14/01/2026
ছোটবেলায় আমার একটা অভ্যাস ছিলো,ফুল যেখানেই দেখতাম ছেঁড়ার জন্য মনটা আনচান করতো,হাত নিশপিশ করতো। এরপর সেই ফুল কিছুক্ষণ হাতে রেখে ছিঁড়ে ফেলে দিতাম।
২১ ফেব্রুয়ারী ছিল আমার জন্য একটা ফুলেল দিন। যেহেতু ফুল ভালবাসি তাই ওইদিন আমার সংগ্রহে প্রচুর ফুল থাকতো।
শহীদ মিনারের ব্যাধিতে অর্পণ করা ফুল, র্যালি করতে করতে বড় আপু ভাইয়াদের ফেলে যাওয়া ফুল সবই কুড়িয়ে নিতাম আমি এবং আমরা।
ছোট্ট স্টীলের কলস ভরে রাখতাম ফুলগুলো। খেলার সাথীদের সাথে সেগুলো দিয়ে খেলতাম। কম্পিটিশন করতাম কে কতগুলো ফুল সংগ্রহ করতে পেরেছি।
এরপর চলতো আমাদের ফুলের গাছ লাগানোর প্রতিযোগিতা। কার কয়টা চারা হলো। কি কি ফুলের চারা হলো ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে মজার যেটা সেটা হলো গাদা ফুল এ বছর রোপণ করলে পরের বছর ফুল দেয়। আর এ এক বছর তা যত্ন করে খুব কমই বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম আমরা।
বড় হতে হতে ফুলের নেশা আরও বেড়ে গেলো। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম ফুল ছিঁড়বো না,গাছেই সুন্দর। আমি গাছ থেকে ছিঁড়ে কিছুক্ষণ হাতে রেখেতো ছিঁড়ে ফেলেই দিবো।
তবে ফুল ছেঁড়ার নেশাটা কেটে অন্য নেশায় রুপ নিলো। তা আরও ভয়ংকর। গাছ নেওয়া বা বীজ সংগ্রহ করা। যেখানেই যাই মন, মস্তিষ্ক আর চোখ শুধু গাছ আর বীজ সংগ্রহে সজাগ দৃষ্টি রাখে।
সবকিছু নিজের মনে করে। আর তা টুকুস করে নিয়ে আসে।
শুধু এতটুকু হলেও হতো,এটা এমন একটা নেশা যা আপনাকে চোর বানিয়ে ছাড়বে। আর শুধু চোর নয় আপনি ছেঁচড়া হয়ে যাবেন। যার তার কাছ থেকে গাছ, বীজ চেয়ে নিয়ে আসবেন।
ওহ,আরও ভয়ংকর যেটা সেটা হচ্ছে আপনার সাথে চলা মানুষগুলো একসময় এসব করতে আপনাকে নিষেধ করলেও পরবর্তীতে আপনার থেকে বেশি ছেঁচড়া হয়ে যাবে।
সো বি কেয়ারফুল।
এসব চুরি চামারি আর ছেঁচড়ামি না করে নষ্ট না হয়ে যাওয়া ফুল নিয়ে আসুন ঘরে। যা বারবার ব্যবহার করা যাবে। কাউকে হাদিয়াও দেওয়া যাবে। ঘরকে করবে কালার ফুল।
এ বছর থেকে সে বছর পর্যন্ত ফুলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। থাকবে না ঝড়ে যাওয়ার ভয়।