02/08/2026
তখন করোনার সময় চলছিলো, ভার্সিটি বন্ধ, অনলাইন ক্লাস তখনও শুরু হয়নি, বাসায় থেকে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো, এর মধ্যে পাপ্পু অনলাইন বিজনেস শুরু করলো চায়না ইম্পোর্টেড ব্যাগ এবং জুতা নিয়ে, সেই সময়টায় মানুষ একটু একটু করে অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, পাপ্পুর থেকে ইন্সপায়ার্ড হয়ে আমিও শুরু করলাম ছোট একটা বিজনেস, যেখানে ছিলো জুয়েলারি আইটেমস এবং শিফন হিজাব।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বিজনেসের ‘ব’ও বুঝতাম না। লাভ-লোকসান, মার্কেটিং, কাস্টমার হ্যান্ডলিং—কিছুই না, জাস্ট পাপ্পুর থেকে দেখে শুরু করা এই আর কি!
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুজনেরই সেই প্রথম বিজনেসটা বন্ধ হয়ে গেল, তারপর ভার্সিটি শেষ করলাম, চাকরিজীবনেও পা রাখলাম, কিন্তু কিছু স্বপ্ন বোধহয় কখনো বিদায় নেয় না। বিজনেস করার সেই ইচ্ছেটা আমাদের ভেতরে কোথাও নীরবে বেঁচেই ছিল, বিশেষ করে আমার সাহেবের। মনে হয়, ওর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটাই ছিল নিজের একটা বিজনেস দাঁড় করানো।
আবার যখন অনলাইন এ হোম ডেকোর নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েশন জার্নি শুরু করি পাপ্পুর ইনস্পিরেশন এ, তখন সাথে এটাও ভাবনা এলো আবার নতুন করে বিজনেসটা শুরু করা যায় কিনা, আর সেই ভাবনা থেকেই আমাদের বাণিজ্য🌻
সত্যি বলতে, একটা বিজনেস কখনোই হঠাৎ করে বড় হয়ে ওঠে না। এর পেছনে থাকে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, অগণিত পরিশ্রম, শতবার ভেঙে আবার নতুন করে দাঁড়ানোর সাহস, আর প্রতিদিন নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে ভাবার অদম্য চেষ্টা। এই জায়গায় পাপ্পুকে আমি নির্দ্বিধায় ১০-এ ২০ দেবো। আলহামদুলিল্লাহ, বাণিজ্যকে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিতে ও যে পরিশ্রম করছে, সেটা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হচ্ছে।
আজও যেমন—দুজন মিলে বাসা গুছিয়েছি। তারপর শুরু হয়েছে প্রোডাক্ট প্যাকেজিং, ভিডিও শুট, হাজারো ছোট ছোট কাজ। যদিও প্যাকেজিং আর শুটিংয়ের বেশিরভাগই সে একাই সামলে নেয়। আর আমি? মাঝেমধ্যে গিয়ে একটু বিরক্ত করে আসি, কাজের গতি কমিয়ে দিই—এই আর কী! 😁
হয়তো একদিন, বহু বছর পর, চুলে যখন রূপালি রঙ লেগে যাবে, তখন এই ছবিগুলো দেখে আমরা আবার ফিরে যাব আজকের দিনটায়। মনে পড়বে—একটা স্বপ্ন ছিল, দুজন মানুষ ছিল, আর ছিল অগাধ বিশ্বাস, পরিশ্রম আর ভালোবাসা।
ইনশাআল্লাহ, সেদিনও যেন আমরা হাসিমুখে বলতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ, পথটা সহজ ছিল না, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ভীষণ সুন্দর।🤍🌻