12/06/2026
# নগর বনাম নাগরিক - ০৩
অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের কিছু বিষয় জানা এবং মেনে চলা উচিত।
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে অনেকেই বিষয়গুলো জানেন, কিন্তু মানার প্রয়োজন মনে করেন না। আবার অনেকে আছেন, যারা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত নন বলেই সেগুলো মেনে চলার প্রয়োজনও অনুভব করেন না। আমাদের দেশে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতির ব্যাপক বিস্তার খুব বেশি দিনের নয়। তাই এ ধরনের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগাটা স্বাভাবিক।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমি যখন অ্যাকাউন্ট ও ডিজাইনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হই, তখন হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ ও বিপণনের ব্যবসা করত, যাকে আমরা সাধারণভাবে ডেভেলপার ব্যবসা বলে থাকি। তখন ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীর মতো অভিজাত এলাকাতেও অ্যাপার্টমেন্ট তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। সীমিত সংখ্যক প্লটে অল্প কিছু প্রকল্প গড়ে উঠত।
সেই সময়ে বহুতল ভবনে একাধিক পরিবারের একসঙ্গে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুব একটা ছিল না। পরবর্তীতে জমির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ ধীরে ধীরে অ্যাপার্টমেন্টমুখী হতে শুরু করে। আজ অবিশ্বাস্য মনে হলেও তখন ধানমন্ডি বা গুলশানের মতো এলাকায় প্রতি বর্গফুট অ্যাপার্টমেন্ট ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকায় বিক্রি হতো। তারপরও ক্রেতা পাওয়া সহজ ছিল না।
যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি।
সেই সময় প্রায়ই দেখা যেত, অনেকেই জানালা বা বারান্দা দিয়ে থুথু, কফ, ময়লা পানি কিংবা আবর্জনা ফেলতেন। অথচ বহুতল ভবনে একসঙ্গে বসবাসের ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য আমরা লিফলেট বিতরণ করতাম, নোটিশ বোর্ডে নির্দেশনা টানাতাম। ভবন হস্তান্তরের সময় অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের কমিটি গঠন করে তাদের কাছেও এসব নিয়ম-কানুন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হতো।
সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়নি। বর্তমানে অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে অনেকেই আছেন যারা অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন বা বসবাস করছেন, কিন্তু এ ধরনের নাগরিক দায়িত্ব ও আচরণবিধি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন।
নিচের দুটি ছবিতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমরা যখন জানালা বা বারান্দা দিয়ে ময়লা, থুথু, কফ কিংবা ময়লা পানি ফেলি, তখন সেগুলো কোথাও না কোথাও গিয়ে পড়ে। হয় নিচের অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায়, নয়তো ভবনের নিচে বা রাস্তায়। এর ফলে অন্য বাসিন্দা কিংবা পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হন। অনেক সময় এসব ময়লা সরাসরি অন্য মানুষের গায়েও পড়তে পারে।
আজ আপনি অন্যের ওপর ফেলছেন, কাল হয়তো একই ঘটনার শিকার আপনাকেই হতে হতে পারে।
তাই আসুন, এ ধরনের অসচেতন অভ্যাস পরিত্যাগ করি এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলি। নিজে ভালো থাকি, অন্যকেও ভালো থাকতে সাহায্য করি।
কারণ একটি সুন্দর নগর জীবনের জন্য শুধু উন্নত অবকাঠামো নয়, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকও সমানভাবে প্রয়োজন।