15/08/2024
প্রতিহিংসা কখনো ভাল ফল বয়ে আনতে পারে না। প্রতিহিংসা, দম্ভ আর অহংকারের কারনেই শত শত নিরাপরাধ কমোলমতি শিশু থেকে শুরু করে ছাত্র জনতার প্রান অকালে ঝরে গেল। যার পরিনতিতে একটি সৈরাচারী, ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন হলো। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের এমন পরিনতি থেকে আমাদের সকলেরই শিক্ষা নেওয়া উচিৎ। তবে সকলের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলতে চাই, বাবার অন্যায় দিয়ে যেমন সন্তানকে বিচার করা যায় না, তেমনই সন্তানের অন্যায় কাজের জন্য বাবাকে মূল্যায়ন করা সঠিক না। সন্তানের পাপের শাস্তি কখনো বাবাকে দেয়া উচিৎ না, এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি এবং বৈসম্যমূলক আচরণ। বৈসম্যবিরোধী আন্দোলন করে আমরা নীজেরাই আবার বৈসম্যের জন্ম দিচ্ছি। এটা কি সঠিক? বৈসম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার কাছে আমার এই প্রশ্নটা থাকল ।
মনে রাখবেন একটা বিশাল জনগোস্ঠী আওমিলীগের সমর্থক। আওমিলীগ শুধু শেখ হাসিনা বা তার দোসরদের দল না। এর প্রতিষ্ঠাতা মাওলান ভাসানী থেকে শুরু করে শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন সহীদ সহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রহমানের মত নেতাদের দল, স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী দল। শেখ হাসিনার দম্ভ আর অহংকার এবং আওমিলীগের কিছু অসৎ ও দুর্নীতিবাজ নেতা কর্মির কারনে হাসিনা ও তার দোসরদের আজকের এই পরিনতি। তাদের অপকর্মের জন্য ৩৫ শতাংশেরও বেশী সমর্থক আজকে বিপর্যস্ত ও কোনঠাসা হয়ে আছে।পুরো দলটি এখন নেতৃত্বহীন হয়ে গেছে। কিছু নেতা ও তার দোসরদের অন্যায় আচরণের কারেন শত শত নীরিহ মানুষ মৃত্যুবরন করেছে। ফলে আওমিলীগের বিশাল সমর্থকগোস্ঠী যারা দেশকে ভালোবাসে তারা ব্যাতিথ ও দুঃখিত এবং আওমিলীগের এইসকল অসৎ নেতাদের কারনে আজ তারা দিশাহারা। দুর্নীতিবাজ নেতাদের এবং যাদের আশ্রয় পশ্রয় ও নির্দেশে ছাত্রদের উপর পুলিশ ও অন্যান বাহিনী যারা গুলি চালিয়েছে তাদের সকলের বিচার ও শাস্তি হউক এটা যেমন জনগনের চাওয়া আমার বিশ্বাস আওমিলীগেরও সৎ নেতা কর্মী ও সমর্থক সকলেই চায় তাদের শাস্তি হউক। কিন্তু তার মানে এই না যে তারা ভুলে যাবে আওমিলীগকে বা তাদের পূর্ববর্তী নেতাদের বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে, যার নেতৃত্বে সাধিত হয়েছে এদেশের স্বাধীনতা। যারা আজ তার নাম নিশানা মুছে ফেলে দিতে চাচ্ছে তারাও আরেক বৈসম্যের জন্ম দিচ্ছে।
বৈসম্যবিরোধী আন্দোলন করা যত সহজ বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। আমরা সবাই বৈসম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তাদেরকে সমর্থন দিয়েছি, আপামর জনগন রাজপথে নেমে এসেছে, পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে শত শত শহীদের রক্তের বিনীময়ে একটি ফেসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। ডঃ ইউনুস স্যারের মত একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিকে প্রধান উপদেস্টা বানিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা সকলেই বিশ্বাস করি উনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি বৈসম্যহীন সমাজ প্রতিস্ঠিত হবে।
ফেসিস্ট সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রিতী, ক্ষমতার অপব্যাবহার, সৈরাচারী আচরণ, বিরোধী দলের উপর দমন পীড়ন, সরাকারে অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তাকে রাজাকার আখ্যা দেওয়া, নির্যাতন করা এইসব আচরণে সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত বিক্ষুব্দ হচ্ছিল কিন্তু বিরোধী দলকে কখনোই বিকল্প মনে করতে পারছিল না। সাধারন মানুষের বিরোধীদলের উপর কোন আস্থা ছিল না কারন তারা ভালো করেই জানত বিরোধী দল ক্ষমতায় এসে আবার তারা একই কাজ করবে এবং দুর্নীতিতে আকুন্ঠ নিমজ্জিত হবে। জনসমর্থন না থাকার কারনে বিগত ১৫ বছরেও বিরোধী দল কোন ফলপ্রসু আন্দলোন গড়ে তুলতে পার নাই ।এতদিন আপামর জনগন একটি তৃতীয় শক্তির অভুদ্যয়ের অপেক্ষায় ছিল। বৈসম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেই তৃতীয় শক্তি হিসাবে সাধারন মানুষের কাছে আবির্ভুত হয়। তাই ছাত্রদের সাধারন একটি কোটা আন্দলোন শেষ পর্যন্ত সরকার পদত্যাগের এক দফার গনআন্দোলনে রূপ নেয়, ছাত্র জনতার বিপ্লব সফল হয় এবং একটি ফেসিস্ট সরকারের পতন ঘটে।নতুন সরকারের কাছে মানুষের চাওয়া একটি বৈসম্যহীন সমাজ বিনির্মান করা, ন্যায় বিচার প্রতিস্ঠা করা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত রাস্ট্র গঠন করা। এটা করার জন্য প্রয়োজন রাস্ট্র পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চত করা। আর তা করতে হলে আওমিলীগের সকল সৎ নেতা ও সমর্থকদেরকে আমলে নিয়ে তাদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের জন্য যারা অবদান রেখেছে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা। আর সেটা করতে ব্যার্থ হলে আজকের এই অর্জন প্রতিহিংসা পরায়ন লোকের বা গোস্ঠীর দখলে চলে যাবে এবং সাধারন জনগনের আকাঙ্খা ভুলন্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার নিশ্চই এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করবেন এবং তাহলেই ছাত্র জনতার বিপ্লব সফল হবে।