04/09/2025
সিদল
হামার শালন
উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে মাছ-মাংসের চেয়েও জনপ্রিয় তরকারি সিদল। বৃহত্তর দিনাজপুরে সিদল তৈরি, রন্ধন ও পড়শিদের বিলি করা এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। ভিনদেশি যারাই একবার চেখে দেখেছেন সিদলের মুখরোচক স্বাদ, তারাই এর রসনাপ্রেমে পড়তে বাধ্য।
অন্য অঞ্চলের বিশিষ্ট খাবারের মতো আমাদের সিদলের পেটেন্ট নেই। নেই তাই লিপিবদ্ধ ইতিহাসও৷ ধারণা করা হয়, এ অঞ্চলের আদিবাসীদের হাতেই প্রথম রাঁধা হয়েছিল সিদল, কয়েকশো বছর আগে। তবে আজকাল সিদল বানিজ্যিকভাবে তৈরি হলেও গৃহস্থালিতে সিদল তৈরির আবহমানতা অনেকটাই ফিকে, অনেকেরই কাছে ঝামেলার বস্তু!
উপকরণ : ছোট মাছের শুঁটকি, কচু, মসলা৷
রন্ধনপ্রণালি :
সিদল তৈরি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রথমেই, মলা,পুঁটি,কাচকি জাতীয় ছোট মাছ ভালোমতো ধুয়ে ৭-৮ দিনে শুঁটকি তৈরি করে নিতে হবে বা কিনতে হবে।
এরপর শুঁটকি হামানদিস্তা বা শিলপাটায় পিশে নিতে হবে। মানকচুর ডাটা ছিলে বেশ কিছুটা সময় পানিতে রেখে কাঁচা অবস্থায়ই বেটে নিয়ে মন্ড তৈরি করতে হবে। তারপরই শুরু হবে কচুর মন্ড, শুঁটকি গুঁড়ো, পেঁয়াজ-রসুন-আদা বাটা, মরিচ ও হলুদ গুঁড়ো এবং খাবার সোডা ও সরিষার তেল একসাথে মিশিয়ে হাতে গোল গোল আকৃতির সিদল বানানো। হয়ে গেলে কুলো বা অন্য কিছুতে ১০-১৫ দিন শুকোতে হবে। ঠিকঠাক শুকানো সিদল মাঝে মধ্যে রোদ দিয়ে ২-৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
তৈরির সময় :
দিনাজপুর অঞ্চলে বেশিরভাগ সময়ই সিদল তৈরির জন্য উপযুক্ত। তবে বছরের শেষ দিকে, অর্থাৎ ফাল্গুন,চৈত্র মাসে আর্দ্রতা কম থাকায় এসময়ই চল রয়েছে বেশি।
পদ :
সিদলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ সিদলের ভর্তা৷ এছাড়া বড়োমাছ, বিশেষত পাঙাস মাছের সাথে সিদল রান্নার পুরোনো ঐতিহ্য আছে।
আজকাল অবশ্য নিত্য নতুন রেসিপি আসছে সিদল নিয়ে।
গোটা বাংলাদেশকে সাদর আমন্ত্রণ, দিনাজপুরের কাটারীভোগের সাথে একবার গ্রামবাংলার আটপৌরে গৃহিণীদের হাতে তৈরি সিদলের বিস্ময়কর স্বাদ চেখে যান!
©Beautiful Dinajpur