06/07/2026
| অযথা স্ত্রীর দোষ খোঁজা থেকে বিরত থাকুন |
কিছু পুরুষ ক্রমাগত সমস্ত কিছুতে ত্রুটি খুঁজতেই থাকে। তারা প্রতিটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চিৎকার শুরু করে যে— “এই টেবিলটি কেন নোংরা হয়ে আছে? দুপুরের খাবার কেন এখনো প্রস্তুত হয়নি? ফুলদানিটি কেন এখানে? ছাই রাখার পাত্রটি মেঝেতে কেন?” ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছু পুরুষ এমনও তার মনোভাব পরিবর্তন করে যে— এটি তাদের পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং কখনও কখনও এই আচরণের ফলে তাদের পরিবারের বিচ্ছেদও ঘটে। অবশ্যই আমরা বলছি না যে— পুরুষদের তাদের স্ত্রীদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত না সেটা বলার কোনো অধিকার নেই।
মহিলারাও যেন পরিবার সম্পর্কিত পরামর্শের বিষয়ে একগুঁয়েমি না দেখায়। যদিও পুরুষেরা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে নিজের কর্তব্যটি যাতে সঠিকভাবে পালন করতে পারে সে হিসেবে নিজের বুদ্ধি ও যুক্তিসঙ্গত কাজ করা উচিত। স্ত্রী যদি বাড়ির কাজে কোনো পরামর্শ দেয় তবে সেটি বিবেচনায় নিতে আন্তরিক মনোভাব রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতপক্ষে, যেহেতু একজন পুরুষের হাতে পরিবারের সমস্ত কাজের অংশ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে না এবং কোনো বিষয়ে যদি তার পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকে, তবে পরিবারের কিছু বিষয় স্ত্রীর উপর ছেড়ে দেওয়াই তার জন্য সুবিধাজনক। ঘর চালানোর ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির উচিত তার স্ত্রীকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া।
যদিও পুরুষেরা প্রায় ক্ষেত্রেই জোর না করে পরামর্শ দেওয়ার অজুহাতে তাদের সিদ্ধান্ত স্ত্রীদের উপর চাপিয়ে দেয়। যখন একজন বুদ্ধিমান মহিলা কোনো বিষয়ে তার স্বামীর ইচ্ছাটা বুঝতে পারে, তখন সে তা মেনে চলার চেষ্টা করে। অতএব, একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা যারা একে অপরের সম্পর্কে এবং তাদের পরিবারের সম্পর্কে যত্নশীল, তখন তারা যে কোনো বিষয়ে পরস্পর বিনীতভাবে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
এইভাবে, বেশিরভাগ মহিলারা তার স্বামীর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে তার স্বামী যদি ক্রমাগত তার দোষ খুঁজতেই থাকে এবং অশান্তির সৃষ্টি করতে থাকে, তখন তার স্ত্রী নেতিবাচক মনোভাবের উপর অভ্যস্ত হতে থাকে এবং ফলস্বরূপ এই মনোভাবটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যার থেকে কোনো ভালো ফলাফল আর আশা করা যায় না।
যে মহিলার স্বামী এমন মনোভাব পোষণ করে, সে তার স্বামীর কোনো কথাই গুরুত্ব সহকারে নেয় না। এমনকি সে তার স্বামীর গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিকেও তখন অবহেলার চোখে দেখা শুরু করে। সে নিজেই ভাবতে থাকে— “আমি কেন এত কষ্ট করবো, যদি আমার স্বামী কখনোই আমার কোনো কাজে সন্তুষ্ট না হয়? সে কেবল তার স্ত্রীকেই দোষারোপ করবে না, এমনকি তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে।”
তখন তাদের বাড়ি একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়ে উঠবে। এইভাবে একটি পরিবার ভেঙে যায় এবং বিচ্ছেদ হতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে একজন মহিলা কখনোই নিজেকে দোষারোপ করে না, কারণ একজন বিশ্বস্ত এবং ধৈর্যশীল স্ত্রীও তার স্বামীর এমন অমানবিক আচরণের কারণে তার ধৈর্য সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলে।
তখন সে ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করে, দাবি করে যে— তার স্ত্রী তার বাড়ি ছেড়ে দুমাস আগে চলে গিয়ে তার বাবা-মার সাথে থাকছে। তারপর আরও অনুসন্ধান করা শুরু করলে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তখন বলে যে— “আমার স্বামী আমার ঘর সামলানোর পদ্ধতি পছন্দ করে না। তিনি আমার রান্না, আমার বাড়ির কাজ পরিচালনা সম্পর্কে ক্রমাগত সমালোচনা এবং অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাই আমি তাকে ছেড়ে চলে এসেছি।”
পুরুষদের মনে রাখা উচিত যে— সংসারের কাজটা তাদের স্ত্রীদের দায়িত্ব পালনের একটি জায়গা। এই জায়গায় তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা তাদের ভুল হিসেবে বিবেচনা করাটা সম্পূর্ণই একটি ভুল কাজ। তারা যেভাবে পছন্দ করে সেভাবেই তাদের সংসারের কাজ করতে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ফলস্বরূপ— আপনার স্ত্রী উৎসাহের সাথে তার কাজগুলো করবে এবং আপনিও সুখী থাকবেন এবং আপনার বাড়ি হয়ে উঠবে “একটি সুখী পরিবার”।
বই : দ্য কেয়ারিং হাসবেন্ড