11/08/2026
👉📌মহারাষ্ট্রে ধর্মান্তর বিরোধী আইন (মহারাষ্ট্র ধর্মের স্বাধীনতা আইন, ২০২৬ / Maharashtra Freedom of Religion Act, 2026) সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতি পাওয়ার পর এবং সরকারি গেজেটে বিজ্ঞাপিত হওয়ার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে। বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, প্রলোভন, জবরদস্তি বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেআইনি ধর্মান্তরকরণ রোধ করতে দেবেন্দ্র ফড়নভিসের নেতৃত্বাধীন মহায়ুতি সরকার এই আইনটি নিয়ে এসেছে। ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর পর মহারাষ্ট্র হলো ভারতের ১৩তম রাজ্য যেখানে এই ধরণের কড়া আইন চালু করা হলো।
♦এই নতুন আইন সংক্রান্ত মূল তথ্য ও প্রধান বিধানগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
👉১. কঠোর শাস্তির বিধানসমূহ
আইনে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে জেল এবং জরিমানার কথা বলা হয়েছে:-
♦সাধারণ অপরাধ: সাধারণ ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বা অবৈধ ধর্মান্তরের জন্য ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
♦সংবেদনশীল গোষ্ঠী: কোনো নাবালক, নারী, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি অথবা তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি উপজাতির (ST) অন্তর্গত কাউকে বেআইনিভাবে ধর্মান্তরিত করলে শাস্তি বেড়ে ৭ বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।
♦গণ ধর্মান্তর (Mass Conversion): একসঙ্গে বহু মানুষকে ধর্মান্তরিত করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ৭ বছরের জেল এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হবে।
♦পুনরাবৃত্ত অপরাধী: একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৭ লক্ষ টাকা জরিমানার কড়া বিধান রাখা হয়েছে।
👉২. আইনি প্রক্রিয়া এবং বাধ্যবাধকতা-
♦আগে থেকে নোটিশ প্রদান:- কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে চান, তবে তাকে রূপান্তরের অন্তত ৬০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকের (District Magistrate) কাছে লিখিতভাবে আবেদন বা ঘোষণা জমা দিতে হবে।
♦ধর্মান্তর-পরবর্তী নথিভুক্তি:- ধর্মান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর ২১ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পুনরায় আরেকটি ঘোষণার মাধ্যমে তা সরকারিভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। এই নিয়ম না মানলে ওই ধর্মান্তরকে আইনিভাবে অবৈধ (Null and Void) বলে গণ্য করা হবে।
♦অভিযোগ দায়েরের অধিকার:- রূপান্তরিত ব্যক্তির বাবা-মা, ভাই-বোন বা রক্তের সম্পর্কের কোনো আত্মীয় যদি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে ধর্মান্তরটি জোরপূর্বক করা হয়েছে, তবে পুলিশ অবিলম্বে FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য থাকবে।
♦প্রমাণের দায় (Burden of Proof): - ধর্মান্তরটি জোর করে করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়েছে—তা প্রমাণ করার মূল দায় থাকবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং যিনি ধর্মান্তর প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছেন তার ওপর।
** জামিন অযোগ্য অপরাধ:** এই আইনের অধীনে সমস্ত অপরাধকে আমলযোগ্য (Cognisable) এবং জামিন অযোগ্য (Non-Bailable) করা হয়েছে।
👉৩. বিবাহ এবং সন্তানের অধিকার সংক্রান্ত নিয়ম
বিয়ে বাতিল ঘোষণা: ♦শুধুমাত্র ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বা প্রতারণামূলক বিয়ের মাধ্যমে ধর্মান্তর করা হলে আদালতের নির্দেশে সেই বিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করা যাবে।
♦সন্তানের ধর্ম ও অধিকার: এই ধরণের সম্পর্ক বা বিয়ে থেকে জন্ম নেওয়া সন্তান আইনিভাবে মায়ের বিয়ের আগের ধর্ম লাভ করবে। তবে সন্তান তার বাবা-মা উভয়ের সম্পত্তির ওপরই সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার বজায় রাখতে পারবে। সন্তানের হেফাজত (Custody) সাধারণত মায়ের কাছেই থাকবে।
👉৪. রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক-
♦সরকারের যুক্তি: - সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নভিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল অংশকে প্রতারণামূলক ধর্মান্তর থেকে রক্ষা করতেই এটি আনা হয়েছে।
♦বিরোধীদের সমালোচনা:- কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির মতে, এই আইনটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান ও মুসলিম সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এর ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় বা সামাজিক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এবং আন্তঃধর্মীয় দম্পতিরা হেনস্থার শিকার হতে পারেন।