14/10/2020
#মাগনা_ডিজাইন_ও_ড্রয়িংঃ-
প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান অত্যাধুনিক পৃথিবীর পর্যায়ক্রমিকভাবে যে বিষয়টি মানুষের কাছে অধিক আশ্চর্য্যের কারণ হয়ে আছে, তা হচ্ছে বিভিন্ন অবকাঠামো বা দালান-কোঠার বিভিন্ন সৌন্দর্য্যবোধক স্থাপনা ও সুউচ্চ দালানসমূহ।
কিন্তু সেই সব স্থাপনাগুলো কাদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার ফল, সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছি?
বলছিলাম, একজন আর্কিটেক্ট বা স্থপতির কথা; যাদের চিন্তাশক্তি, জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতার সৃষ্টি এইসব আশ্চার্য্য অত্যাধুনিক স্থাপনা। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন, আমেরিকার ধ্বংস হওয়া সেই টুইন টাওয়ার যাই বলিনা কেন; সবই ঐসব মহান ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফল। একজন ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী ও একজন আর্কিটেক্ট বা স্থপতির কাজের মধ্যে অনেকটা মিল থাকলেও তাদের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা এই ভূলটাই করে ফেলি, বিশেষ করে আমাদের দেশের শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষেরাও।
একজন বা একদল স্থপতির সৃজনশীলতাকে বাস্তবরূপ দিতে একদল প্রকৌশলী দিনরাত পরিশ্রম করে যান। যার ফলস্বরূপ স্থপতি ও প্রকৌশলীর কর্মের যোগসূত্র তৈরী হয়।
যাই হোক, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত হলেও তারা বাহ্যিকজ্ঞানে এতোটা শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়না। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা। যার ফলে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা আমাদের তেমনটা সম্ভব হয়ে উঠেনা। তবে, আশার কথা হচ্ছে, আমরাও শিখছি।
আসল কথায় আসি, আমরা অনেকেই আছি যারা পরিচিতদের খাতিরে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের কাছ থেকে মাগনা ডিজাইন ও ড্রয়িং আশা করে থাকি। এইসব আবদার করার ইচ্ছা জাগে তখন, যখন জানতে পারি কম্পিউটারের মাধ্যমে শুধু লাইন টেনে ৫-৬ পৃষ্টার ছবি এঁকে দিলেই কি পারিশ্রমিক দেওয়া লাগে?
হ্যাঁ, আপনার কাছে যেটা ৫-৬ পৃষ্টার কম্পিউটারের মাধ্যমে লাইন মনে হয়, সেটাই তাদের কাছে ৪-১০ বছরের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবিক জ্ঞানের ফল। যার সাথে থাকে সৃজনশীলতার সংমিশ্রণ।
আপনি যখন আপনার কষ্টের টাকায় বাড়ি বা দালান কাঠামো তৈরী করতে একজন স্থপতির সাথে কথা বলেন, তখন থেকেই সেই স্থপতির মাথায় আপনার কষ্টের টাকার সঠিক ব্যবহারের জন্য কাজ করতে থাকে। তিনি চিন্তা করেন, কিভাবে কম খরচে সৌন্দর্য্যবর্ধন করে আপনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা যায়।
এতে যে ঐ স্থপতিকে কতটা মেধাকে ব্যবহার করতে হয়, সেটা শুধুমাত্র ঐ স্থপতিই জানে। আপনার বাড়ির জন্য নির্ধারিত জায়গা থেকে শুরু করে অনেক হিসাব নিকাশের পর শুরু হয় সৃজনশীলতার চর্চা। কিভাবে আপনার দালানটিকে ইউনিক করা যায়, কিভাবে খরচ কমিয়ে সুন্দর করা যায়, কিভাবে বসবাসের যোগ্য করা যায় ইত্যাদি।
সর্বশেষে শুরু হয় সেই কল্পনাশক্তিগুলোকে ফুটিয়ে তোলার কাজ। প্রথমেই পেন্সিল ও স্কেচখাতার কাজ, অনেকক্ষণ আঁকাআঁকির পর কিছুটা ধারণা নেওয়া হয়। সেই আঁকাআঁকি দেখে অনেকেই পাগলের কাজকর্মও বলতে পারে, কিন্তু প্রতিটা আঁকাআঁকিই তাদের জন্য এক-একটি শিক্ষা ও কাজের অগ্রগতি।
এইভাবে অনেক চর্চার পর প্রথম ধাপের অগ্রগতি শেষ হলে শুরু হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে উপস্থাপন। সেটা যেন এক বিশাল যুদ্ধ। সকল জ্ঞান, মেধা, সৃজনশীলতার প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক সংযোজন-বিয়োজনের পরেই আপনার ৫-৬ পৃষ্টার লাইনগুলো তৈরী হয়। তারপরেও ক্লাইন্টদের থাকে আরো সংযোজন-বিয়োজন। মাঝেমাঝে তো এমন হয় যে, অবাস্তব সব চাহিদা। তারপরেও সেইসব চাহিদাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজের সমন্বয় করা লাগে।
কিন্তু, সকল চেষ্টার আগেই কেউকেউ বা অনেকে পরেও স্থপতির পারিশ্রমিক নিয়ে কষ্টে ভোগে। অনেকে তো পরিচিতদের খাতিরে পারিশ্রমিক না দিতেও রাজি। কিন্তু কেন রে ভাই???
