03/02/2026
কল্পনা করেন আপনার আদরের ছোট্ট মেয়েটির কথা। বয়স ১২ কিংবা ১৩। ফুলের মতো পবিত্র, চোখে একরাশ স্বপ্ন।
একদিন তাকে বলা হলো—সে একটি বিশেষ বৃত্তি পেয়েছে। বলা হলো, সে বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী, ধনী এবং প্রভাবশালী মনীষীদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাবে।
সরল বিশ্বাসে মেয়েটি প্লেনে উঠল।
কিন্তু সে জানত না—চকচকে ওই প্লেনটির নাম ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ (Lo**ta Express)।
সে জানত না, এই প্লেনটি তাকে স্বপ্নের দেশে নয়, বরং দাজ্জালিক সভ্যতার এক গোপন জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছে।
যার গন্তব্য—প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’।
দ্বীপটি দেখতে দুনিয়াবী জান্নাতের মতো। চারদিকে নীল সমুদ্র, মাঝখানে রাজকীয় প্রাসাদ।
কিন্তু প্রাসাদের ভেতরে ঢুকতেই মেয়েটির স্বপ্ন কাঁচের মতো চুরমার হয়ে গেল।
সে দেখল—টিভির পর্দায় যাদের সে হিরো হিসেবে দেখেছে,
নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী, বিশ্বনেতা, হলিউড সুপারস্টার—
সবাই সেখানে বসে আছে।
কিন্তু তাদের চোখে মমতা নেই।
আছে এক আদিম, পৈশাচিক ক্ষুধা।
মেয়েটি চিৎকার করে বলেছিল,
“আমি মায়ের কাছে যাব!”
কিন্তু তার কান্না চাপা পড়ে গিয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের গর্জনে
আর শ্যাম্পেনের বোতল খোলার শব্দে।
তাকে বলা হতো—
“চুপ থাকো! এরা এই পৃথিবীর ঈশ্বর।
এদের সেবা করাই তোমার কাজ।”
দিনের পর দিন, এই নিষ্পাপ শিশুদের ছিঁড়ে খেয়েছে তারা—
যাদের পোস্টার আপনারা ঘরের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখেন।
আপনারা হয়তো ভাবছেন,
এত বড় বড় রুই-কাতলারা জড়িত থাকলে—এই খবর বের হলো কীভাবে?
জেফ্রি এপস্টেইন ছিল অত্যন্ত চতুর।
সে তার ক্লায়েন্টদের নাম ও কন্টাক্ট ডিটেইলস লিখে রাখত একটি ছোট কালো ডায়েরিতে—
যা পরিচিত ছিল ‘দ্য ব্ল্যাকবুক’ (The Black Book) নামে।
এটাই ছিল তার ইনস্যুরেন্স পলিসি।
সে ভাবত—এই রাঘব-বোয়ালদের নাম তার হাতে থাকায় কেউ তাকে ছুঁতে পারবে না।
কিন্তু পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
ভার্জিনিয়া জুফরে (Virginia Giuffre) নামের এক সাহসী নারী—
যে ছোটবেলায় এই পিশাচদের শিকারে পরিণত হয়েছিল—
সে এপস্টেইনের সহযোগী ও রক্ষিতা ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল-এর বিরুদ্ধে মামলা করে।
এই মামলার সূত্র ধরেই
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে
হাজার হাজার পৃষ্ঠার সিলড ডকুমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ববাসী অবাক হয়ে দেখল—
যাদের এতদিন ভদ্রলোক ভেবে এসেছে,
আদালতের নথিতে তাদের নাম জ্বলজ্বল করছে জঘন্য সব অপরাধের সাথে।
কারা কারা আছে সেই তালিকায়?
