07/11/2022
কেউ যদি বলে, সে আজকে কাপড় ধুয়েছে কিংবা আজকে ঘর মুছেছে, সেটা নিয়ে হাসবেন না, তাকে খোঁচা দেবেন না। বলবেন না, এই টুকু করেই এই অবস্থা !
আপনার কাছে এই কাপড় ধোয়া, ঘর মোছাটা হয়ত সামান্য কাজ, কিন্তু যে জীবনে কখনো এই কাজগুলা করে নাই, তার কাছে আজকের ঐ ঘর মোছাটা, হেঁটে ২৫ তলার ওঠার মত কঠিন বিষয়। আপনার কাছে যা খুব ইজি ব্যাপার, সেটা অন্য কারো কাছে পাহাড় সমান কঠিন বিষয় হতে পারে। আর এর কারণ হল, ঐ কাজ করে সে অভ্যস্ত না। তার এই ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা আগে হয়নি।
এই উদাহরণ কেন দিলাম বলছি,
মানুষের জীবনের “কষ্টগুলো ” ছোট বড় বিচার করবেন না। কারো কারো কাছে “ছোট একটা কষ্ট” আসলে অনেক অনেক যন্ত্রণার হতে পারে, যদি সে ঐ কষ্টে অভ্যস্ত না হয়। যার জীবনে বহু কষ্ট, তার ধারণ ক্ষমতা আর হুট করে কেউ অল্প একটু কষ্ট পেয়েছে, তার ধারণ ক্ষমতা এক না।
খেয়াল করে দেখবেন, কারো আপন জন মারা গেছে কিন্তু সে এক সপ্তাহ পরেই স্বাভাবিক হয়ে গেছে, অথচ কারো দুই সপ্তাহের সম্পর্ক, ব্রেকআপ হয়েছে বলে মানতে পারছে না, প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে।
আপনার কাছে হয়ত মনে হবে সে ন্যাকামি করছে কিন্তু দুই জনার কষ্টের ধারণ ক্ষমতা আলাদা। কষ্টের ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় ব্রেকআপ বিষয়টি সে মানতে পারছে না আর প্রিয় জন হারানো মানুষটির কষ্টের ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি বলে, সে সামলে নিয়েছে।
কষ্টের কারণ ছোট বড় হলেও, সেটা মানুষ ভেদে ইফেক্ট করে। তাই কার যন্ত্রণা কে নিজের কিংবা অন্য কারো যন্ত্রণার সাথে তুলনা করে তাকে হেয় করবেন না। একটা আলপিনের খোঁচা, কার শরীরে তলোয়ারের কোপের চেয়েও বেশি ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে, একটা ছোট কথাও কারো কাছে "মৃত্যুর সমান যন্ত্রণা" মনে হতে পারে।