14/08/2026
এক অসহায় নারীর আত্ম কাহিনী 😭😭😭
তুমি আমাকে তোমার প্রেমে এমনভাবে ফাঁসিয়েছিলে, আর আমি তোমার মিথ্যা ভালোবাসার মায়াজালে এমনভাবে আটকে গিয়েছিলাম যে, সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ—কিছুই আর চিন্তা করিনি। তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম অন্ধের মতো। তোমাকে ভালোবেসে বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তুমি-ই আমার মানুষ, তুমি-ই আমার আশ্রয়, তুমি-ই আমার জীবনের শেষ ঠিকানা।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে শুধু একটা কথাই মনে হয়—আমি তোমাকে বিশ্বাস করে নিজেকেই ঠকিয়েছিলাম।
তবে তোমাকে ভালোবেসেছিলাম বলে আমার কোনো আফসোস নেই। আফসোস শুধু এই যে, যাকে জীবনের সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলাম, সেই মানুষটাই আমার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারেনি। তুমি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছো, আর আমি তোমাকে বিশ্বাস করে তার মূল্য দিয়েছি।
আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে যখন তোমাকে আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তুমি আমার পাশে ছিলে না। তোমার সামনে আমাকে অন্যায়ভাবে অপমান করা হয়েছে, অসম্মান করা হয়েছে—আর তুমি শুধু তাকিয়ে দেখেছো। সেই মুহূর্তগুলোতে তোমার নীরবতা আমার বুকের ভেতর যে ক্ষত তৈরি করেছে, সেই ক্ষত আজও শুকায়নি।
গত ১৪–১৫ বছর ধরে এই বুকের ভেতর কতটা কষ্ট জমে আছে, তা হয়তো পৃথিবীর কেউ জানে না। একমাত্র আমার সৃষ্টিকর্তাই জানেন—কত রাত চোখের পানি ফেলতে ফেলতে, কখনো না খেয়ে, কখনো বুকভরা কষ্ট নিয়ে ঘুমিয়েছি। কত সেজদায় মাথা রেখে কেঁদেছি। কতবার আমার মালিকের কাছে শুধু এইটুকুই চেয়েছি—“হে আল্লাহ, তুমি আমার কষ্টটা জানো, তুমি আমার চোখের পানির হিসাব জানো।”
তুমি হয়তো আমাকে ছেড়ে খেয়েছো, ঘুরেছো, নিজের জীবন নিজের মতো করে কাটিয়েছো। কিন্তু আমি? আমি প্রতিটি দিন নিজের ভেতর একটা যুদ্ধ করেছি।
স্বামী হওয়া মানে শুধু স্ত্রীকে কাপড় দেওয়া, খাবার খাওয়ানো কিংবা সংসারের কিছু প্রয়োজন পূরণ করা নয়। একজন স্বামীর সবচেয়ে বড় দায়িত্বের মধ্যে একটি হলো তার স্ত্রীর সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদার হেফাজত করা। স্ত্রীর চোখের পানি বোঝা, অন্যায়ের সময় তার পাশে দাঁড়ানো, তাকে অপমানিত হতে না দেওয়া—এগুলোও স্বামীর দায়িত্ব।
কিন্তু তুমি সেই দায়িত্বের জায়গায় বারবার আমাকে একা করে দিয়েছো।
পৃথিবীতে হয়তো আমার মতো আরও হাজারো নারী আছে—যারা সংসার ভাঙতে চায় না, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করে, একদিন হয়তো স্বামী বদলে যাবে—এই আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করে। আমিও তাদেরই একজন।
আমার পেছনে ফিরে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথও কেউ সহজ করে দেয়নি। আমার কষ্ট বোঝার মতো মানুষ ছিল না। তাই একসময় নিজের জীবন, নিজের ইচ্ছা, নিজের স্বপ্ন—সবকিছুকেই যেন কুরবানি দিয়ে দিয়েছি সংসারের জন্য, সন্তানের জন্য।
