12/06/2026
কিছু মোয়াল্লেম তাদের হোম ডিক্সট্রিক্ট থেকে মানুষকে কনভিন্স করে হজ্জ করাতে নিয়ে আসে। যাদের জীবনে ইসলামের কোনো প্র্যাক্টিস আদৌ ছিলো বলেই মনে হয় না।
এই কষ্টের সফর তাদের উপর কোনো প্রভাব ফেলে বলেও মনে হয় না।
মহিলাদের যে মহিলাদের সামনেও সতর ঢাকার বিষয় আছে এটা বোধ করি গ্রামের মহিলারা জানেনই না।
মিনা আরাফার ওয়াশ রুম যারা দেখেছেন এই কথার সত্যতা তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারবেন।
এত এত মানুষের মাঝে খুলেয়াম গোসল করা, দেয়ালের উপর সেলোয়ার মেলে রাখা এ কাজ গুলো খুবই দৃষ্টি কটু।
মিনা বা আরাফার টয়লেট গোসল বান্ধব নয়। অজুর জন্য করা খোলা জায়গা, গোসলের জন্য নয়।
গরম বলে সারাক্ষন অজুখানায় কলের নীচে শরীর ডুবিয়ে বসে থাকা যায় না। এটা যে তাদের গ্রামের পুকুর নয় এই শিক্ষা তাদের দেয়া হয় না।
কেউ মিনা আরাফায় ঢুকেই টয়লেটের পুশ শাওয়ার ভেঙে ফেলছে। কেউ অজু করার সময় পাশের জনকে ভিজিয়ে দিচ্ছে, কেউ ওয়াক ওয়াক শব্দ করে থুথু ফেলছে আরেকজনের পায়ের উপর।
প্রত্যেক এজেন্সির উচিৎ গ্রাম থেকে আনা মানুষগুলোর ওয়াশ রুম ট্রেনিং এর জন্য হাজ্জ ট্রেনিং সেশানে অতি অবশ্যই স্লট রাখা।
এই ময়দানে মন চাইলেই খেতে থাকা যায় না। মাত্র দুটো দিন একটু কম কম খেলে মানুষ মরে যায় না, এও বোধ করি বাঙালী বোঝে না।
হাজ্জ সহজ না। আমার অভিজ্ঞতায় সবসময়ই দেখেছি মিনা সব চাইতে কষ্টের জায়গা। সবরের জায়গা। এখানে গরম লাগা, ছোট জায়গায় গাদা গাদি করে থাকা, সবই এক ধরনের পরীক্ষা।
সফরের শুরু থেকে প্রতি মূহুর্তে মূহুর্তে একের পর এক চলতে থাকে শাইত্বনের ওয়াস ওয়াসা। এক পথে না পারলে শাইত্বন আরেক পথে এগিয়ে চলে। যার যেখানে দুর্বলতা সেই ফাঁক গলে প্রবেশ করে।
মিনায় এক কোনায় চুপচাপ বসে নিজের মত থাকতে চাইলেও সম্ভব না। পান খেতে খেতে নানা দিক থেকে দুনিয়াবী গল্প করতে চলে আসে নানী-দাদীরা। হাসবেন্ড সংসারের আলাপ নিয়ে বসে ইয়াং লেডীরা।
হাজ্জ যথেষ্ট কষ্টের সফর। অন্য মানুষের উপর ভরশা করে বয়স্ক মানুষদেরকে একা একা ছেড়ে দেবেন না কেউ প্লিজ।
আমাদের সাথে কানাডা থেকে আসা এক কাপল ছিলো যারা দুজনই ওয়াকার ছাড়া হাঁটতে পারেননা।
ভদ্রমহিলা মিনায় সারাটাদিন কষ্ট পেয়েছে। কষ্টে উনার চোখ বেয়ে পানি পড়েছে। উনাদের ছেলেমেয়ের কারও একজনের অবশ্যই উচিৎ ছিলো তাদের সাথে থাকা।
হাজ্জ এর ময়দান কেয়ামতের মাঠের মত। তাবুতে সবাই সবাইকে হেল্প করতে পারলেও সফরের পথ গুলোতে ইয়া নাফসি অবস্থা তৈরি হয়। কেউ কারও জন্য অপেক্ষা করতে চাইলেও সম্ভব না। মানুষ জন্মেছে একা মরবে একা এখানেও সে একা এই প্রস্তুতি থাকতে হবে।
সুস্থ সুঠামদেহী মানুষও বমি করতে করতে হাসপাতালে যেতে দেখেছি। পরিবার ছাড়া কেউ তাদের অপেক্ষায় থাকেনি।
