09/10/2025
নিজের আত্মজীবন, পাঠ-১
সবাই দেখছেন আমি খুব ভালো আছি, সুখে আছি তাইনা? কিন্তু আমার জীবনের স্টোরি শুনলে সবার চোখে পানি আসবেই আসবে আমি শিউর। তাহলে শুনুন,,,আমার যখন চার বছর তখন থেকেই আমার দুঃখের সুচনা শুরু সেদিন ছিল শুক্রবার ১৯৯৬ বাইশই নভেম্বর সকাল দশটায় আমার মা আমাদের ছেড়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। দুনিয়া সম্পর্কে কিছুই বুজতামনা আমার দাদা দাদি বেচেঁ ছিলেন আমাদের কিছু দিন বড় বোন আর দাদি মিলেই লালন পালন করতেন। আমার এক বছরের একটা বোন ছিল। বড় ভাই মাএ এস এস সি দিয়েছিল। আমরা সাবাই মোটামুটি ছোট ছিলাম। দাদা দাদি বয়সক মানুষ ছিলেন বড় বোনের সংসার ছিল তাই নিরুপায় হয়ে আমার মা মারা যাওয়ার চল্লিশ দিন না যেতেই আমার বাবার বিয়ে করতে হয়েছিল এক প্রকার নিরুপায় হয়ে। ভেবে ছিল আমরা ভালো থাকবো। আমার বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছিল, এজিবি একাউন্টস অফিসার। তাই চাকরির সুবাদে বাবাকে বিভিন্ন জায়গার পোস্টিং হতে হতো। বাবা বিয়ে করে আমাদের নতুন মাকে বাড়িতে না এনে সরকারি কোয়াটারে রাখেন কচুয়াতে। বিয়ের কিছুদিন পরে আমাদেরকেও আমার বাবা কচুয়ায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তো আমরা মহা খুশি নতুন মাকে পেয়ে কিন্তু আমাদের এই খুশি বেশিদিন স্থায়ি হয়নি কিছু দিন যেতে না যেতেই নতুন মা তার আসল রুপ দেখাতে শুরু করে। চার বছর বয়স থেকেই আমরা সংসারের যবতীয় সব কাজ করতে হত। আমার বাবা সবসময় আমাদের বাসায় কাজের মানুষ রাখতেন তারপরে আমাদের সব কাজ করতে হত কারন কাজের মানুষ নতুন মায়ের সাথে বসে বসে গল্প করতো। কচুয়ায় আমরা বেশিদিন ছিলামনা আমার সঠিক মনে পড়ছে না কয় মাস না যানি একবছর ছিলাম।তার পর আমরা বাড়িতে চলে আসি। কারন আমার বাবার বিশাল বাড়ি পুকুর অনেক জায়গা জমি ছিলেন সেগুলে ফেলে বাহিরে বেশিদিন থাকা সম্ভব ছিলনা। আমার বাবা নতুন মা আর মাদের আট ভাই বোনদের বাড়িতে রেখে চাকরির শুবাদে আবার অন্য জায়গায় পোস্টিং হয়ে চলে যান। বাবা বাড়িতে না থাকার কারনে আমাদের নতুন মা আমাদের ইচ্ছে মত ব্যবহার করতেন সকল রকম কামকাজ করাতেন। আমার মনে আছে আমরা কোনদিন সকালে পড়তে বসতে পারতামনা কারন সকাল হলেই থালাবাসন দোয়া কুটাবাছা ঘর গোছানো বাড়ি ঝাড়ু দেওয়া সব করতে করতে আমাদর স্কুলের সময় হয়ে যেত। তাড়া হুড়ু করে ছোট এক কাপ রং চা আর জাস্ট এক পিচ পাউরুটি খেয়ে স্কুলে চলে যেতাম আর সেই আসতাম বিকেল সাড়ে চারটায়। মাজখানে দুপুর দুইটায় টিপিন টাইম দিত সবাই টিপিন বাসা থেকে নিয়ে আসতো বা টাকা নিয়ে যেত। আমাদের কপালে কোন খাবারই জুটত না কারন আমাদর মা ছিলনা যে আমাদের টিপিন অথবা টাকা দিত সবাই টিপিন করত আর আমরা পেটে খিদা নিয়ে এইদিক সেই দিক হাটা হাটি করতাম বা খেলতাম। বিকেলে বাড়িতে ফিরে বেশির ভাগ সময়ই শুধু ডাল ভাতই জুটতো আমাদের কপালে মাঝে মধ্যে ভাত ছাড়া কিছুই থাকতোনা পাতিলে আমাদের জন্য। তাই বেশির ভাগ সময়ই স্কুলের ড্রেস পালটিয়ে নেমে পড়তাম রাস্তার পাশে খেতে শাক লতাপাতা তোলার জন্য। শাক লতাপাতা তুলে এনে কেটে বেছে ধুয়ে রান্না করে তার পরে খেতে বসতাম। কি যে অমৃত লাগতো সেই পেয়াজ রসুন অথবা তেল ছাড়া সেই শাক ভাত খেতে। কারন নতুন মা তেল পেয়াজ রসুন সব আলমারিতে তালা মেরে রাকতেন। এভাবেই কাটতে থাকে আমাদের জীবন। আমার মনে আছে আমাদেন পরিক্ষার দুদিন আগে আমাদের নতুন মা পুরা সংসার আমাদর উপর ফেলে রেখে সবসময় বেড়াতে যেতেন যাতে আমাদরে পরিক্ষার পড়া আমরা না পড়তে পারি। বয়সক দাদা দাদি সংসার সব সামলিয়ে পরিক্ষা দিতে যেতাম আমরা। আমাদে সবসময় অনেক হাস মুরগি পুশতো বাড়িতে সাথে দুধ দেওয়ার একটা গরুও দেখতাম কিন্তু আমাদের কপালে কখনোই একটা ডিম জুটতোনা সব বিক্রি করতো আর নতুন মা খেতেন।সবসময় চোখের সামনে ডিম দেখে মাজে মধ্যে খাওয়ার অনেক ইচ্ছে হত তখন নতুন মার কাছে ডিম খেতে চাইতাম বিশ্বাশ করবেন না এক সাপ্তাহ পনেরোদিন ধরে একটা ডিম চাইতে চাইতে তার পরে আমি আর আমার যমজ বোনকে একটা ডিম খেতে দিত দুইজনে একটা ডিম ভাগ করে খুব মজা করে খেতাম। চলবে...