04/08/2026
সন্ধ্যা ৭ টা। শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ফুটপাতে দাঁড়িয়েছিলেন আমাদের টিমের সোনিয়া। গন্তব্য আগারগাঁও। ভিড়ের মধ্যে একটা রিকশা ডেকে উঠলেন। রিকশাওয়ালা বেশ বয়স্ক, দেখতে একদম নিরীহ।
কিছুদূর যাওয়ার পর রিকশাওয়ালা হঠাৎ হুডটা একদম তুলে দিল। সোনিয়া অবাক হয়ে বললেন, "মামা, সমস্যা নাই, হুড তুললেন কেন?"
লোকটি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, "আম্মা, পেছনে ধোঁয়া উঠতেছে, গাড়ির তেল ফাটছে মনে হয়! একটু দেখেন তো!"
সোনিয়া আতঙ্কিত হয়ে যেই পেছনে ঘোরার জন্য রিকশার সিটে হাত রেখে একটু উঁচিয়েছে, অমনি রিকশাওয়ালা ইচ্ছা করে প্যাডেল ছেড়ে হ্যান্ডেল একপাশে প্রচণ্ড জোরে ঘুরিয়ে দিল। রিকশাটি সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে ফুটপাতের ওপর গিয়ে পড়ল।
পড়ার চোটে সোনিয়ার মাথা আর হাঁটুতে মারাত্মক চোট লাগল। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার লোকজন জমে গেল। বয়স্ক রিকশাওয়ালা নিজেও মাটিতে পড়ে বুকে হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, "ও আল্লাহ! আমারে বাঁচাও, মাথা ঘুরিয়া পইড়া গেছি!"
আশেপাশের পথচারীরা দয়াপরশ হয়ে রিকশাওয়ালাকে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একজন দোকানদার রিকশাওয়ালাকে পানি খাওয়াতে লাগলেন, আরেকজন সোনিয়াকে ধরে রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসালেন। পুরো মনোযোগ তখন অসুস্থ বুড়ো রিকশাওয়ালার দিকে।
মিনিট পাঁচেক পর সোনিয়া একটু সামলে উঠে খেয়াল করলেন,ফুটপাতে পড়ে থাকা তাঁর হাতব্যাগটা নেই! ব্যাগে ফোন, নগদ কিছু টাকা আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।
ও চমকে উঠে চারপাশে তাকাতেই দেখল, যে দুইজন পথচারী খুব 'দয়া' দেখিয়ে রিকশাওয়ালাকে পানি খাওয়াচ্ছিল আর ওকে ধরে বেঞ্চে বসাচ্ছিল, তারা আর সেখানে নেই। এমনকি যে 'অসুস্থ' বুড়ো রিকশাওয়ালা বুকে হাত দিয়ে কান্নাকাটি করছিল, সেও ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চোখের পলকে গায়েব!
মূলত এটি ছিল এক সুসংগঠিত 'সাইকোলজিক্যাল অ্যাক্সিডেন্ট গ্যাং'। রিক্সাঈয়ালা ইচ্ছে করে গাড়ি উল্টে দিত যাতে মানুষের সহানুভূতির সুযোগ নেওয়া যায়। আর সাহায্য করার ভান করে তাদেরই গ্যাংয়ের দুইজন লোক এসে আহত যাত্রীর মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নিত।
কতো কিছু যে দেখতে হবে!