28/08/2026
সম্পূর্ণ অগোছালো অবস্থায় এক উলঙ্গ মানসিক ভারসাম্যহীন নারী এসে বলল
একটা ওড়না দেতো, ছেড়ি।
আমি আমার উনাকে বললাম,আপনি ঘরেই থাকুন, বাইরে যাবেন না।
তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে সেই নারীটিকে বারান্দায় বসালাম। একটি জামা, একটি পায়জামা ও একটি ওড়না এগিয়ে দিলাম। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সে জামা-পায়জামা কিছুই নিল না, শুধু ওড়নাটিই নিল। সেটিও কিছুক্ষণ পর দুই টুকরো করে একাংশ দিয়ে নিজেকে সামান্য আবৃত করল। উপরিভাগে একটুকরো, নিম্নভাগে অন্যটুকরো।
কিছুক্ষণ পর বলল,
খাওন দে, খিদা লাগছে।
বললাম, এই যে রান্না করেছি, এগুলো খেতে পারবে?
সে বলল, হ, হইবো। তুই দে।
খাবার দিলাম। সে তৃপ্তি নিয়ে খেল। অথচ চলে যাওয়ার সময় সেই ওড়নাটুকুও খুলে রেখে গেল আবার আগের মতোই অরক্ষিত অবস্থায় চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে আগের মতোই বলল
একটা ওড়না দেতো, ছেড়ি।
যেটা সে রেখে গিয়েছিল, সেটিই এগিয়ে দিলাম। এবার সে বলল, ছিড়াটা নেবো না।বললাম, তুমিই তো ছিঁড়েছিলে!
সে নির্বিকারভাবে বলল, না...
শেষ পর্যন্ত আরেকটি ভালো ওড়না দিলাম। বিশ্বাস করুন, সেটিও কিছুক্ষণ পর দুই টুকরো করে ফেলল। কিছু সময় শরীরে জড়িয়ে রাখার পর আবার খুলে রেখে সম্পূর্ণ অরক্ষিত উলঙ্গ অবস্থায় চলে গেল। তার অসহায় শারীরিক অবস্থাটিও এমন ছিল যে, দৃশ্যটি আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছিল।
কারন একেই তার উলঙ্গ দেহ তারউপর তার জরায়ু বেরিয়ে ছিলো।
কিন্তু তাকে বিদায় দেওয়ার পর উপলব্ধি করলাম,
আমি কত ভালো আছি।
সম্মানের সঙ্গে আছি, নিরাপদ আশ্রয়ে আছি, পরনের পোশাক আছে, আহারের ব্যবস্থা আছে, আপনজনের যত্ন আছে। অথচ এত নিয়ামতের মাঝেও কিভাবে নিজের জীবন নিয়ে অভিযোগ করতে পারি..?
অথচ আমি তো তার জায়গাতেও থাকতে পারতাম।
সত্যিই, জীবনের কিছু ঘটনা আত্মশুদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল।
ইভা_