19/06/2026
টাই পরে ঘুরে বেড়ানো “শিকারি”দের চিনে রাখুন!
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মেসেঞ্জার আর
হোয়াটসঅ্যাপের কিছু চ্যাট ফাঁস হয়েছে। তিনি তার
ছাত্রীকে লিখেছেন......
👉 “তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার
ছিল।”
👉 “আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।”
👉 “আজ থেকে ভালোবাসা শুরু হোক।”
মানে সিরিয়াসলি?! এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন
শিক্ষকের মুখের ভাষা, নাকি রাস্তার কোনো বখাটের?
একটা মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন যায়? পড়াশোনা করতে,
নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে, পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করতে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মানসিকতার কিছু শিক্ষকের
কারণে আজ মেয়েদের ভাবতে হচ্ছে—ক্লাসরুম কি সত্যিই
নিরাপদ?
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা
না। আমাদের দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ক্ষমতার
আড়ালে এই নোংরা খেলাটা চলে।
সিন্ডিকেটটা খেয়াল করুন......
১. প্রথমে আসে অফার: “তোমাকে হেল্প করবো”, “রেজাল্ট ভালো করে দেবো”, “রিসার্চের সুযোগ দেবো”।
২. তারপর শুরু হয় গভীর রাতের ব্যক্তিগত মেসেজ।
৩. এরপর অনৈতিক প্রস্তাব আর ব্ল্যাকমেইল।
আর মেয়েটি যদি রাজি না হয়?
তখন শুরু হয় ক্ষমতার আসল রূপ। মার্কস কেটে দেওয়া,
ভাইভায় অপমান করা, থিসিস আটকে দিয়ে মানসিক
নির্যাতন করা। কারণ তারা জানে, ক্ষমতা তাদের হাতে!
আর আমাদের সমাজ? সমাজ তখন ভুক্তভোগী
মেয়েটাকেই উল্টো প্রশ্ন করে— “এতদিন পরে কেন বলছ?”,
“প্রমাণ কী?”, “তুমি নিজে ঠিক ছিলে তো?”
অথচ কেউ এই অপরাধীকে জিজ্ঞেস করে না— একজন
শিক্ষক হয়ে আপনি এত নিচে নামলেন কীভাবে?
মনে রাখবেন, এরা বাইরে ‘ভদ্রলোক’, স্যার ডাক শুনে ঘুরে
বেড়ায়, কিন্তু ভেতরে একেকটা ক্ষুধার্ত শিকারি।
বিশ্ববিদ্যালয় কোনো শিকারখানা না, আর শিক্ষকতা
কোনো লাইসেন্স না যে যা খুশি তাই করা যাবে।
আজ যদি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক
বিচার না হয়, তবে কাল অন্য কোনো ক্যাম্পাসে, অন্য
কোনো মেয়ের ইনবক্সে একই মেসেজ যাবে।
আজ চুপ থাকা মানে অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া। আজ আপনি
চুপ থাকলে কাল আপনার বোন, আপনার মেয়ে বা
আপনার কোনো আপনজন এই নোংরামির শিকার হবে।
অন্যায়কারীর কোনো দল নেই, কোনো পরিচয় নেই—সে
কেবলই একজন অপরাধী। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই!
সংগৃহীত