31/05/2026
এক মৃত ব্যক্তির আক্ষেপ, “তোমাদের অপূর্ণ দুই রাকাত নামাজও আমাদের কাছে পুরো দুনিয়ার চেয়েও বেশি মূল্যবান!”
একবার বিখ্যাত তাবেয়ী মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ (রহ.) কবরস্থানে গিয়ে একটি কবরের পাশে খুব দ্রুত দুই রাকাত নফল নামাজ পড়লেন।
নামাজ শেষে তাঁর নিজেরই মনে হলো, নামাজে তেমন একাগ্রতা হয়নি, খুব তাড়াহুড়া হয়ে গেছে।
এরপর একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে তিনি এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন...
স্বপ্নে সেই কবরের একজন মৃত ব্যক্তি তাঁকে বলছে,
“তুমি যে দুই রাকাত নামাজ পড়লে, তা নিয়ে তুমি নিজেই সন্তুষ্ট নও। তাই না?
মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ (রহ.) বললেন,
“হ্যাঁ, ঠিক তাই।”
তখন মৃত ব্যক্তি এমন কথা বলল, যা হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়,
“তোমরা জীবিতরা আমল করার সুযোগ পাও, কিন্তু তার মূল্য বোঝো না। আর আমরা মৃতরা আমলের মূল্য বুঝি, কিন্তু আর আমল করার সুযোগ পাই না। তোমার ওই ‘অসম্পূর্ণ’ দুই রাকাত নামাজও আমার কাছে পুরো দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়!”
এরপর মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ (রহ.) জানতে চাইলেন, এই কবরস্থানে সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তি কে।
একটি কবর দেখিয়ে বলা হলো, “ওই ব্যক্তি।”
হঠাৎ তিনি দেখলেন, কবর থেকে এক যুবক বের হয়ে এসেছে।
তিনি অবাক হয়ে যুবককে জিজ্ঞেস করলেন,
“তুমি এত কম বয়সে কীভাবে এত মর্যাদা পেলে? নিশ্চয়ই অনেক হজ, ওমরাহ বা বড় বড় আমল করেছিলে?”
যুবকের উত্তর ছিল অবিশ্বাস্য,
“আমি খুব বেশি আমল করতে পারিনি। কিন্তু জীবনে অনেক বিপদ-মুসিবতে পড়েছিলাম। আর আল্লাহ আমাকে সেসবের ওপর সবর করার তাওফিক দিয়েছিলেন। সেই ‘সবর’-এর কারণেই আল্লাহ আমাকে এই মর্যাদা দিয়েছেন।”
বিপদে আল্লাহর ফয়সালার ওপর ধৈর্য ধরা ছোট কোনো আমল নয়। অনেক সময় এই সবরই মানুষকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে বিপদে সবর করার তাওফিক দান করুন। আমীন
তথ্যসূত্র: শরহুস সুদূর — ইমাম সুয়ূতি (রহ.)