08/06/2026
আমাদের দেশে হাতেগোনা কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস আছে। এর মধ্যে স্টিডফাস্ট, পাঠাও এগুলো মোটামুটি জনপ্রিয়। কিন্তু বর্তমানে এদের সার্ভিস দেখলে মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। মূলত পর্যাপ্ত কম্পিটিশন না থাকায়, এরা অনেক ক্ষেত্রেই যেভাবে ইচ্ছা গা ছাড়া ভাবে সার্ভিস দিচ্ছে।
পয়েন্ট আকারে বলি—
• ২–৩ দিনে ডেলিভারি খুব কমই করে, বেশিরভাগ সময় ৪–৫ দিন লাগে।
• কাস্টমারের দেওয়া টাকা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট, মানে ব্যবসায়ীদের স্টিডফাস্ট আইডিতে যোগ হতে ২৪–৪৮ ঘণ্টা লাগে। বুঝতেই পারছেন।
• এরপর সেই টাকা ব্যাংকে আসতে আরও ২৪–৭২ ঘণ্টা লাগে, মানে আরও প্রায় ৩ দিন। এবার হিসাব করেন— ৫ দিন ব্যাংক খোলা থাকে, ২ দিন বন্ধ। আর বন্ধের দিনে কোনো টাকা দেয় না। অর্থাৎ, আপনার টাকা ওদের কাছে ৩–৬ দিন আটকে থাকে। হ্যাঁ, ১ দিনে দেবে বিকাশ বা রকেটে, অথবা এমন কিছু ব্যাংকে যেগুলোর কথা অনেক মানুষই জানে না বা সব জায়গায় সহজে available না। এদের বিকাশ বা রকেটের সাথে কমিশন আছে এটা বুঝাই যাচ্ছে , কারণ এগুলো থেকে টাকা তুলতে কেশাউট চার্জ লাগে।
• কাস্টমার সার্ভিস আগে ভালো ছিল, এখন রেসপন্সই করে না। কারণ না করলেই বা কী? আপনার তো আর উপায় নেই, ওদের কাছেই যেতে হবে।
• হঠাৎ করেই ডেলিভারি চার্জ বাড়িয়ে ফেলে।
• COD চার্জ তো আছেই। মানে আপনার টাকাটা তারা ৬ দিন পরে পাঠাবে, আর সেই টাকা পাঠানোর জন্যও তারা চার্জ নিবে।
যা বললাম, এগুলো আমার স্টিডফাস্ট থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। পাঠাও-এর কথা না হয় নাই বা বললাম— একবার পিকআপ দিয়েছিলাম, ১৫ দিন পরে কল দিয়ে বলে, “ভাইয়া, পিকআপ আছে কি?”
বাংলাদেশে যদি কেউ এই সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি কুরিয়ার সার্ভিস চালু করতে পারে, তাহলে রাতারাতি সবাই ওইদিকে শিফট করবে।