04/07/2024
#কাহিনী সংক্ষেপ
#উপন্যাসঃ পরিণীতা
#লেখকঃ শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
#চরিত্রঃ ললিতা, শেখর, গিরিন,গুরুচরণ, ভুবেনেশ্বরী, নবীন রায়
_____________________
এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের একটি রোমান্টিক উপন্যাস...
এখানে তিনি গুরুচরণকে দিয়ে সমাজের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের চিত্র অত্যন্ত নিপুণ ভাবে তুলে ধরে ধরেছেন...
গুরুচরণ মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন...
শেষ সম্বল নিজের ভিটেখানা নবীন রায়ের কাছে চড়া সুদে বন্ধক রাখেন...
যদিও তিনি জানতেন সে বাড়ির আশা আর নেই। কদিন পরেই পথে দাঁড়ানো লাগবে....
নবীনবাবু আর গিরিচরণের বাড়ি পাশাপাশি...
দুই বাড়ির মধ্যে ভাব ভালবাসাও বেশ...
কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা গিরিচরণের উপর আবার নিজের ভগিনী কন্যা ললিতার দায়িত্ব...
মা বাবা হারা অনাথা মেয়েটিকে তিনি ভালোবাসতেন খুব...
তার ললিতার বর্ন শ্যামলা হলেও অমন সুন্দর মেয়ে সচরাচর পাওয়া যায় না...
এই ললিতার সুবাদেই নবীন রায়ের পরিবারের ভালো সম্পর্ক...
দুই পরিবারের ছাদ কাছাকাছি হওয়ায় বাড়ির মেয়েরা ছাদ দিয়েই যাতায়াত করতো...
নবীন রায়ের স্ত্রী শেখরের মা ভুবনেশ্বরী ললিতাকে নিজের মায়ের মতোই ভালবাসে...
শেখরের কাছে ললিতা পড়ালেখা শিখে...
ছোটবেলা থেকেই শেখরের ঘরে ললিতার অবাধ যাতাযাত...
সেই সুবাদে দুজনের উপর দুজনের অলিখিত একটা অধিকার জন্ম নেয়...
শেখরের অনুমতি ব্যাতিরেকে ললিতা কোথাও এক পা যেতে পারে না...
আর শেখরের আলমারির চাবি থাকে ললিতার কাছে...
ললিতার যখন যত লাগে তা সে নির্দিধায় শেখরের আলমারি খুলে নেয়...
এর মাঝে গুরুচরনের পথে বসার উপক্রম...
বাড়িখানাও শেখরের বাবার কাছে..
এমন সময় ললিতার বান্ধবী অনুপমার মামা ব্রহ্ম ধর্মের অনুসারী গিরিনের আগমন ঘটে...
তাস খেলার সুবাদে ললিতার সাথে গিরিনের পরিচয়...
গিরিন ললিতার প্রতি টান অনুভব করে...
সেকারনেই গিরিন ললিতার মামাকে ঋন থেকে বাঁচাতে চায়...
নানা অভিমানেরর জেরে ললিতা আর শেখরের ভুল বোঝাবুঝি হয়...
তারপর একদিন শেখরের ঘরে ললিতা গেলে শেখর ললিতাকে মালা বদল করে ধর্মমতে বিয়ে করে করে...
যা তারা দুইজন ব্যতীত আর কেউ জানতে পারেনি...
ললিতার প্রতি মুগ্ধ গিরিন ললিতার মামার ঋন শোধ করে বাড়ি বন্ধকি থেকে মুক্ত করে..
কিন্তু এর মাঝেই ললিতার মামা দুঃখ কষ্টে ধর্ম পালটে গিরিনের ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহন করে...
তিনি সমাজের কাছে পাপী হিসেবে পরিচিতি পান...
নবীন বাবু গুরুচরনের বাড়ির দখল নিতে না পারায় সেই ক্ষোভ মিটায় ধর্মের মুখে চুনকালি দেবার অপরাধে দুই বাড়ির যাতায়াত বন্ধ করে দিয়ে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক নিজের একটি মত অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে গুরুচরনের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন.
"এমন সমাজে জাত যাওয়াই ভালো, খাই বা না খাই শান্তিতে থাকা যায়।
যে সমাজ দুঃখির দুঃখ বুঝে না,
বিপদে সাহস দেয় না,
শুধু চোখ রাঙ্গায় আর গলা চেপে ধরে, সে সমাজ আমার দরকার নেই.। আমার মতো গরীবেরও দরকার নেই।
এ সমাজ বড়লোকের"
ললিতার সাথে গিরিনের বিয়ে ঠিক হয় গিরিনের...
ললিতা শেখরের কাছে জানতে চায় তার করনীয় সম্পর্কে...
কিন্তু শেখর ততদিনে নিজের ভুল বুঝে যে ললিতাকে বিয়ে করা যাবেনা তার বাবার বিরুদ্ধে...
সে ললিতার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে থাকে...
অভিমানী ললিতাও আর কিছু বলে না...
শেখরেরও বিয়ে ঠিক হয় অন্য কোথাও..
নানা ঘটনা প্রবাহের জেরে এক সময় ললিতার মামা মারা যান আর শেখরের বাবা নবীন রায়ও মারা যায়...
লতিতার সাথে আর গিরিনের বিয়ে হয় না...
কারন ললিতা নিজেকে বিবাহিত বলে পরিচয় দেয় গিরিনের কাছে...
আর গিরিন গুরুচরন বাবুর কথা রক্ষার জন্য তাঁর মেয়ে অর্থাৎ ললিতার মামাতো বোন কালিকে বিয়ে করে...
তারা বাড়ি বিক্রির জন্য পুনরায় কলকাতা আসে শেখরের বিয়ের কদিন আগে...
যে শেখর ললিতাকে কে বিয়ে করে নিজে স্বীকৃতি দিতে পারেনি সে শেখর ললিতাকে কুলটা আর অচ্ছুত ভাবে...
সে ভাবে ললিতা হয়ত গিরিনকে বিয়ে করে নিয়েছে...
পরে গিরিনের কাছে শেখর সব জানতে পারে...সেই সাথে জের ভুল শুধরে নেয়...
নিজের মা ভুবনেশ্বরীকে বলে যে ললিতা তার পুত্রবধু আর শেখর অন্য কোথাও বিয়ে করবে না....
সুখের পরিনতির মাঝে এ উপন্যাসের সমাপ্তি হয়...
#যদিও অত ভালোভাবে কাহিনী সংক্ষেপ তুলে ধরতে পারিনি।
তবুও ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা রাখি...
//
#শেখ রাভিনা