21/09/2026
অনেক দিন ধরে শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। কোনো কাজে মনোযোগ নেই, অথচ আমি এমন একজন মানুষ—যে কাজ করতে, পরিশ্রম করতে ভালোবাসি। নিজেকেই বুঝতে পারছিলাম না, কেন হঠাৎ সবকিছু থেকে বিরতি নিতে ইচ্ছে করছে। মনে হচ্ছে, হয়তো মানুষের নজর, হিংসা কিংবা কোনো হাসাদ আমার ওপর পড়েছে।
আল্লাহই ভালো জানেন। 🤍
🌿 ইসলামে হাসাদ কী?
হাসাদ হলো—অন্য কারও কাছে কোনো নিয়ামত, সুখ, সম্পদ, সৌন্দর্য, জ্ঞান, সন্তান, ভালো সম্পর্ক বা সাফল্য দেখে মনে এমন ইচ্ছা হওয়া যে তার সেই নিয়ামতটি চলে যাক, সে যেন আর সেটা না পায়।
শুধু কাউকে দেখে “আমারও যদি এমন থাকত!”—এটা সবসময় হাসাদ নয়। কারও ভালো দেখে নিজের জন্যও ভালো কিছু চাওয়াকে ইসলামে গিবতা (غِبطة) বলা হয়, যা হাসাদের মতো নয়।
কেন হাসাদ হয়?
মানুষের ভেতরে হাসাদ তৈরি হতে পারে—
* নিজের জীবনের সঙ্গে অন্যের জীবন বারবার তুলনা করলে
* অহংকার বা নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করলে
* অন্যের সুখ সহ্য করতে না পারলে
* নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি থেকে
* দুনিয়াবি সম্পদ, সৌন্দর্য, মর্যাদা বা সফলতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ থেকে
* মনে হলে, “ও কেন পেল, আমি কেন পেলাম না?”
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“তারা কি মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তার জন্য?”
— সূরা আন-নিসা ৪:৫৪
অর্থাৎ অন্যের নিয়ামত দেখে অসন্তুষ্ট হওয়া মূলত আল্লাহর বণ্টন নিয়ে অন্তরের অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
হাসাদের ক্ষতি কী?
১. প্রথম ক্ষতিটা হাসাদকারীর নিজের।
অন্যের সুখে তার নিজের মন অশান্ত হয়ে যায়। সে নিজে কিছু না হারিয়েও কষ্ট পেতে থাকে।
২. ভালোবাসা ও সম্পর্ক নষ্ট হয়।
বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী—যার প্রতি হাসাদ জন্মায়, তার প্রতি সন্দেহ, বিরক্তি ও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
৩. গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
হাসাদ যদি কাউকে অন্যায়ভাবে অপমান, ক্ষতি, প্রতারণা বা বদনাম করার দিকে নিয়ে যায়, তখন সেটা আরও গুরুতর গুনাহে পরিণত হয়।
৪. নিজের নিয়ামতের কদর কমে যায়।
মানুষ তখন নিজের কাছে কী আছে সেটা না দেখে অন্যের কী আছে সেটাই দেখতে থাকে।
৫. আখিরাতের ক্ষতি হতে পারে।
হাসাদ অন্তরের একটি নিন্দনীয় রোগ। রাসুল ﷺ বলেছেন, পরস্পর হাসাদ না করতে এবং পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ না রাখতে। Sahih Muslim
🛡️ হাসাদ থেকে নিজেকে কীভাবে বাঁচাবেন?
অন্যের ভালো কিছু দেখলে বলুন:
“মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তাকে আরও বরকত দিন এবং আমাকেও তাঁর অনুগ্রহ থেকে উত্তম কিছু দান করুন।”
নিজের জন্যও আল্লাহর কাছে চাইবেন, কিন্তু অন্যের নিয়ামত চলে যাওয়ার জন্য চাইবেন না।
আর যদি মনে হয় কেউ আপনার প্রতি হাসাদ করছে, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। সকাল-সন্ধ্যার যিকির, সূরা ফালাক ও সূরা নাস, আয়াতুল কুরসি এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল—এসবের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে পারেন।
বিশেষ করে সূরা ফালাকের শেষ আয়াতে বলা হয়েছে:
“এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”
— সূরা আল-ফালাক ১১৩:৫
একটা বিষয় মনে রাখা সুন্দর—কারও হাসাদ আপনার জীবনের কোনো নিয়ামত কেড়ে নিতে পারে—এমন ভয় নিয়ে জীবনযাপন করার দরকার নেই। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অধীন। আপনার কাজ হলো নিজের আমল ঠিক রাখা, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং অন্যের প্রতি নিজের অন্তরকে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করা।
Afroz Gardening
fans