25/06/2026
ধরুন, কারো জ্বর হওয়ার পর সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে। এরপরও তাকে নিজের যত্ন নিতে হয়, যেন ভবিষ্যতে আবার জ্বর বা অসুস্থতা ফিরে না আসে।
শেফাহ্ (شفاء) হলো আরোগ্য বা নিরাময়। আর রাহমাহ্ (رحمة) হলো এমন দয়া, যা মানুষকে সঠিক পথে টিকিয়ে রাখে, পরিণতিকে সুন্দর করে। অর্থাৎ healing-এর পর nurturing!
আল্লাহ রব্বুল আলামীন কুরআনকে শুধু শেফাহ্ বলেননি, শুধু রাহমাহ্ও বলেননি বরং একসাথে শেফাহ্ ও রাহমাহ্ বলেছেন।( ১৭:৮২)
যখন কোনো মানুষ কুরআনের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক বা আত্মিক, এমনকি জীবনের নানা সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শিফা খুঁজে,তখন কুরআন তাকে শুধু আরোগ্যই দেয় না বরং এমন রাহমাহ্ দিয়ে ঘিরে রাখে, যা তাকে পুনরায় সেই পুরনো ক্ষতে ফিরে যেতে বাধা দেয়।
এই আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে গিয়ে আমি দুটি লেসন পেয়েছি!
১) জীবনে যত দুঃখ, কষ্ট বা সমস্যা আসুক না কেন, তার প্রকৃত শেফাহ্ কুরআনের মধ্যেই নিহিত। কখনো কুরআন সরাসরি আরোগ্য দেয়, আবার কখনো সঠিক পথ দেখিয়ে মুক্তির দরজা খুলে দেয়।
২) কুরআন শুধু ক্ষত সারায় না। বরং মানুষকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যাতে সেই ক্ষত আবার ফিরে আসার সম্ভাবনাও কমে যায়। আর এজন্য কুরআনকে নিয়মিত সময় দেওয়ার বিকল্প নেই।
জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে, জীবনের ক্ষত সারাতে আমরা কত কিছুই না খুঁজি! অথচ আমাদের সবচেয়ে বড় শেফাহ্ ও রাহমাহ্ শেল্ফেই পড়ে থাকে,ধুলিমলিন হয়েই....।