আমাদের মেট্রো রুটে যাত্রা থাকলেও প্রত্যেকটা জায়গায় স্টেশান পর্যন্ত হেঁটে যেতে, মাঝে মাঝে টানা দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩ ঘন্টার বেশী সময়। ৫/৬ দিনে হাঁটতে হয়েছে প্রায় ১১০ কিলোর মত।
ক্রাউড ম্যানেজ করতে পথ এতটা ঘুরেছে যা লম্বা করলে মিনা থেকে আরাফা, মুযদালিফা জামারায় হেঁটে আসা যায়। হেঁটে অভ্যাস যাদের আছে তাদের জন্য কোনোটাই সমস্যা না।
তবে মেট্রোতে ওঠার সময় বাঙালীর আচরণ হয় পুরাই লোকাল বাসে ওঠার মত। কিসের হুজুর কিসের আলেম মহিলাদের ধাক্বা দিয়ে চ্যাপ্টা বানিয়ে উঠে যাওয়ার চেষ্টা সব পুরুষদের। এটাই মেট্রোর প্রবলেম।
হাজ্জ সফরে শুধু টয়লেট না বাঙালীর অনেক ট্রেনিং দরকার আসলে। কিউ তে দাঁড়ানোর, ধৈর্য ধরে ভদ্র ভাবে অপেক্ষা করার, অন্যের ভাগের খাবার খেয়ে না ফেলার, মিনায় অন্যের বেড বালিশ দখল না করার, খাবার, পানি নষ্ট না করার, ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বাস বা মেট্রোতে না ওঠার এন্ড মেনি মোর...
একজন মুসলিম হিসেবে প্রত্যেকেরই ছোটবেলাতেই এ শিক্ষা বাড়ি থেকে পাওয়ার কথা ছিলো। এডাল্ট হুডে হাজ্জ এর সময়ে যদি মোয়াল্লেমকে এই শিক্ষা দিতে হয় এটা খুবই দু:খজনক।
হাজ্জ ফরজ ইবাদাহ। "ছবি তুলি না, ভ্যাক্সিন করি না, হাজ্জ করতে হলে এসব লাগবে তাই হাজ্জ এ যাবো না"
এই অজুহাত ফরজ হাজ্জের প্রশ্নে কতটা আল্লাহর কাছে এক্সেপ্টেবল হবে তা তিনিই ভালো জানেন।
ইয়াং বয়সে নানান অজুহাতে দিন পার করে বুড়ো বয়সে হুট করে যাদের মনে হয় হাজ্জটা করে ফেলাই ভালো তাদের ভোগান্তির সীমা নাই।
অনেককে বলতে শুনি এখন হাজ্জ অনেক আরাম। লক্ষ্য করেছি এই "আরাম" কথাটা তারাই বলেন যারা কোনোদিন হাজ্জ সফরে আসেননি। এই সম্বন্ধে যাদের আইডিয়া নাই।
আইডিয়া থাকা সম্ভবও না কারণ উমরাহ করে কখনো হাজ্জ এর কষ্টের আন্দাজ পাওয়া যায় না।
আবারও বলছি, হাজ্জ সহজ না। হাজ্জ কোনোদিন আরামের ইবাদত না।
আপনি বাসে যান, মেট্রোতে যান, হেঁটে যান যেভাবেই যান কষ্ট হবেই। হাজ্জের মাঠে কেউ আরামে থাকে না। কেউ না।
হাঁটার কষ্ট বা একই জায়গায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার কষ্ট, গরমের কষ্ট, হবেই। এই কষ্ট মেনে নিতে হবে। মানষিক এবং শারীরিক প্রস্তুতি থাকলেই একমাত্র এই কষ্ট মেনে নেয়া সহজ হয়।
অতিরিক্ত ময়লা শরীর ডলে পরিষ্কার করতে গেলে যেমন চামড়া ছিঁড়ে শরীরে ব্যাথা লাগে, গুনাহ পরিষ্কার করতে গেলেও সবাইকেই কষ্ট সহ্য করতে হয়।
শুধু কষ্টের ধরনটা আলাদা। এই কষ্ট চোখে দেখা যায় না স্রেফ অনুভব করা যায় এই যা পার্থক্য।
_____________________
|| হাজ্জ সহজ নয় ||
ডাঃ তানজিনা রহমান