08/09/2026
০৮/০৯/২০২৬
আমার লেখালেখির কোনো অভ্যাস নেই। সত্যি বলতে, জীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে বসে লিখব—এমনটাও কখনো ভাবিনি। কিন্তু আজকের একটা ছোট্ট ঘটনা আমাকে লিখতে বসতে বাধ্য করল।
আজ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়, সম্ভবত দুপুর ১২টার দিকে, রাইসা বাজার থেকে আমি আর আম্মু বাসে উঠলাম। আমাদের সঙ্গে একজন ভদ্রলোকও বাসে উঠলেন। কথাবার্তা শুনে মনে হলো তিনি একজন উকিল।
বাস চলতে চলতে গুলিস্তানের দিকে যাওয়ার সময় কিছুক্ষণের জন্য বাস থামল। ভদ্রলোকটি বাস থেকে নামার জন্য দাঁড়ালেন। ঠিক তখনই তিনি কাউকে ফোন দিলেন
তিনি বলছিলেন—
“আপনাকে টাকা দিলে আপনি সাক্ষী দেবেন, না হলে দেবেন না। টাকা এক লাখ না, এক লাখ পঞ্চাশ হাজার দিলেই আপনি সাক্ষী দেবেন; না হলে দেওয়ার দরকার নেই।”
কথাগুলো শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ হয়ে গেলাম।
জানি না তিনি কোন মামলার কথা বলছিলেন, কে সাক্ষী, কিংবা আসল ঘটনা কী। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার মতো তথ্য আমার কাছে নেই। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কথাগুলো আমার মনে একটা প্রশ্ন তৈরি করল—
আমাদের আইনব্যবস্থা আসলে কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে?
যদি সত্যিই টাকার বিনিময়ে সাক্ষ্য দেওয়া-না-দেওয়ার মতো বিষয় ঠিক করা যায়, তাহলে একজন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় কোথায় যাবে?
অপরাধ করলে বাঁচার জন্য টাকা লাগে, আবার কোনো অপরাধ না করেও যদি কোনো মামলায় ফেঁসে যেতে হয়, সেখান থেকেও বের হওয়ার জন্য টাকা লাগে—তাহলে একজন সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচারটা কোথায়?
হয়তো আমি আইন বুঝি না, লেখালেখিও পারি না।তাও লিখে রাখলাম।
কারণ কিছু ঘটনা কানে শোনা যায়, কিন্তু তারপর অনেকক্ষণ মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে।