প্রথম ০৯ দিন রোযা রাখা, এটা সুন্নাত। এই দশ দিনের যেকোন ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং মর্যাদার। এছাড়াও এই দশ দিনের প্রতিটি দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য । (তিরমিযী - ৭৫৮, মিশকাত, ইবনে মাজাহ - ১৭২৮ ; সনদ দুর্বল)
(৩) বিশেষভাবে আরাফার দিন অর্থাৎ ৯ যিলহাজ্জ রোযা রাখা। এই দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব। (আরাফায় অবস্থানকারী হাজীদের জন্য রোযা মুস্তাহাব নয়)
যারা হজ্জে যাবেন না তাদের এই রোযার বদৌলতে ইংশাআল্লাহ পূর্বের এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের অর্থাৎ ২ বছরের গোনাহ মাফ হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম)
(৪) এই দশকের জুমা’র দিন অন্যান্য সময়ের জুমা’র দিনের তুলনায় বেশী গুরুত্ব দিয়ে আমল করা। কেননা হাদিসে এসেছে, এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিনের কাছে প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। ( সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৭২৭, তিরমিযী, আহমদ)
অর্থাৎ যতগুলো মর্যাদাপূর্ণ দিন আছে, তন্মধ্যে এই দশকের জুমা’ অন্য সময়ের জুমা’র দিন থেকে উত্তম বলে বিবেচিত হবে।
(৫) এই মাসের প্রথম দশদিন তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) অধিক পরিমানে পাঠ করা । ঘরে,বাইরে,কর্মস্থলে, রাস্তায় যেখানেই সুযোগ হবে পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং মহিলারা নিচুস্বরে পড়া মুস্তাহাব। যিলহাজ্জ মাসের প্রসিদ্ধ যিকির "তাকবিরে তাশরিক" হলো-
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد
উচ্চারণ : 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
অর্থ : ’আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সব প্রশংসা মহান আল্লাহ জন্য।’
(বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান)
(৬) বিশেষভাবে ৯ যিলহাজ্জ ফজর থেকে ১৩ যিলহাজ্জ আসর পর্যন্ত সর্বমোট ২৩ ওয়াক্ত সালাতের ফরয নামাযগুলোর পর এই তাকবিরে তাশরিক একবার করে পড়া ওয়াজিব।
পুরুষেরা উচ্চস্বরে এবং মহিলারা নিম্নস্বরে পড়বে। (মাজমু ফাতাওয়া: ২০/২২৪)
৭) যিলহাজ্জ মাসের ১০ম দিন সামর্থ্যবানরা পশু কুরবানী করা। এই কুরবানীর সময়সীমা ১০ থেকে ১২ই যিলহাজ্জ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। এই কুরবানী আল্লাহ সুবহানা-তা'আলার তাওহিদের ঘোষণার জন্য, আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ:) কে অনুসরণের জন্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করো এবং কুরবানী করো"। (সূরা কাউসার - ২)
(৮) রাতের বেলা যথাসম্ভব নফল আমল করা। এই দশকে তাহাজ্জুদ, নফল স্বলাত, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল পাঠ, তাওবা-ইস্তিগফার, দুয়া ও ক্ষমা-প্রার্থনা ইত্যাদি আমল বাড়িয়ে দেওয়া । এছাড়াও এই দশকে, যথাসম্ভব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
আল্লাহ সুবহানা-তা'আলার কাছে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের ইবাদত এর চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোন আমল নেই। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৭২৭, তিরমিযী, আহমদ)
✍️ Meherun Nessa