30/03/2021
অতি সাম্প্রতিক সময়ে কোভিডের লক্ষণসমূহ ও করণীয়ঃ
এখনকার সময়ে আমরা যে লক্ষণগুলো বেশি পাচ্ছি সেটি হচ্ছে
1. জ্বর: জ্বরের প্রকৃতি স্বল্প থেকে শুরু এবং তীব্র জ্বর হয়ে থাকে। এবং এই জ্বর কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। কারো কারো ক্ষেত্রে 7 থেকে 14 দিন পর্যন্ত জ্বর থেকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তারা ভীত হচ্ছেন এবং হাসপাতলে ভর্তি হচ্ছেন।
2. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়াঃ এখন আমরা বেশ টেলিফোন পাচ্ছি এবং হসপিটালে রোগীদের দেখছি যে তাদের শুরুতেই জ্বরের সাথে বমি বমি ভাব বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক বমি হওয়ার লক্ষণ রয়েছে এবং একই সাথে পানিশূন্যতা হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি প্রেসার কমে দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
3. মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথাঃ জ্বর ও বমি বমি ভাব এর সাথে প্রচন্ড মাথা ব্যথা অনেক রোগী আমাদের কে বলছেন। মাথাব্যথা মাথার সামনে এবং পিছনে থেকে হচ্ছে।
4. ডায়রিয়া বা লুজ মোশনঃ ডায়রিয়া বা লুজ মোশন আমরা আগেও পেয়েছি কিন্তু তা খুব বেশি না। এখন অনেকেই এই সমস্যাটি বলছেন যে তাদের বারবার বাথরুম হচ্ছে এবং লিকুইড যাচ্ছে।
5. শ্বাসকষ্ট ও এর প্রকৃতিঃ শ্বাসকষ্ট আগেও হয়েছে এখনো হচ্ছে এই রোগে। কিন্তু এখনকার সময়ে শ্বাসকষ্ট খুব কম কিন্তু স্যাচুরেশন অনেক নেমে যাচ্ছে। আবার যাদের বিভিন্ন রোগ জনিত সমস্যা আছে যেমন , উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, তাদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট খুব একটা নাই কিন্তু সেচুরেশন ৮০ এর নিচে নেমে যাচ্ছে।
6. বয়সের ভেদঃ বিভিন্ন বয়সের রোগী এখন আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এখন আমরা বাচ্চাদের আক্রান্ত হওয়া খুব বেশি পাচ্ছি না। তরুণদের মধ্যে আগে আক্রান্তের হার কম ছিল। এখন 30 থেকে 50 বছরের মধ্যে আমরা বেশ রোগী পাচ্ছি। তবে তরুণদের মধ্যে আক্রান্ত হলেও তার আবার সুস্থ হচ্ছে।
বর্তমান অবস্থায় করণীয় কি?
1. প্রথমত ভয় পাওয়া যাবে না। কভিড আগেও যেমন ছিল এখনো আছে। কোভিডের প্রকৃতি চিনতে হবে, লক্ষণ প্রকাশ হওয়া মাত্রই দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে। যত দ্রুত রোগ সনাক্ত করা যাবে তত দ্রুতই চিকিৎসা শুরু করা যাবে। চিকিৎসা প্রকৃতি নিয়ে আগের লেখায় বিস্তারিত বলেছি সেগুলো খেয়াল করে দেখুন। ভয়ের কারণে অনেকেই খুব দ্রুতই অসুস্থ হয়ে যান এবং হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
2. রোগ শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই আলাদা হয়ে যাওয়া খুবই জরুরী। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে সেটা বাসায় হোক বাইরে হোক। মাস্ক ব্যবহারের নূন্যতম শিথিলতা প্রদর্শনের কারণে আমি নিজেও ইনফেকটেড হয়েছি। যদিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি এখন পর্যন্ত তারপর ও আমি মনে করছি মাস্কের শিথিলতার কারণেই ইনফেকশন গুলো ছড়াচ্ছে।
3. স্বল্প ও মৃদু লক্ষণ হলে নির্বিঘ্নে বাসায় চিকিৎসা নিতে পারেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ইনস্ট্রাকশন আগের লেখায় দিয়েছি।
4. বাসায় রোগের ফলোআপ এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পালস অক্সিমিটার। এই যন্ত্রটি অবশ্যই অবশ্যই সকলের বাসায় একটি করে সংগ্রহে রাখতে পারেন।
5. যাদের স্যাচুরেশন 90 এর নিচে নেমে যাবে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করানো দরকার হতে পারে। অবশ্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আরো কিছু লক্ষণ আমি আগের লেখায় লিখেছি, দেখে নিবেন।
6. যারা এখনো আক্রান্ত হননি কিন্তু বাইরে , যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। অবশ্যই তারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। বাসার বাইরে মস্ক ব্যবহার করা কালীন সময়ে কোন ধরনের মাস্ক খোলা যাবে না এবং খাওয়া-দাওয়া সব কিছু পরিহার করতে হবে। বাসার বাইরে কোন খাওয়া-দাওয়া নেই এর মূলনীতি মাথায় রাখতে পারেন।
7. প্রাপ্তবয়স্ক যারা আক্রান্ত হননি তারা প্রতিনিয়ত ট্যাবলেট জিংক( Tab. Pep-20mg প্রতিদিন একটি করে এবং ভিটামিন ডি ( Cap. D- cap 20000 বা Cap. Vital D 20000) সাপ্তাহিক ভাবে খেতে পারেন।
এই মুহূর্তে কোভিড ইনফেকশন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সকলের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। আজকের এই অবস্থা মূলত বিগত তিন থেকে চার মাস আমাদের উশৃংখল আচরণের ফলাফল। কথাগুলো মাথায় রেখে চললে আশা করি নিজে সুস্থ থাকতে পারবেন এবং আরেকজনকে সুস্থ রাখতে পারবেন।
ডাঃ মোঃ আহাদ হোসেন
কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।