28/12/2022
উত্তরবঙ্গের মাটির পুতুল। চাকা লাগানো ঘোড়া
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
এবার গন্তব্য উত্তরবঙ্গ। খোদ শিলিগুড়িতে চাকা লাগানো মাটির ঘোড়া তৈরি হয় আশিঘর অঞ্চল থেকে আধ কিলোমিটার দূরে যে পালপাড়া রয়েছে সেখানে। সেই পুতুলের খোঁজে এলাম উত্তরবঙ্গ।
তবে ইদানিং আগের মতো প্রতি ঘরে পুতুল তৈরি হয় না। কারন পুতুল তৈরি করে সংসার প্রতিপালন করা দায়। তাই মাত্র একঘর পুতুল শিল্পী রয়েছেন যিনি নিজের হাতে এই ঘোড়া তৈরি করেন। সেই প্রবীন শিল্পী আন্না পাল জানান, তিনি পুতুল তৈরি করলেও নিজস্ব ভাটি না থাকার জন্য তাঁর তৈরি পুতুল ফায়ার করতে পারেন না। অন্য শিল্পীদের বিক্রি করে দিতে হয় কমদামে। যাদের কাছে ফায়ার করার ব্যবস্থা রয়েছে। আর কাঁচা মাটির পুতুল ফায়ার বা সোজা ভাষায় না পোড়ালে লাল রঙ হয় না।
আন্না পালের বাড়ি গেলাম। তাঁর কাছে ঘোড়া তৈরি থাকলেও ফায়ার করা বা পোড়ানো ছিল না। তাই অগত্যা তাঁর থেকে যে সব শিল্পীরা ঘোড়া কিনে নিয়ে যায় তাদের কাছ থেকেই পোড়া মাটির কাজ সংগ্রহ করলাম। আর আন্না পালের থেকে কাঁচা মাটির একটা টেপা পুতুল নিলাম।
এই অঞ্চলের অধিকাংশ শিল্পীরাই কিন্তু আর্টিশান কার্ড সম্পর্কে দেখলাম ওয়াকিবহাল নন। সরকার শিল্পীদের এই কার্ড দেয়। এই কার্ড না থাকায় সরকারী নথিতেও শিল্পী হিসাবে তাদের নাম না থাকারই কথা। যার ফলে তাঁরা কী কাজ করেন, কী ধারা। সবটাই অজানা থাকে। ফলে আজ যদি এই পুতুল শিল্পী কমতে কমতে মাত্র একজনে এসে ঠেকেন তাহলে যে দপ্তরের ওপর দায়িত্ব থাকে এই শিল্পকে বাঁচানোর তাদের অজানাই থেকে যায়।
যাইহোক আমার এই প্রোফাইলে অনেক দায়িত্বশীল পুতুল প্রেমী রয়েছেন। অনেক সংগ্রাহক রয়েছেন। অনেক গবেষক বন্ধু রয়েছেন। আমি এই বিষয়টি তাদের সামনে তুলে ধরলাম। আমি একটি ভিডিও তৈরি করেছি আন্না পালের মাটির ঘোড়া নিয়ে। আপনারা যদি দেখেন আর একটু শেয়ার করে আরও সমভাবাপন্ন মানুষদের কাছে পৌঁছে দেন আশাকরি আরকিছু না পারি শিল্পীর কানে এইটুকু পৌঁছবেই তাঁর কাজ ব্যর্থ হয়নি। এই লেখার নীচে আমি আন্না পালের পুতুল নিয়ে তৈরি করা আমাদের ভিডিও শেয়ার করলাম।
https://youtu.be/Bs_VLK1XPGc
প্রসূন বিশ্বাস
২৮.১২.২২