04/09/2026
একজন নারী কখনোই পুরুষকে সঠিক পথে আনতে পারে না কিন্তু সমাজের ধারণা একজন নারীই পারে পুরুষকে সঠিক পথে আনতে।। একজন নেশাখোর ছেলেকে মা পারেনা সঠিক পথে আনতে বোন পারেনা সঠিক পথে আনতে। পরিবার যখন পারে না এই সমাজ উঠে পড়ে নতুন জীবন নষ্ট করার জন্য। বুদ্ধি দেয় বিয়ে করানোর জন্য, বিয়ে করলে ছেলে ঘরে থাকবে, স্ত্রী ভালবাসা দিয়ে ছেলেকে ভালো করে তুলবে,, বিয়ে করেও যদি স্ত্রী থাকা স্বত্তেও ভালো না হয়, তখন চিন্তা করে বাচ্চা নিলেই বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে ভালো হয়ে যাবে। বাচ্চা নিলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়, স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া এবং মারপিট দেখে বাচ্চা বড়ো হয়ে মানুষিক বিকাশে অসুবিধা হয় সামাজিক এবং পারিবারিক ভাবে অপদস্ত ও হেয় প্রতিপন্ন হয়৷ সমাজ কিন্তু সেই স্ত্রীর দায়িত্ব নেয় না, বাচ্চারো দায়িত্ব নেয়না কিন্তু কিছু ফালতু সস্তা পরামর্শ দেয়, কেউ কেউ তো পুরুষদের আরও বেশি উৎসাহিত করে স্বামীকেই বুঝাতে থাকে যার বউ ভালো হয়না তার কিছুই ভালো থাকে না। নেশাখোর ব্যক্তির এক স্ত্রী তো ভালো দশ স্ত্রী মিলেও স্বামীকে উল্টো ঠিক করতে পারে না উল্টো সেই সব নারীর জীবন শেষ হয়, এমন কলঙ্কিত উপহাসের বিয়ের জন্য তেমনি সেই নারীর পরিবার ক্ষতবিক্ষত হয় মেয়ের কষ্ট দেখে,, সামাজিক ভাবেও লাঞ্চিত হয় সেই পুরুষের কারণে। তালাকের দেনমোহর পরিশোধ হলেও একটা লাল সিল সারা জীবনভর বয়ে বেড়াতে হয় চোখের পানিতে গোপনে সেই নারীকে,, অথবা স্বামীর ঘরের এক কোনায় রাত জেগে নিজের কষ্ট ভুলতে চেষ্টা করে অন্যের ভিডিও দেখে স্বামী সংসারে কোনো মতো থেকেও না থাকার মতো করে,, অথবা কেউ কেউ শাবানার মতো এক সমুদ্র লোনা পানিতে বালিশ ভিজায় চোখের পানিতে আর তাহাজ্জুদ নামাজে স্বামীর জন্য দোয়া করতে করতে একটা জীবন পার করে কোনো মতে ৷ কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে কিংবা বাহিরে আড্ডা দিয়ে মনের কষ্ট ভুলতে গিয়ে পরকিয়ার পথও বেছে নেয়। তাও কি সংশোধন হয় সেই সব পুরুষেরা?? যারা বলেন স্ত্রীর ভালবাসা পেলে খারাপ পুরুষও ভালো হয়ে যায় তাদের উদ্দেশ্যে এই আয়াত,,
আল্লাহ বলেন, “তাদের হেদায়েত দেওয়ার দায়িত্ব তোমার নয়; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৭২
“নিশ্চয়ই তুমি যাকে ভালোবাস তাকে হেদায়েত দিতে পারবে না; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন। আর কে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে, সে সম্পর্কে তিনিই সর্বাধিক জ্ঞাত।”
— সূরা আল-কাসাস, ২৮:৫৬
“নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন।”–সুরা ফাতির ৩৫:৮