কিন্তু কিছু দৃশ্য মানুষ চাইলেও ভুলতে পারে না।
আমি নিজের এই দুই চোখ দিয়ে দেখেছি তোমার অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক, তোমার লীলাখেলা। সেই দৃশ্যগুলো আমার চোখে দেখা কিছু মুহূর্ত ছিল না—সেগুলো আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকা অসংখ্য কাঁটার মতো। আজও চোখ বন্ধ করলে অনেক কিছু মনে পড়ে যায়। আর তখন আমার চোখ দিয়ে যে পানি ঝরে, তার হিসাব একমাত্র আমার আল্লাহই জানেন।
তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে—এই কথাটা আমি কখনো মন থেকে অনুভব করতে পারিনি। বরং অনেক সময় মনে হয়েছে, তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষকে হারানোর পর তোমার একাকীত্বের জীবনে আমাকে একজন প্রয়োজনের মানুষ হিসেবে ব্যবহার করেছো। তোমার জীবনে আমার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আমার অনুভূতির প্রয়োজন ছিল না।
আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম হৃদয় দিয়ে। তুমি আমাকে চেয়েছিলে প্রয়োজনের সময়।
এই পার্থক্যটাই হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট।
তোমাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। তোমার হাত ধরে ভেবেছিলাম, এই মানুষটাই আমার সুখ-দুঃখের সঙ্গী হবে। অথচ শেষ পর্যন্ত বুঝলাম—আমি ভুল মানুষকে বিশ্বাস করেছিলাম।
তুমি আমাকে ঠকিয়েছো—এটা সত্যি। কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য হলো, আমি তোমাকে এতটাই বিশ্বাস করেছিলাম যে তোমার প্রতারণা বুঝতে বুঝতেও অনেক বছর লেগে গেছে।
আজ আমার কোনো অভিযোগ নেই। শুধু বুকের ভেতর অনেকগুলো না বলা কথা জমে আছে।
আমি তোমার কাছে আমার হারানো বছরগুলো ফেরত চাই না। যে রাতগুলো কান্নায় কেটেছে, যে অপমানগুলো নীরবে সহ্য করেছি, যে বিশ্বাসগুলো ভেঙে গেছে—সেগুলোও আর ফিরে আসবে না।
আমি শুধু চাই, একদিন তুমি অন্তত বুঝতে পারো—তোমার পাশে থাকা একজন নারী কতটা কষ্ট লুকিয়ে তোমার সংসার ধরে রেখেছিল।
হয়তো তুমি কোনোদিন আমার চোখের পানির মূল্য বুঝবে না। হয়তো কোনোদিন বুঝবে না, তোমার অবহেলা আমার হৃদয়কে কতবার ভেঙেছে।
কিন্তু আমার সৃষ্টিকর্তা সব দেখেছেন।
আমার প্রতিটি কান্না, প্রতিটি সেজদা, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি অপমান, প্রতিটি নীরবতা—সবকিছুর সাক্ষী তিনি।
তাই আজ তোমার কাছে আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।
শুধু এটুকুই বলব—
আমি তোমাকে ভালোবেসে ভুল করেছিলাম, কিন্তু সেই ভালোবাসা মিথ্যা ছিল না। মিথ্যা ছিল তোমার প্রতিশ্রুতি, মিথ্যা ছিল তোমার ভালোবাসার আশ্বাস।
তুমি আমাকে ঠকিয়েছো, আর আমি তোমাকে বিশ্বাস করে নিজেকেই ঠকিয়েছি।
তবুও আমি ভেঙে শেষ হয়ে যাইনি।
কারণ মানুষ আমাকে যতবারই ভেঙেছে, আমার আল্লাহ ততবারই আমাকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন।
আজ আমার একমাত্র ভরসা—আমার সৃষ্টিকর্তা।
আর আমার জীবনের সমস্ত না বলা কষ্টের শেষ বিচারও তাঁর কাছেই। 😭😭😭😭
Engr RaNa