05/03/2026
ইকরার সুইসাইডের ঘটনাটা এক অর্থে এটা এক্সেপশনাল। কারণ আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটা ঘরেই অন্তত একজন করে “ইকরা” আছে—যে সংসার জীবনে হাজারো অন্যায়, অবহেলা আর নিপীড়ন নীরবে সহ্য করে। শুধু ফ্যামিলি, সমাজ আর তথাকথিত ‘সম্মান’-এর কথা ভেবে সে মুখ খোলে না, প্রতিবাদ করে না।
ইকরা হয়তো একসময় এই সম্পর্ক থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হতো। আর তখনই এই আলভির মতো পুরুষরা শুরু করত তাদের চিরচেনা sympathy card—
“আমার ওয়াইফ ডমিনেটিং ছিল”,
“অযথা সন্দেহ করতো”,
“আমাকে কন্ট্রোল করতে চাইতো”,
“মানসিক শান্তি দিতো না”—এইসব প্রস্তুত করা ন্যারেটিভ।
কিন্তু সত্যিটা হলো— ব্যাপারটা অনেকটা এরকম ওর কারণেই আমি খারাপ হয়েছি, ওর সাথে অন্যায় করেছি। যা হলো তার সবকিছুর জন্য দায়ী ও নিজেই।একটা মেয়ে অযথা কখনোই তার পার্টনারকে সন্দেহ করে না।
সন্দেহের বীজ বপন করে দেয় এই অমানুষগুলোর আচরণই।
তারপর নিজের অপকর্ম ঢাকতে, বিশ্বাসঘাতকতা আর পরকীয়ার মাধ্যমে করা দ্বিতীয় বিয়েকে “জাস্টিফাই” করতে, তারা এই ফলস ন্যারেটিভগুলো সমাজের সামনে পরিবেশন করে—নিজেদেরকে ভিকটিম সাজিয়ে, আর নারীকেই দোষী বানিয়ে।
তা না হলে একটা মানুষকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেলে নিজেকে ক্ষয় করে সঞ্চিত সংসার আর বাচ্চা রেখে মানুষ সোসাইডের কথা চিন্তা করতে পারে! কিছু পুরুষ মানুষের স্বভাবই হয় এমন নীরব ঘাতকের মত এরা খুব সুপরিকল্পিতভাবে একটা মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রাপ্য সম্মান ভালোবাসা না দিয়ে তার জীবনটা একটু একটু করে নষ্ট করে ফেলে। নির্লজ্জতার কোন স্তরে গেলে এত কিছুর পরও এই কাপুরুষটা কিভাবে তার স্ত্রীকে দোষারো করতে চাচ্ছিল।
জাহিল অমানুষ কোথাকার!