“তাদের হেদায়েত দেওয়ার দায়িত্ব তোমার নয়; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৭২
আমাদের একটাই নিয়ম তা হচ্ছে আল্লাহর নিয়ম পালন করা, কিন্তু আমরা সমাজে বসবাস করি তাই আল্লাহর নিয়ম পালন না করে নিজেরাই সমাজের নিয়মে চলি। সমাজ হচ্ছে, পরিবার স্বজন বন্ধুবান্ধব পরিচিত অপরিচিতজন। এই সমাজের নিয়মে চলার কারণে একটা নারীর জীবন নারীর সাথে থাকা তার পরিবারের জীবন এমন কি একটা সন্তানের ভবিষ্যৎ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। কারণ সমাজের ধারণা বা একজন পুরুষ মানুষের পরিবারের ধারণা বিয়ে করালে বউ এর ভালবাসা পেলে সেই পুরুষটি স্বাভাবিক জীবনে আসবে। আসেনা কিন্তু সেই পরিবার ঐ নারীর জীবন নষ্ট করার জন্য ক্ষতিপূরণ তো দেয় না উল্টো বলে, আগে তো এমন ছিলো তাদের ছেলে বা ভাই, আগে কেমন ছিলো তা কি সেই নারী বিয়ের আগে দেখা সম্ভব? প্রেম করলেও সম্ভব হয়না কারণ সময় লিমিটেড এর প্রেমের জন্য। একজন মানুষকে পারিবার কাছে থেকেও সংশোধন করতে পারেনা যখন দূর হতে প্রেমিকা কি আলাউদ্দিন এর জীন নিয়ে সংশোধন করতে পারে, আচ্ছা বিয়ে করলে কি তবে সেই জিন পালিয়ে যাবে?? পরিবারের সাপোর্ট পায় বিধায় নেশায় আরও বেশি আসক্ত হয়৷ পরিবার যখন দেখে প্রথম তখনই যদি কঠিণ সিদ্ধান্ত অল্প বয়স থেকে নেয় তবে আর ভুল পথে যেতে পারে না কিন্তু পরিবার অপেক্ষা করে অটোমেটিক হেদায়েত এর,, কেউ কেউ তো কবিরাজ বাবার বা মাজারের অলি আউলিয়ার কাছে গিয়ে সাহায্য চায় ইল্লাহ হিসেবে, যা আরও বেশি ভয়ঙ্কর কেননা আল্লাহর ছাড়া কোনো ইল্লাহ নেই৷ কবিরাজ বা আউলিয়ার কাছে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে নিজের ঈমান আমল শেষ করা, শিরকের গুনাহ। যার কোনো ক্ষমা নেই। সুতরাং একজন মানুষের হেদায়েতের জন্য একের পর এক গুনাহের পথে বেছে নেয় সমাজ এবং পরিবার, কেননা একটা মানুষের জীবন নষ্ট করাও কম গুনাহের কাজ নয় কুফরির সমান পাপ, ভালবাসা একজন কলস ভরে দিলো অন্যজনকে,, কিন্তু সে খালি কলসি দিলো, লাভ কি তাতে,,? উভয়ের সত্যিকারের ভালবাসা আর নিজের ইচ্ছে শক্তিতে হাজারো খারাপ মানুষ ভালো হতে পারে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে। ইচ্ছে না থাকলে ইচ্ছার কোন ঔষধ দুনিয়ায় নেই। সুতরাং আল্লাহর যাকে হেদায়েত দিবেন বিয়ে না করলেও সংশোধন হতে পারে, আর যাকে দিবেন না তাকে হাজারটা বিয়ে দিয়ে কাবা ঘরের সামনে গিয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হয়ও যদি তবুও সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে না। নেশা অনেক রকম, মাদকের নেশা, নারীর নেশা, জিদের নেশা, ভিজাইজের বা ইলেক্ট্রনিক নেশা, প্রতারণার নেশা ইত্যাদি। যা নিজের এবং অন্যের ক্ষতি করে অভ্যাসে পরিণত করে রক্তে মাংসে মিশে যায় সেটাই নেশা।