11/02/2026
ললিতা এক্সপ্রেস কি? এপস্টিন ফাইলের সাথে এর সম্পর্ক কিন্তু আলু আর ফুলকপির মতন-
'ললিটা এক্সপ্রেস' শুধুমাত্র একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জেট ছিল না—তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বর্ণনায় এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের ভয়াবহ মানবপাচার নেটওয়ার্কের একটি কেন্দ্রীয় মাধ্যম। ১৯৬৯ সালে নির্মিত বিমানটি পরে এমনভাবে রূপান্তর করা হয়, যাকে কেউ কেউ “উড়ন্ত খেলার মাঠ” বলে আখ্যা দিয়েছেন—নরম আবরণ দেওয়া মেঝে, বিছানা, লাল মখমলের পর্দা। এই বিমানে ভ্রমণ করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপরিবারের সদস্য, বিলিয়নিয়ার, তারকা ব্যক্তিত্ব! আর তাদের সঙ্গে রাখতো অসহায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা। সবচেয়ে ভয়ের বিষয়, বহু বছর ধরে বিমানটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চলাচল করেছে, যেখানে তদারকি ও বিচারিক কর্তৃত্ব কার্যত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
বিভিন্ন সময় প্রকাশিত ফ্লাইট লগ ও সাক্ষ্যে যেসব নাম যাত্রী হিসেবে উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন (ডজনখানেক ভ্রমণের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে দাবি), ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ ডিউক অব ইয়র্ক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, অভিনেতা কেভিন স্পেসি (যিনি আলাদাভাবে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন), মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, সুপারমডেল নাওমি ক্যাম্পবেল, আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটজ, সাবেক মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্স, সাবেক সিনেট নেতা জর্জ মিচেল, কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস পাস্ত্রানা, কৌতুক অভিনেতা ক্রিস টাকার, গিলেইন ম্যাক্সওয়েল—এপস্টাইনের সহযোগী ও ভিকটিম নিয়োগের অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তি, এবং সারা কেলেন, যিনি মেয়েদের নিয়োগে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত। আরও অনেক ক্ষেত্রে শুধু আদ্যক্ষর—H, L, A—বা “মহিলা”, “কিশোরী”, “স্টাফ”, “সহকারী” ইত্যাদি পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এদের মধ্যে অনেকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলে গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে, আবার অনেকে রয়ে গেছে অজ্ঞাত। অর্থাৎ, মেয়েদের প্রকৃত পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখার প্রবণতা স্পষ্ট। অর্থাৎ বিভিন্ন কিশোরী নারীদের বিমানের স্টাফ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হত, বাস্তবে তারা ছিলো ঐ সব অসহায় ভুক্তভোগী নারী।
এখানে সবচেয়ে দৃষ্টি দেওয়ার বিষয় হল বিমানের নাম—“ললিটা”। কেন এই নাম?
মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয়দের কাছ থেকেই “ললিটা এক্সপ্রেস” নামটির প্রচলন শুরু হয় বলে জানা যায়। কারণ বিমানটি নিয়মিত লিটল সেন্ট জেমস (এপস্টাইন) দ্বীপে আসত, সঙ্গে থাকত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা। পরে সংবাদমাধ্যমে নামটি ছড়িয়ে পড়ে। আরও বিস্ময়কর অভিযোগ হলো, এপস্টাইন এই নাম বা এর প্রতীকী অর্থ এড়িয়ে যায়নি, নিজেই মনে ধারণ করত! বরং সচেতনভাবেই “ললিটা” রূপককে গ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়। আর রহস্যটা এখানেই লুকিয়ে আছে।
ললিটা” মূলত রুশ-আমেরিকান লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভের বহুল বিতর্কিত উপন্যাসের নাম। কাহিনিতে মধ্যবয়সী সাহিত্য শিক্ষক হামবার্ট নামের একজন ১২ বছর বয়সী মেয়ে ডলোরেস হেইসের প্রতি [যৌ]ন আসক্ত হয়ে পড়ে, মেয়েটিকে “ললিটা” নামে ডাকে! প্রথমে কৌশলে মেয়েটির মাকে বিয়ে করে তাদের কাছে ভিড়ে, পরে মায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর পর মেয়েটিকে নিয়ে ভ্রমণে বেরিয়ে তাকে যৌনভাবে শোষণ করে, আবার সবার সামনে নিজেকে মেয়েটির অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করে। উপন্যাসটি ভয়াবহ, কারণ গল্পটি বলা হয়েছে অপরাধীর নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে— সে সাহিত্যিক ভাষায় নিজের অপরাধকে যুক্তিসঙ্গত করার চেষ্টা করে, আর পাঠককে বাধ্য করে [শি]*শু যৌ**ন শোষণের নগ্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে।
কিন্তু সাহিত্য আর বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য এখানেই—গল্পের লেখক নাবোকভ এই আচরণকে গৌরব দেননি, বরং হামবার্ট চরিত্রকে এক ছদ্মবেশী দানব হিসেবে দেখিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী বাস্তবে জেফ্রি এপস্টাইন যা করছিল, তা ছিল সেই একই ধরনের শোষণ। কিন্তু সে সংগঠিত, প্রভাবশালী যোগাযোগের ছায়ায়, এবং কথিতভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিদের নেটওয়ার্কের সুরক্ষায় সব অপকর্ম করেছিলো। “ললিটা এক্সপ্রেস” নামটি তাই শুধু একটি ডাকনাম ছিল না; অনেকের কাছে এটি ছিল এক ভয়ংকর ইঙ্গিত, যা ধনবান ও প্রভাবশালী পুরুষদের হাতে পদ্ধতিগতভাবে অ[প্রা]প্তবয়**স্ক মেয়েদের যৌ**ন শোষণের প্রতীক।