তালিকা দেখলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে।
১. বিল ক্লিনটন
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা।
তিনি এই দ্বীপে এবং এপস্টেইনের প্লেনে বহুবার গিয়েছেন।
নথিতে তাকে নিয়ে রয়েছে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২. প্রিন্স এন্ড্রু
ব্রিটিশ রাজপরিবারের অহংকার।
যার আভিজাত্যের গল্প শুনে আপনারা বড় হয়েছেন—
সেও ছিল এই দ্বীপের নিয়মিত খদ্দের।
৩. স্টিফেন হকিং
যার বিজ্ঞান আর কসমোলজি নিয়ে আপনারা মুগ্ধ।
নথিতে তার নামও উঠে এসেছে মাইনরদের সাথে সম্পর্কিত এক প্রসঙ্গে।
৪. বিল গেটস
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও ফিলানথ্রোপিস্ট।
আফ্রিকায় শিশুদের টিকা দেয়
(যদিও মহামারী ছড়িয়ে দেওয়ার টিকা, ভাইরাস টেস্ট করার টিকা)—
তারও ঘনিষ্ঠতা ছিল এই শিশু পাচারকারীর সাথে।
৫. ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্ব রাজনীতির আরেক মোড়ল।
৬. হলিউড ও গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড
কেভিন স্পেসি থেকে শুরু করে নামকরা মডেল ও অভিনেতারা—
যারা আপনাদের আইডল—
তাদের অনেকেই ছিলেন এই চক্রের অংশ।
জেফ্রি এপস্টেইন কি কেবল একজন বিকৃতকামী ধনী ছিল?
না।
সে ছিল মোসাদ (Mossad) এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার
একটি হানি ট্র্যাপ প্রজেক্টের এজেন্ট।
তার কাজ ছিল—
বিশ্বনেতাদের এই দ্বীপে এনে
তাদের নোংরা কাজের ভিডিও রেকর্ড করা,
যাকে গোয়েন্দা ভাষায় বলা হয় Kompromat।
পরবর্তীতে এই ভিডিও দিয়েই
তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো।
তাই আপনার প্রিয় নেতারা যখন টিভিতে দাঁড়িয়ে
ফিলিস্তিনের বিপক্ষে
বা অদ্ভুত সব সেকুলার এজেন্ডার পক্ষে কথা বলে—
তখন তাদের গলার দড়িটা আসলে থাকে জায়নবাদীদের হাতে।
কারণ তারা জানে—
মুখ খুললেই সেই গোপন ভিডিও ফাঁস হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক
যদি শরিয়া নিয়ে কথা বলে,
নারীদের ঘরমুখী করার কথা বলে,
অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে কথা বলে—
তখন এই দেশের সুশীলরা, নারীবাদীরা
চিৎকার করে আকাশ-বাতাস ভারী করে ফেলে—
“মোল্লারা সব শিশুকামী!”
কিন্তু আজ,
যখন শত শত প্রমাণ সামনে আসছে যে
তাদের স্বপ্নের আমেরিকা,
তাদের সভ্যতার ধারক-বাহকেরা
একেকজন জঘন্য লেভেলের পেডোফাইল—
তখন তারা মুখে কুলুপ এঁটেছে।
কেন?
কারণ এই পিশাচরা টাই পরে,
ইংরেজিতে কথা বলে,
দামী পারফিউম মাখে।
তাদের কাছে সাদা চামড়ার অপরাধ কোনো অপরাধ না—
ওটা লাইফস্টাইল।
যত্তসব ভণ্ড হিপোক্রিটের দল—
সবগুলারে আমেরিকান হাই হিল দিয়ে পিডানো দরকার।
এই দাজ্জালিক বা NWO (New World Order)-এর মূলমন্ত্রই হলো—
পারিবারিক প্রথা ধ্বংস করা
এবং বিকৃত যৌনতাকে নরমাল করা।
এপস্টেইন চক্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না।
এটা সেকুলার পুঁজিবাদী ব্যবস্থার
পচে যাওয়া কলিজার বাস্তব ছবি।
আপনার রব কি বলেননি—
“ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর”?
ইসলাম ছাড়া, শরিয়াহ ছাড়া
এই পিশাচদের থামানোর কোনো আইন দুনিয়াতে নেই।
কারণ আইন যারা বানায়—
তারাই আজ এই অপরাধের হোতা।
কান্না করেন।
শুধু ওই নির্যাতিত শিশুদের জন্য না—
নিজের ঈমানের অবস্থার জন্য কান্না করেন।
আপনি কাদের ফলো করছেন?
হাশরের মাঠে
এই পেডোফাইলরা যখন জাহান্নামে যাবে—
আপনাকে যেন তাদের ফ্যান বা সাপোর্টার হিসেবে
তাদের পেছনে লাইনে দাঁড়াতে না হয়—
সেই মোনাজাত করেন।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
— Sawtul Zilzal