আপনি যেমন একজন স্থপতির কাছে আপনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব দিয়ে দেন, সেও তো আপনার দায়িত্বের জন্য একটি কর্তব্য পালন করতে অঙ্গিকারবদ্ধ। তাহলে কেন আপনি মাগনা ডিজাইন ও ড্রয়িং আশা করেন?
আপনি আপনার কাঙ্খিত ডিজাইন বুঝে নিয়ে যদি আপনার আর্থিক সমস্যা কিংবা অন্যকোনো কারণে কাজ না করেন, সেটার জন্য যদি স্থপতির পারিশ্রমিক না দেন, সেটা কিভাবে হবে?
ঐ স্থপতি কি তার দায়িত্বের একবিন্দু পরিমাণ কম করেছিল?? সে যে এত বছর ধরে এইসবের উপর পড়ালেখা করলো, মেধাকে কাজে লাগালো; এইগুলো কি আপনাদের গায়ে লাগেনা? আরে ভাই, পড়ালেখা কি মাগনা করেছে সে? কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিজাইন সমন্ধিয় ডিভাইস কি মাগনা পেয়েছে সে? আপনি কি জানেন, এইসব ডিজাইন বা ড্রয়িং সাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার দ্বারা সম্ভব না?
কেন বুঝতে চান না যে, এটাই একজন স্থপতির পেশা। আপনিও তো যেকোনো একটা পেশার সাথে সম্পর্কিত। সেখানে যদি আপনি আপনার পারিশ্রমিক ঠিকমতো না পান, আপনার কি খারাপ লাগেনা?
#অনেকদিনের জমানো রাগ-ক্ষোভ থেকে আজকে কিছু লিখলাম। কয়েকটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম।
আমি আর্কিটেকচার বা স্থাপত্যশিল্প নিয়ে পড়ালেখা করছি প্রায় ৮ বছর ধরে, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আরো পড়ালেখা করতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি বাস্তবিক কিছু কাজ করেছি এবং এখনো করছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচিতদের কাজ করি, তাই পারিশ্রমিক ব্যাপারে কথা বলতে লজ্জাও লাগে। কিন্তু তাদের কাছে মাগনা ডিজাইন ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা হয়না।
কয়েকবছর আগে পরিচিত একজনের ডিজাইন করেছি। জরুরীভাবে করতে হবে বলাতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫-১৬দিন পরিশ্রম করে ডিজাইন করে পাঠাইলাম। কিন্তু, কিছুদিন পরেই শুনলাম তারা এখন কাজ শুরু করবেনা। হুম, সেটা তাদের একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু আমি যে পরিশ্রম করেছিলাম, সেটার পারশ্রমিক কোথায়?
এইরকম আরো কয়েকটা কাজ করেছি, যাদের কাজের সময় আমার ঘুম নষ্ট করে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়, কিন্তু কাজ শেষ হয়ে গেলে খুঁজেও পাওয়া যায়না।
#আল্লাহ কেন যে এত লজ্জা দিয়েছে, বুঝিনা। আজকে অনেককিছু লিখলাম। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে, ক্ষমা করবেন। আরো অনেককিছু বলার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু লজ্জা লাগে। by Azad