31/03/2026
মানুষজনের সাথে দূরত্ব বাড়ানোর প্রথম স্টেপ হিসেবে আমি ঝাড়ু দেওয়া শুরু করসিলাম। কাজ কাম নাই৷ তাইলে একটু ঝাড়ু দিই৷ কারণ ঝাড়ু দিলে বাসায় থাকলে মা খুশি হয়, হলে থাকলে রুমমেট৷
এরপর ধীরে ধীরে আসছে বাকীসব। যেমন সবকিছু গুছায়ে রাখা, নিয়ম করে গাছে পানি দেওয়া, রান্না করা৷ এইসব করতে করতে একদিন খেয়াল করে দেখলাম আমার উইকেন্ড মানেই রুমটাকে নতুন মেকওভার দেওয়া বা কয়েক পদের রান্না করে ফেলা আর ব্যাচেলর লাইফের উইকেন্ড মানেই তো কাপড় ধোয়া; ওটা তো আছেই। এইসব করতে করতে দেখলাম কাকে ভালোবাসতাম, কে ছিল বন্ধু আর কে গেল ছেড়ে ঐসব আর ভাবায় না। এর চেয়ে কোন রঙের বেডশীট দেওয়ালের সাথে মানানসই, হাতে টাকা আসলে কোন রঙের পর্দা কিনব এইসব নিয়ে আমার অস্থিরতা বেশি৷
রান্নাবান্নাকে আমি একটা সেল্ফ কেয়ার হিসেবে দেখি। খাবার ভালো তো স্বাস্থ্য ভালো, এমন ব্যাপারটা। এর সাথে যুক্ত হইলো স্কিনকেয়ার৷ কিছু ভালো লাগতেসে না, ব্যাপার নাহ; একটা ফেস প্যাক মেখে বসে থাকি। মুড অফ... তাইলে কিছু ধুমধারাক্কা গান শুনি৷ কিছু করার নাই৷ তাইলে আবার ধুলাবালি পরিষ্কার করতে থাকি৷
আমি জানি না কবে কিভাবে জেনেছিলাম মানুষের সাথে মেশার চেয়ে গাছ পোষা ভালো, চুলে তেল দেওয়া ভালো, ক্লজেটের সব জামাকাপড় একসাথে আইরন করে ফেলা ভালো; নিদেনপক্ষে মানুষ দেখতে দেখতে হাঁটাও ভালো কিন্তু মানুষের সাথে মেশা ভালো না৷ বারবার মিশে গিয়ে পিষে যাওয়া সয়ে নেয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না।
~নারমিন