07/06/2026
ছবির এই লোকটা আমার বাসার সামনের ফুটপাতে একটা টুলবক্স টাইপ জিনিস নিয়ে বসে থাকে।
রিকশার টুলবক্স।
মাঝে মাঝেই দেখি সেখানে রিকশার কাজ চলছে।
আমি ভাবতাম উনি রিকশার মিস্ত্রি।
একদিন ছেলের সাইকেলের চাকায় হাওয়া দিতে নিয়ে গেলাম।
বললাম, মামা, চাক্কায় একটু হাওয়া দিয়ে দেন।
মামা বিরক্ত হয় বললেন, আমাকে দেইখা কি আপনার মিস্ত্রি মনে হয়?
আমি তার টুলবক্সটার দিকে তাকিয়ে বললাম, হ্যাঁ। তাই তো মনে হয়৷ এই বাক্স নিয়ে তো কেউ চিচিঙ্গা বেচে না।
উনি বললেন, আমি মিস্তিরি না।
আমি কিছুক্ষন তার কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করে বুঝলাম, টেকনিক্যালি হি ইজ রাইট। কারণ এই লোক শুধু যন্ত্রপাতি ভাড়া দেয়, আর কোন কাজ করে না।
রিকশার কাজ মুলতঃ রিকশাওয়ালারাই করে নেন।
সেল্ফ সার্ভিস গ্যারেজ টাইপ।
আজ সকালে সেই সেলফ সার্ভিস গ্যারেজে দেখি ব্যাপক গ্যাঞ্জাম।
এক রিকশাচালক তার কাছ থেকে একটা স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে রিকশার কোন একটা নাট টাইট দিয়ে ১০ টাকা দিতে চেয়েছে।
টুলবক্সের মালিকের দাবী ২০ টাকা।
রিকশাচালক বলছে, ডাকাত নাকি? আমি তো চারটা প্যাচও দিলাম না। এর জন্য বিশ টাকা! প্রতি প্যাচ ৫ টাকা! ফাইজলামি করেন?
রিকশাওয়ালার প্রতি প্যাচ পাঁচ টাকা হিসেব করা দেখে আমার মনে হলো, লোকটা বেশ ক্রিয়েটিভ আছে।
ঝগড়াটা বেশ ইন্টারেস্টিং হবে। ক্রিয়েটিভ লোকদের ঝগড়া সবমসয়ই ইন্টারেস্টিং হয়।
ইয়ে.. মানে.. যেহেতু আমিও নিজেকে হালকা ক্রিয়েটিভ মানুষ মনে করি, সেহেতু এই ঝগড়ায় মনে মনে আমি রিকশাওয়ালার পক্ষ নিলাম।
আগ্রহ নিয়ে ঝগড়া দেখছি।
টুলবক্সওয়ালা বললেন, ১০ টাকার দিন শ্যাষ। এখন থেকে যন্ত্রে হাত দিলেই ২০ টাকা দিতে হইবো।
রিকশাওয়ালা বললো, ক্যান। যন্ত্র কী তোর বৌ লাগে যে গায়ে হাত দিলেই ২০ টাকা দিতে হইবো?
ব্যস, মুহুর্তেই ঝগড়ার স্কেল একদম পিকে উঠে গেলো।
টুলবক্সওয়ালার বক্তব্য - ২০ টাকা দিতেই হইবো।
রিকশাওয়ালার বক্তব্য - না দিলে কী করবি?
টাকা না দিলে এই এলাকা থেকে বাইর হইতে পারবি? তোরে বাইন্ধা উলটা কইরা ঝুলাইয়া রাখুম।
রিকশাওয়ালা বললো, বাইর তো হইমুই। বাইর হবার আগে মুরগীর লাহান তোর দুই রান টাইনা ছিড়া ফেইলা যামু?
মুরগীর মতো রান টেনে ছিড়ে ফেলার উপমাটাও আমার বেশ পছন্দ হলো।
কিছুক্ষনের মধ্যে লোকজন জমে গেলো।
মুরুব্বিগোছের একজন রিকশাওয়ালাকে ধমক দিয়ে বললেন, দোষ তো তোরই। কোন কিছু কেনার আগে দাম জিজ্ঞেস কইরা নিতে হয়, জানোস না? ও এখন একশ' টাকা চাইলেও দিতে হই